জেলেদের সাগরে যেতে মানা, মাওয়ায় ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছে

মৌসুমী নি¤œচাপে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত
বিশেষ প্রতিবেদক ॥ মৌসুমী নি¤œ চাপের প্রভাবে সমগ্র দক্ষিনাঞ্চল সহ উপকূল জুড়ে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দক্ষিনাঞ্চল জুড়ে মাঝারী থেকে ভারী বর্ষন অব্যাহত রয়েছে। সাগর মাঝারী মাত্রায় উত্তাল এবং কিছুটা ফুঁসতেও শুরু করেছে। পদ্মায় প্রবল ¯্রােতের কারনে মাওয়া-কাওরাকান্দি রুটে রো-রো ফেরি ব্যতিত অন্যান্য সকল ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ভাটি মেঘনায় ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের সবকটি ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে বরিশাল, ভোলা ও পিরোজপুরের বেকুঠিয়া ফেরি সেক্টরে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ৪-৬ ফুট উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়ছে। পর্যটন কেন্দ্রটির অনেকটা দূর থেকেও সাগরের গর্জন শোনা যাচ্ছে। বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলা সহ দক্ষিনাঞ্চলের সবকটি নদী বন্দরকে দুই নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ। ফলে অনধিক ৬৫ ফুট দৈর্ঘের সব যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করা হয়েছে। দূর্যোগের কারনে মেঘনা, তেতুলিয়া, বলেশ্বর ও বিশখালী সহ সাগর মোহনার সবকটি নদ-নদী ও উপকূলে মাছ ধরাও বন্ধ। অপরদিকে বরিশালের পায়রা সহ দেশের সবকটি সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পূর্ণিমার ভড়া কেটালকে সামনে রেখে এ দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কিছুটা প্রলম্বিত হতে পারে। ফলে দক্ষিনাঞ্চলের মূল খাদ্য ফসল-আমন ও এর বীজতলা আরো এক দফা ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে এ নি¤œচাপের প্রভাবে গতকাল সন্ধা ৬টা থেকে পরবর্তি ২৪ ঘন্টায় বরিশাল ও খুলনা বিভাগ সহ সমগ্র উপকূল অঞ্চলে ভারী বর্ষনের সতর্কতাও জারী করেছে আবহাওয়া বিভাগ। এমনকি এসময়ে কোন কোন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমুহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতেও বলা হয়েছে। তবে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে গত দুদিন ধরেই উপকূলের আলীপুর, মহীপুর, পাথরঘাটা, হরিনঘাটা, পাড়ের হাট, ঢাল চর, কুকরীÑমুকরী ও চর মোন্তাজ মৎস্য বন্দরগুলো থেকে সাগর মোহনা ও উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরতে যাচ্ছেনা জেলেরা।
আবহাওয়া বিভাগ থেকে গতকাল দুপুরের পরে এক বিশেষ বুলেটিনে ‘উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি দ্রুত ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় মৌসুমী নি¤œচাপে পরিণত হয়েছে বলে জানানো হয়। এটি গতকাল দুপুর ১২টায় ২২.০ক্ক উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০.৮ক্ক পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছিল। যার অবস্থান ছিল পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৫৫ কিলোমিটার পূর্বে। আবহাওয়া বিভাগের মতে এটি আরও ঘণীভূত হতে পারে। নি¤œচাপ চাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ৪০ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।
গতকাল দিনভরই বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিনাঞ্চলে মাঝারী থেকে ভারী বর্ষন অব্যাহত ছিল। গতকাল সকালের পূর্ববর্তি ২৪ ঘন্টায় পটুয়াখালীর কলাপাড়াতে ১১৭মিলিমিটার ও পটুয়াখালীতে প্রায় ৬৫মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বরিশালে গত দুদিন ধরে মাঝারী বর্ষন অব্যাহত থাকার পরে গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আরো প্রায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। রাত ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সমগ্র দক্ষিনাঞ্চল সহ উপকূলভাগ জুড়েই মাঝারী বর্ষন অব্যাহত ছিল।
বরিশাল সহ দক্ষিনাঞ্চলের সবগুলো নদী বন্দরে ২ নম্বর সংকেতের আওতায় আনায় অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহন করা হয়েছে। লঞ্চগুলোতে গতকাল তুলনা মূলক যাত্রী সংখ্যা ছিলো কম। ঈদ পরবর্তি কর্মস্থলমুখি যাত্রীতে ঠাসা দক্ষিনাঞ্চলের সবগুলো নদী বন্দর থেকে গত কয়েকদিন ধরে ধারন ক্ষমতার কয়েকগুন বেশী যাত্রী নিয়ে বেসরকারী নৌযানগুলো ঢাকা ও চাঁদপুর অভিমুখে ছেড়ে গেলেও শনিবার থেকে ভীড় কিছুটা হ্রাস পায়। গতকাল দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে ভীড় ছিল লক্ষনীয় ভাবে কম। পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএ গতকাল থেকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করায় প্রতিটি নৌযানকে অতিরিক্ত যাত্রী বহনে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। বরিশাল থেকে ৫টি বেসরকারী ও একটি সরকারী নৌযান গতরাতে ঢাকার উদ্যেশ্যে ছেড়ে যায়। তবে এসব নৌযানে যাত্রী অন্য দিনের তুলনায় যথেষ্ঠ কম ছিল।
তবে এর পরেও ভয়াল ভাটি মেঘনা পাড়ি দিয়ে সরকারী সী-ট্রাক ‘খিজির-৮’ গতকালও বরিশাল থেকে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাটে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পাড়ী জমায়। নৌযান সংকটের কারনে এ রুটের যাত্রীদের আর কোন বিকল্পও ছিলনা।