জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ শুরু হচ্ছে তিনদিন ব্যাপী কবি জীবনানন্দ দাস উৎসব

সিদ্দিকুর রহমান॥ “আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে, এই বাংলায় হয়তো মানুষ নয়, হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে”। জীবনের আনন্দ নিয়ে জীবনানন্দ দাশ বিমূর্ত রূপে বার বার ফিরে আসেন এই প্রকৃতির কোলে। শঙ্খচিল আর শালিকের বেশে। ১৮৯৯ সালের আজকের এই দিনে কবি’র বরিশাল শহরে জন্ম। তিনি একজন শক্তিমান প্রগতিশীল আধুনিক কবি। তার কবি কীর্তি স্বাতন্ত্রে উজ্জল। একবিংশ শতাব্দীতে মানবতার বিপন্ন ছবি তার কবিতায় প্রতিফলিত। বর্ননার সুস্পষ্টতা, বাচনভঙ্গি ও শ্রেষ্ঠত্বে তিনি স্বতন্ত্র ও বিশিষ্ট কবি। তার প্রথম দিকের কবিতা বিষাদে আপ্লুত। তার ইতিহাস চেতনা সুগভীর। অতীত ও বর্তমানকে তিনি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের সূত্রে গেথেঁ কবিতাকে তিনি গদ্যের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পেরেছিলেন। তার এই প্রভাব পরবর্তী কালের কবিদের উপর পড়েছিল। রবীন্দ্র নাথ যথার্থই বলেছিলেন তার কাব্য চিত্ররূপময়। বাংলাভাষার শুদ্ধতম কবি, বাংলা কবিতার চিরঞ্জীব রূপকার, রূপসি বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ১১৬ তম জন্ম বার্ষিকী উদযাপনে বরিশাল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১ম বারের মত জীবনানন্দ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবটি পালন করা হবে। জীবনানন্দ উৎসবটি আজ শুরু হয়ে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। উৎসবটি উদযাপনের জন্য নগরীর অশ্বিনী কুমার হল এবং জীবনানন্দের পৈত্রিক নিবাস বগুড়া রোডের সর্বানন্দ ভবনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। জীবনানন্দের জন্মবার্ষিকী পালনে ভেন্যু দুটি আলোকসজ্জা ও সাজ সজ্জায় পরিপূর্ণ। আর এই উৎসবকে ঘিরে জীবনানন্দ ভক্তদের মধ্যে চলছে সাজ সাজ রব। এছাড়াও উৎসবে কবি জীবনানন্দের কবিতা আবৃত্তি, কবিতা ভিত্তিক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। জীবনানন্দ উৎসব চলাকালে প্রতিদিনের অনুষ্ঠানে জীবনানন্দ চর্চাকারী দেশের কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
এছাড়াও তিন দিন ব্যাপী এই উৎসবে লেখকের বই, হস্তশিল্প, কারুশিল্পের বিভিন্ন স্টল থাকবে বলে জেলা প্রশাসন থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ডিবেটিং এ্যসোসিয়েশনের উদ্যোগে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে এই উৎসবকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তি ও লেখকরা তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেন জীবনানন্দ উৎসবের ফলে বরিশাল অঞ্চলের সৃজনশীল কবি, সাহিত্যিক, নবীন কবিদের মিলন মেলায় পরিণত হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়ে তারা আরও বলেন বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশকে আমাদের সব সময় মনে রাখা উচিত। তার লেখনিকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিকাশ ঘটানো আমাদের একান্ত কর্তব্য।
অপরদিকে জীবনানন্দ দাশ উৎসব উপলক্ষে জীবনানন্দ চর্চাকারী ১০ জন সৃজনশীল কবি, সাহিত্যিককে কবি জীবনানন্দ দাস সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হবে। তিন দিন ব্যাপী উৎসবের ১ম দিনে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টায় উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সন্ধ্যা ৬টায় কবির কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অশ্বিনী কুমার টাউন হলে অনুষ্ঠিহ হবে। ১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় কবির কবিতা ভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কবিদের আড্ডা কবির বাসভবন সর্বানন্দ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে বিকাল সাড়ে ৩ টায় বরিশাল অঞ্চলের সৃজনশীল কবি, সাহিত্যিক ও সুধী সমাবেশ এবং সন্ধ্যায় কবিগণের কবিতা থেকে পাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অশ্বিনী কুমার হলে অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৩টায় নবীন কবি, লেখক ও সাহিত্যিক সমাবেশ ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ১০ জন লেখক ও কবি সম্মাননা প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। তিন দিন ব্যাপী উৎসবে বরিশালের কবি ভক্ত, কবিতা প্রেমিক সহ সর্বস্তরের জনগনকে উপস্থিত থেকে উৎসবকে সাফল্য মন্ডিত করার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়েছে।