জেলা প্রশাসক শহীদুল আলমের পদোন্নতির বদলী

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ কবিতার ভাষায় মানুষের সেবার মনোভাবাপন্ন জেলা প্রশাসক শহিদুল আলম চলে যাচ্ছেন বরিশাল বাসীকে ছেড়ে। দীর্ঘদিন অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়ে তিনি বরিশালকে সাজিয়েছিলেন সংস্কৃতির ধারায়। শুধু সংস্কৃতিই নয় তারই সাহসে আজ নগরীর পথে চলে অগ্রদূতীরা। অসহায় অবলাদের পিতার ভূমিকা পালনে, কখনো বা পানি হাতে তৃষ্ণার্তদের পাশে, কখনও কবি বেশে, আবার কখনও বা ধুমপায়ীদের আতংক হিসেবে নানা ভূমিকা পালনে শতভাগ দেয়া মানুষ শহিদুল আলম সত্যিই চলে যাচ্ছেন। তিনি হয়ত চলে যাবেন তবে যা রেখে যাচ্ছেন তা হয়ত কেউই করতে পারতো না। ব্যতিক্রমী চিন্তা চেতনার এই মানুষটি সর্বদাই ছিলেন স্পষ্টভাষি। অন্যায়ের প্রতি পদে যেমন ছিলেন কঠোর, তেমনি ছিলেন নগরবাসীর অধিকার আদায়ে দৃঢ় প্রত্যয় সম্পন্য। এর আগে কেউ হরিজনদের জন্য ভাবেনি আর ভাবেনি এত সহজে কোন জেলা প্রশাসক সারা দেয়নি সাধারনের। অসহায়ের ডাকে সারা দিতে যেন যেন বিলম্ব না হয় সে জন্য তিনি রেখেছেন সিটিজেন বেল। যে বেলে হয়ত তিনি সারা দিয়েছেন আর ভবিষ্যতে যারা যায়িত্বে আসবে তাদের দেখিয়ে গেছেন মানব সেবার কিছু ব্যতিক্রমী পন্থা। অন্যদিকে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বাঙালী বীর সেনা অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাড়িয়েছেন তিনি। গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগে জেলা প্রশাসক সহ ১০ উপজেলার ইউএনও বৃন্দরা প্রত্যেকে ৫ জন অসহায় মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি পরিদর্শন করে। সেই সাথে তাদেরকে আর্থিক সহায়তা ও পোষাক দেয়া হয়। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বরিশাল জেলা প্রশাসনে কর্মরতা শহীদ এডিসি আজিজুর হক স্মরনে তৈরি করেছে স্মৃতি স্তম্ভ। এছাড়াও তিনি তার সহকর্মীদের উৎসাহ প্রদানের জন্য তৈরি করেছেন ডিসি গার্ডেন। পরিবেশকে সমৃদ্ধশালী করতে অন্যতম পন্থা। অন্যদিকে নগরীর সার্কিট হাউজে আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে জনসাধারনের সাক্ষাতের জন্য বা কোন অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয় জেলা প্রশাসক মঞ্চ। জেলার রোভার স্কাউটদের সহযোগিতায় তার ভূমিকা অপরিসীম। রোভারদের জন্য নিজ প্রচেষ্টায় তৈরি করেছে তিন তলা স্থায়ী ভবন। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা অডিটোরিয়াম। এই অডিটোরিয়াম থেকে সকল অর্থ মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও নজরুল উৎসব, জীবনানন্দ উৎসব সহ আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ স্মরণ সহ নানা আয়োজন করা হয় ডিসি শহীদুল আলমের একান্ত প্রচেষ্টায়।