জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতা বাপ্পির নেতৃত্বে টেন্ডার ত্রাস

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ দরপত্র জমা দেয়া নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতা বাপ্পির নেতৃত্বে টেন্ডারবাজী নিয়ে হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়েছে ছাত্র ও যুবলীগ পরিচয়ধারীরা। গতকাল রোববার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এসএ শাখায় এই ঘটনা ঘটেছে। কাজ গুছ প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সাধারন ঠিকাদাররা। এ ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জেলা প্রশাসক শহীদুল আলমসহ পুলিশের হস্তক্ষেপে তা নিয়ন্ত্রনে আসে।
সাধারন ঠিকাদার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মেহেন্দিগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ, মুলাদি, বানারীপাড়া, হিজলা, আগৈলঝাড়া, বরিশাল সদর ও বাবুগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস মেরামতের জন্য ৮ গ্রুপের দরপত্র আহবান করেছে ভূমি মন্ত্রনালয়। যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪লক্ষ ৬৯ হাজার ৭৮৪ টাকা। গতকাল রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছিল দরপত্র জমা দেয়ার শেষ সময়। ওই কাজ গুছ প্রক্রিয়ায় নিতে সকাল থেকেই হাতেম আলী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম বাপ্পি দরপত্র জমা দেয়ার বাক্সের উপর অবস্থান নেয়। একইভাবে নিজেকে কখনও ছাত্রলীগ কখনও যুবলীগ পরিচয় দাতা টেন্ডারবাজ সোয়েব আহমেদ সিজান, যুবলীগ কর্মী দাবীদার রেজবী আহম্মেদ, জেলা ছাত্রলীগ নেতা রাজিব খান, যুবলীগ কর্মী সজল সেলিম সহ ছাত্র ও যুবলীগের কর্মীরাও অবস্থান নেয়। রেজাউল ইসলাম বাপ্পী ও সেজান ৮ গ্রুপের কাজ পৃথক পৃথক ভাবে গুছের চেষ্টা করে। তবে অপর ঠিকাদাররা এসে ভাগ দাবী করে। এতে বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। হৈ-হুল্লোরের সুযোগে দরপত্র বাক্সে ফেলে দেয় অনেকে। এ সময় তাতে বাধার চেষ্টাও করে টেন্ডারবাজরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসকের নিরাপত্তাকর্মী তাওহিদ এলে তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয় ছাত্রলীগ নেতা বাপ্পির নেতৃত্বে টেন্ডারবাজরা। এই সময় হাতেম আলী কলেজ এলাকায় অপরাধের স্বর্গরাজ্যে বানিয়ে ফেলা বাপ্পি পুলিশের সাথেও উদ্যত আচরন করে। এমনকি পুলিশকে তেড়ে যায় বাপ্পি। তখন জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম, এসি আব্দুল কাইউম ও কোতয়ালি মডেল থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন জানান, দরপত্র জমা দেয়া নিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছিল। সকল ঠিকাদাররা একটি বাক্সে একসাথে দরপত্র জমা দিতে চাইলে এই হট্টগোল সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তাদের আরও একটি বাক্স এনে তা খুলে দিলে সকলের সম্মুখে তারা দরপত্র জমা দিয়ে চলে যায়। দরপত্র জমা দেয়ার সময় স্বল্পতা থাকায় এই ঘটনার সৃষ্টি হয়।