জেলা প্রশাসকের আরেকটি মহতী উদ্যোগ এবার শারীরিক প্রতিবন্ধী কলেজ ছাত্র মামুন পেলো সহযোগিতা

সিদ্দিকুর রহমান ॥ বিকলাঙ্গ সেই সোহাগের পর এবার শারীরিক প্রতিবন্ধী বিএম কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী মামুনের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জেলা প্রশাসক ড. গাজী সাইফুজ্জামান। পাশাপাশি মামুনের শারীরিক, পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার বিষয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করে তার টিউশন ফি ও সেশন ফি মওকুফ, বই সরবরাহ সহ অন্যান্য মানবিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক স.ম. ইমানুল হাকিম। এছাড়াও কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র মামুনকে তার পূর্বের বাসস্থান নগরীর নথুল্লাবাদ পোল সংলগ্ন শেরে বাংলা সড়কের মাথায় ছোট কুঠরি থেকে কলেজের হোস্টেলে আবাসন ব্যবস্থা এবং খাবার সরবরাহ বিনামূল্যে করে দেয়া হয়েছে। এদিকে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে মেধাবী শিক্ষার্থী মামুন কে দেয়া মাসিক ১ হাজার ২০০ টাকা উপবৃত্তি অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও পূর্বের আবাসন থেকে নতুন আবাসন স্থলে স্থানান্তরের যাবতীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করার আশ্বাস দিয়েছে সমাজসেবা কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি এনজিও সিআরপি মামুনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে । জেলা প্রশাসন পরিচালিত ফেসবুক গ্রুপ বরিশাল- সমস্যা ও সম্ভাবনায় শারীরিক প্রতিবন্ধী মামুনের বিষয়ে দেয়া পোস্টের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার দুপুর ১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিবন্ধী মামুনের সাথে মতবিনিময় সভা করেন জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। এসময় তার সাথে শারীরিক, পারিবারিক, সামাজিক ও সীমাবদ্ধতার বিষয়ে আলোচনা করে তার মতামত গ্রহণ করা হয়। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আহসান হাবিব, সরকারি বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক স.ম.ইমানুল হাকিম, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান খান, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর ও নির্বাহী হাকিম আসিফ আহম্মেদ, কল্যান চৌধুরী, প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ সহ গনমাধ্যমের কর্মী ও বিএম কলেজের শিক্ষকবৃন্দ। সভায় জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান বলেন, এই প্রতিবন্ধকতা নিয়েও মামুনের শিক্ষা কার্যক্রম থেমে নেই। তার অদম্য প্রচেষ্টাই তাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে তিনি বলেন, মামুনের মেধাবী ও সংগ্রামী বৈশিষ্টের কারণে তার জন্য সেলাই মেশিনে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করার বিষয়টি উপযোগীতা প্রতিয়মান হয়নি। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে কম্পিউটারের মাধ্যমে তার ক্যারিয়ার জীবন সমৃদ্ধ হতে পারে বলে আশাব্যক্ত করেন। এছাড়াও ¯œাতক শেষ করার পর ¯œাতকোত্তর পর্যায়ে তার উপবৃত্তির হার বৃদ্ধি পাবে বলে জানান জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান।
এদিকে বরিশালের যেকোন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা ফেসবুক গ্রুপ বরিশাল- সমস্যা ও সম্ভাবনায় পোস্ট দেয়ার জন্য আহবান জানান তিনি। মামুন সুপ্রতিষ্ঠিত হোক মানুষের ভালোবাসায় এই আশা ব্যক্ত করে তিনি মামুনের বিষয়ে পোস্টদাতা নাহিন রেজওয়ান, বিএম কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সমাজসেবা অধিদপ্তর সহ ফেসবুক গ্রুপে মমত্ব প্রকাশকারী সকল সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
এদিকে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী মামুন আবেগ আপ্লুত কন্ঠে তার প্রতি সকলের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ায় জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, গত ১৩ মে জেলা প্রশাসন পরিচালিত ফেসবুক গ্রুপ বরিশাল- সমস্যা ও সম্ভাবনায় শারীরিক প্রতিবন্ধী মামুনের বিষয়ে পোস্ট দেয় নাহিন রেজওয়ান নামের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র। তিনি গ্রুপে দেয়া পোস্টে জানান, ছেলেটির নাম মামুন। চহুতপুর বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং মহানগর কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে এখন সে ব্রজমোহন কলেজে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশুনা করছে। ছেলেটির দুই পা অচল। হুইল চেয়ারই তার একমাত্র ভরসা। পরিবার বলতে প্রতিবেশী ছাড়া আর কেউই নেই। পরিবার ছাড়া শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও একটি মানুষ কিভাবে এতো দূরে যেতে পারে তার একটি অনন্য উদাহরণ হল এই ছেলেটি। একমাত্র আয়ের উৎস হিসেবে একটি সেলাই মেশিন আছে যা সে বাৎসরিক ভাড়ায় নিয়েছে। প্রায় ৪ বছর যাবত ৩০০ টাকা ভাড়ায় তিনি নথুল্লাবাদ পোল সংলগ্ন খালপাড়, শেরে বাংলা সড়কের মাথায় একটি ছোট্ট কুটরি তে থাকছে। আকস্মিক জানা গেল খালের পুনরুদ্ধার এর জন্যে যে অভিযান চলছে সেখানে এই ছেলের বাসা উচ্ছেদ করার নোটিশ দেয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় ছেলেটি এখন কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। ছেলেটির থাকার জায়গা হিসেবে এই ছোট্ট বাসাটি ছাড়া আর কিছুই নেই। কারণ সে হাটাচলা করতে পারে না। ওর আবাসনের একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থা এবং পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এবং সাথে যোগাযোগের জন্যে মামুনের ০১৯১৭৯৮৩৯৬৮ এই মোবাইল নম্বরটি যুক্ত করে দেয়। পরবর্তীতে তার পোস্টের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান মামুনের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এই উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।