জেলা পরিষদের তিন মার্কেট নির্মান কাজের ঠিকাদার চূড়ান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ অবশেষে নির্ধারণ হলো বরিশাল জেলা পরিষদ কার্যালয়ের তিনটি মার্কেট নির্মান কাজের ঠিকাদার। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় লটারীর মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার কাজের ঠিকাদার বাছাই সম্পন্ন হয়।
এদিকে বহু নাটকিয়তা শেষে ঠিকাদার বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও জেলা পরিষদ কর্মকর্তা এবং শাসক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে উঠেছে অভিযোগ। লটারীর সময় সাধারণ ঠিকাদারদের অফিক কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে শাসক দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে লটারী করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ ঠিকাদাররা। এমনকি অনিয়ম করে ছাত্রলীগ এবং যুবলীগকে কাজ পাইয়ে দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেরা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বান্দ রোড শেবাচিম হাসপাতালের পশ্চিম পাশে দুটি এবং রূপাতলী হাউজিং বাজারে আরো একটি দ্বিতল মার্কেট ভবন নির্মানের লক্ষে দরপত্র আহবান করা হয়। সে অনুযায়ী দরপত্র জমা এবং বাছাই কার্যক্রম শেষ হয়। কিন্তু লটারীর মাধ্যমে ঠিকাদার নির্ধারণ কার্যক্রম সম্পন্নের আগেই স্থগিত করা হয় লটারী কার্যক্রম।
রূপাতলী হাউজিং বাজারে দ্বিতল মার্কেট ভবনের স্টল বরাদ্দ দিয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী সহ তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে এক কোটি ২৫ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহনের অভিযোগে লটারী স্থাগীত করা হয়। পরবর্তীতে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বুধবার সকাল ১০টায় লটারীর মাধ্যমে তিনটি মার্কেট ভবন নির্ধারণের জন্য ঠিকাদার বাছাই করা হয়েছে।
এর মধ্যে শেবাচিম হাসপাতালের পশ্চিম পাশে এক কোটি ৮৪ লক্ষ টাকার দুটি মার্কেট ভবন নির্মানের ঠিকাদারী পেয়েছে চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার যুবলীগ নেতা লোকমান হোসেন ও সরদার কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার লিটন সরদার। এছাড়া এক কোটি ৫২ লক্ষ টাকা ব্যায়ে রূপাতলী হাউজিং এলাকায় দ্বিতল মার্কেট ভবন নির্মানে মাদার ইঞ্জিনিয়ার ফার্মের নামে কাজ পেয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।
এদিকে একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, লটারী উপলক্ষে সকাল থেকেই তিন গ্রুপের ৩৩৪টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদাররা জেলা পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়। লটারীর ঠিক ১০/১২ মিনিট পূর্বে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক হুমকি এবং গালি দিয়ে শাসক দলের ঠিকাদার বাদে বিএনপি ঘরানা সহ সাধারণ ঠিকাদারদের বের করে দেয়। পরে তাদের উপস্থিতি ছাড়াই লটারী সম্পন্ন করা হয়। বিএনপি ঘরানার ঠিকাদারদের অভিযোগ শাসক দলের নেতারা নামে মাত্র লটারী করে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার কাজ গুছ করে নিয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে টেন্ডারের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা ফারুক হোসেন এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন সুষ্ঠু ভাবেই লটারী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া লটারীর সময় ঠিকাদার পরিপূর্ন ছিলো। এখানে কোন স্বজন প্রীতি বা অনিয়ম হয়নি বলে দাবী করেন।