জেলা ছাত্রদলের ৩১ কমিটির বয়স ১৩ বছর

সাইদ মেমন/যুবায়ের হোসেন ॥ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ছাত্রদল বরিশাল জেলার আওতাধীন উপজেলা, পৌর কিংবা কলেজ শাখার কোন কমিটি গঠন হয়নি। প্রায় ১৩ বছর পূর্বের কমিটিই বহাল রয়েছে জেলার ৯ উপজেলা ৫ পৌর ও ১৭ কলেজে। চার বছর পূর্বে গঠন হওয়া ছাত্রদলের জেলার আহবায়ক কমিটি শুধু একটি উপজেলা ও পৌর কমিটি করার তথ্য দিতে পেরেছে সংশ্লিষ্টরা। যার কারণে জেলা, উপজেলা, পৌর ও কলেজে ছাত্রদলের নতুন কোন নেতৃত্ব গড়ে উঠছে না। এমনকি নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার কোন উদ্যোগও নেই বলে নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা শাখার এক যুগ্ম আহবায়ক বলেন- শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া বা তারেক জিয়ার অনুসারী হলে কোন পদ পদবি পাওয়া যায় না। এখানে পদ পেতে হলে নেতা লাগে। যোগ্যতা ও বয়স কোন কিছুর প্রয়োজন হয় না। তিন মাস মেয়াদী জেলার আহবায়ক কমিটি ৪ বছর পার করেও কোন উপজেলা, পৌর ও কলেজ শাখা নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে পারেনি। শুধু প্রলোভন দিয়ে ফায়দা নেয়া ছাড়া কিছু দেয়নি। এরপরে ৪৩ বছর বয়সে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পায়। কেন্দ্রীয় কমিটিতে ব্যর্থ জেলা কমিটির কয়েকজন নেতৃবৃন্দ সুযোগ পেয়েছে। এটা শুধু নেতার লোক হওয়ার কারণেই সম্ভব হয়েছে।
জিয়ার আদর্শ, খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার নেতৃত্ব এবং ছাত্রদল ভালোবেসে নতুন প্রজন্মের যারা সরকার বিরোধীসহ সকল আন্দোলন কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে হামলা-মামলাসহ কারান্তরীন হয়েছে, পদ পদবি না থাকায় ওইসব কর্মীদের কেউ কোন খোঁজ নেয়নি। পরিবার বা স্বজনদের চেষ্টায় কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে এখন আর তারা কোন কর্মসূচীতে অংশ নেয় না। বয়স পেরিয়ে গেলেও পদ আকড়ে ধরে থাকা নেতারা কর্মীবিহীন হয়ে কর্মসূচীতে নিজেরা দায়সারা অংশ নিচ্ছে। এতে আন্দোলন বেগবান হয় না।
এক যুগেরও বেশি পুরনো ছাত্রদলের উপজেলাসহ পৌর এবং কলেজ কমিটির নেতৃবৃন্দ কেউ মূলদলে, কেউ যুবদলে কেউবা আছেন রাজনীতির নামে নিজস্ব পেশায়।
নির্ভরযোগ্য ওই সূত্র জানায়, ২০০৩ সালে তৎকালীন জেলা ছাত্রদলের নেতারা এখনকার ১০ টি উপজেলা, ৬ টি পৌরসভা ও ১৭ টি কলেজের ছাত্রদলের কমিটি গঠন করে দেয়।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিকদার খলিলুর রহমান বর্তমানে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী বশির রাজনীতির চেয়ে নিজের পেশা নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন।
বাকেরগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মজিবর মোল্লা পেশায় আইনজীবী। সে বর্তমানে রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী, সাধারণ সম্পাদক শাহীন তালুকদার নিজের পেশায় ব্যস্ত।
সদর উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন গঠিত কমিটির সভাপতি মাওলা রাব্বি শামিম ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আউয়াল সদর উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন গঠিত কমিটির সভাপতি মাওলা রাব্বি শামিম ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আউয়ালসহ সকল কমিটির নেতৃবৃন্দ পদ আকড়ে রয়েছেন। সিংহভাগ নেতারা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়লেও নতুন কোন নেতৃত্ব সৃষ্টির চেষ্টা বা উদ্যোগ নেয় না।
যার কারণে ছাত্রদলের কার্যক্রম নামে আছে। বাস্তবে ছাত্রদল অস্তিত্ব হারানোর পথে রয়েছে।
গত ১৩ বছর ধরে এলোমেলো ছাত্রদল গঠনে যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে স্বার্থান্বেষী ও অসাংগঠনিক রাজনীতি করে ছাত্রদলকে খাদে এনে ফেলেছে।
ছাত্রদলের মেরুদন্ড ভেঙ্গে নিজেরা বয়স গোপন করে চলে গেছে কেন্দ্রীয় কমিটিতে।
ছাত্রদলের জেলার আহ্বায়ক মাসুদ হাসান মামুনের বলেন, আন্দোলন সংগ্রামের চাপেই তিনি কমিটি গঠনে ব্যর্থ হয়েছেন। ৪ বছরেও পারেননি। তবে তিনি শীঘ্রই কমিটি গঠন করবেন বলে জানান। কমিটির নামে নেতা কর্মীদের কাছ থেকে সুবিধা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।