জেলা আ’লীগের সভায় সাদিক আবদুল্লাহকে মহানগর সম্পাদক করার দাবি

রুবেল খান শুধু মাত্র মাহানগর আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরই নয়। সাংগঠনিক এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ জয় করে নিয়েছেন জেলার নেতা-কর্মীদের মনও। তাইতো তারা মহানগর শাখার মত আওয়ামী লীগের গরুত্বপূর্ণ কমিটিতে সাধারন সম্পাদক হিসেবে দেখতে চান সাদিক আব্দুল্লাহকে। শুধু অন্তরালেই নয়, তাকে সাধারণ সম্পাদক করার জন্য প্রকাশ্যে প্রস্তাবনাও তুলেছেন আওয়ামী লীগের জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। গতকাল শনিবার সেরালে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির প্রথম সভায় নেতৃবৃন্দ এমন প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ-এমপি’র কাছে। তার ছেলে বলে নয়, একজন দক্ষ, সাংগঠনিক এবং যোগ্যতা সম্পন্ন নেতা হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে সাদেক আব্দুল্লাহকে পেতে প্রয়োজনে দলের সভা নেত্রীর কাছে যাওয়ার কথাও বলেছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। তবে নেতৃবৃন্দের প্রস্তাবনা শুনলেও এ নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ-এমপি।

জানাগেছে, জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পরে গতকাল শনিবার এর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টায় আগৈলঝাড়ার সেরালে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এর বাস ভবনে এই সভায় সভাপতিত্ব করেন আ’লীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ও জেলা শাখার সভাপতি এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ।

অনুষ্ঠিত সভার বিষয়বস্তু ছিলো সংগঠনের কার্যক্রম আরো গতিশীল এবং দলকে শক্তিশালী করে তোলা সহ নানান বিষয়। কিন্তু সভা শুরুর পরে এর মূল বিষয়বস্তু হয়ে দাড়ান বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। জেলা কমিটির কার্যক্রম অনেকটা পিছনে ফেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে নিয়ে আলোচনা শুরু করেন নেতৃবৃন্দ। আর এর বিষয় বস্তু ছিলো মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন।

সভায় উপস্থিত থাকা জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতারা পরিবর্তনকে জানান, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ খুব অল্প সময়ে মহানগর আওয়ামী লীগে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনি দলীয় কার্যক্রম থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি জাতীয় এবং সামাজিক কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করে আসছেন। যা দলের পদে থাকা নেতারাও করে দেখাতে পারেনি।

তারা বলেন, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। যে কারনে তিনি খুব সহজে রাজনীতির পরিধি বুঝে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। দলের কোন পদে না থাকলেও নেতা-কর্মীদের সুখ দুখে পাশে এসে দাড়াচ্ছেন। তাদের দুঃখ দুর্দশার কথা শুনে সমাধানের চেষ্টাও করছেন। আর তাই মহানগর আওয়ামী লীগ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও তার যোগ্যতার গুনগান গাইতে শুরু করেছেন। তবে এটা তার নিজ যোগ্যতা এবং দক্ষতার কারনেই সম্ভব হয়েছে। এতে করে শুধু মহানগরের নেতা-কর্মীরাই নয়, জেলার নেতা-কর্মীরাও তার দক্ষতা এবং সাংগঠনিক যোগ্যতার প্রেমে পড়েছেন। তাইতো আওয়ামী লীগের জেলা শাখার কমিটিতেও তাকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দেখার জন্য জোর দাবী তুলেছেন নেতারা।

বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাকে মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক করার জন্য তারা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ-এমপি’র নিকট প্রস্তাব রেখেছেন। তারা বলেছেন, সাদিক আব্দুল্লাহ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র ছেলে বলে খুশি করার জন্য নয়। সাদিক আব্দুল্লাহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়ার যোগ্যতা রাখে বলেই তারা এমন প্রস্তাব তুলেছেন। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র প্রতি অনুরোধ জানিয়ে নেতারা আরো বলেন, ছেলে বলে সাদিক আব্দুল্লাহ’র জন্য নেত্রীর কাছে সুপারিশ করা থেকে বিরত থাকলে হবে না। তার যে রাজনৈতিক যোগ্যতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে তা ভেবে, সঠিক স্থানে প্রয়োগের সুযোগ করে দিতে হবে। তাকে এই সুযোগ করে দেয়ার জন্য জেলার নেতা-কর্মীরা প্রয়োজনে ঢাকায় গিয়ে দলের সভা নেত্রী শেখ হাসিনা’র কাছে আবেদন জানাবেন বলেও নেতারা সভায় বলেছেন। তবে সাদিক আব্দুল্লাহকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করার বিষয়ে নেতাদের প্রস্তাবের জবাবে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ কোন মন্তব্য করেননি। এমনকি তার পক্ষ থেকে প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেননি বলে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে শুধু জেলা আওয়ামী লীগের নেতারাই নয়, অনেক আগে থেকেই মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে দেখার জন্য জোর দাবী জানিয়ে আসছেন এখানকার নেতা-কর্মীরা। এমনকি বিসিসি’র ৩০টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকরা সাদিক আব্দুল্লাহকে মহানগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক করার জন্য গন স্বাক্ষ্যরের সম্বলিত একটি লিখিত আবেদন জানান দলের সভা নেত্রী শেখ হাসিনা এবং আ’লীগের কেন্দ্রিয় কমিটির কাছে।