জেলা আ’লীগের ম্যারাথন বর্ধিত সভায় ক্ষোভ আর অভিযোগ

রুবেল খান॥ দলীয় নেতাদের চরম ক্ষোভ আর নানা অভিযোগের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নগরীর সার্কিট হাউস সভা কক্ষে জেলা আ’লীগের প্রথম এ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ-এমপি’র সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় তিনি বলেন, আমাদের উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের সাথে কর্মীদের দূরত্ব অনেক বেড়েছে। এই দুরত্ব কমিয়ে আনতে হবে। বিরোধী দলের আমলে আমরা যে ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাধে কাধ মিলিয়ে দলের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করেছিলাম, ঠিক সেভাবে করেই নেতা-কর্মীদের পূনরায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কারন কর্মী ছাড়া দলকে শক্তিশালী করা অসম্ভব।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক চীফ হুইপ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ-এমপি উপজেলার নেতাদের সাংগঠনিক বিভিন্ন অভিযোগ ও নিস্কৃয়তার বিষয়ে দেয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, কর্মীদের সাথে নেতাদের সম্পর্কের দুরত্ব বৃদ্ধির কারনেই এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এ সমস্যা কাটিয়ে উঠে জেলার প্রতিটি উপজেলায় আ’লীগকে সু-সংগঠিত হতে হবে। এজন্য প্রতিটি উপজেলায় দ্রুত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। তাই উপজেলার নেতৃবৃন্দকে কমিটির তালিকা এবং সম্মেলনের সময় নির্ধারন করে জেলা কমিটির কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। আসন্ন মাহে রমজানের মধ্যেই প্রতিটি উপজেলা ও পৌর এলাকায় আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের ঘোষনা দেন কেন্দ্রীয় এই নেতা। একই সাথে সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের তাগিত দিয়ে তিনি বলেন, আগামী ঈদের মধ্যে কমিটি এবং সম্মেলনের তারিখ নির্ধারন করে জেলা আওয়ামী লীগের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। যে তারেখে সম্মেলনের সময় নির্ধারন করা হবে ঠিক সেই দিনই সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি ঘোষনা করা হবে। এ নির্দেশনা না মানলে সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুশিয়ার করেন তিনি।
এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বলেন, মনে রাখতে হবে বিএনপি জামায়াত আগামী নির্বাচনে আদাজল খেয়ে নামবে। ঠিক সেভাবে করেই আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতা-কর্মী সমর্থকদের প্রস্তুতি নিতে আহবান জানান।
তিনি বলেন, উপজেলা, ইউনিয়ন কিংবা পৌর মেয়র নির্বাচনের আগে আমরা কর্মীদের কথা চিন্তা করে প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন দিয়ে থাকি। কিন্তু নির্বাচিত হয়ে তারা আর কর্মীদের খোঁজ নেয় না। তাই আগামী প্রতিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার আগে তৃনমুল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মতামত গ্রহন করবেন। তারা যে মতামত দিবে সে অনুযায়ী দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হবে। কেননা কর্মীদের সাথে মতপার্থক্য থাকলে নির্বাচনে অনেক বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হবে।
বর্ধিত সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস-এমপি বলেন, আমরা বিরোধী দলে থাকলে নেতা-কর্মীদের সাথে ভালো সম্পর্ক এবং ঐক্য থাকে। কিন্তু ক্ষমতায় এলে কর্মীদের সাথে আমাদের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে কর্মীদের দুরত্বের সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের এখন করুন অবস্থা। শওকত হোসেন হিরন ভাই বেচে থাকতে তিনি নগর আ’লীগকে উজ্জীবিত করেছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুর নগর আ’লীগের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই এখানে দ্রুত কমিটি গঠনের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির দাবীও জানান তিনি।
এমপি ইউনুস বলেন, মনে রাখতে হবে বিএনপি জামায়াত বিষধর সাপ। সময় পেলেই সোবল মারবে। তাই আওয়ামী লীগের মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং গ্রুপিং না রেখে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান তিনি।
বর্ধিত সভায় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য শাহান আরা আব্দুল্লাহ, জেরা আ’লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ খান, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ও যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, মহানগর যুবলীগ নেতা এ্যাড. রফিকুল ইসলাম খোকন প্রমুখ।
এর আগে বর্ধিত সভার শুরুতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সম্পাদক, চেয়ারম্যান এবং মেয়র ও ভাইস চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও সমস্যা কথা সোনেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি।
এসময় নেতৃবৃন্দ দলীয় কার্যক্রমে নিস্কৃয়তার বিষয় তুলে ধরে বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সব সময় গ্রুপিং এর রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু দলের কর্মসূচিতে নেতাদের ভূমিকা জিরো। এজন্য তারা সংগঠন পরিচালনা এবং কমিটি না থাকাকেই দায়ী করে দ্রুত যে সকল উপজেলা এবং পৌর এলাকায় আওয়ামী লীগের কমিটি নেই এবং যেসব এলাকায় যুগ যুগ ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে সংগঠন পরিচালনা করা হচ্ছে সেই সব কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটির দাবী জানান নেতৃবৃন্দ।
সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, কোন উপজেলায় কমিটি করতে গেলেই মূল দলের নেতারা তাতে বাধা হয়ে দাড়ায়। জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ আলোচনা না করেই অদ্যক্ষদের দিয়ে কমিটি করছে। এতে দক্ষরা বঞ্ছিতর পাশাপাশি সংগঠনিক ভিতি দুর্বল হয়ে পড়ছে। এজন্য তারা সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রমে নগ্ন হস্তক্ষেপ না করে সহযোগিতার দাবী জানান।
এসব বক্তব্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন- বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল আহসান খান, বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, সদর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম ছবি, গৌরনদীর পৌর মেয়র হারিছুর রহমান, বানারীপাড়া পৌর মেয়র গোলাম ছালেহ মঞ্জু মোল্লা, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মাওলাদ হোসেন ছানা, হিজলা উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ টিপু, বাবুগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সম্পাদক ও চেয়ারম্যান খালেদ হোসেন স্বপন, মেহেন্দীগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. মুনসুর আহম্মেদ, উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব কামাল উদ্দিন খান, বাকেরগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সভাপতি সামসুল আলম চুন্নু, মুলাদী পৌর মেয়র শফিকুজ্জামান রুবেল, উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক মুন্নি আক্তার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, খোরশেদ আলম ভুলু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মেরী আফরোজ, জেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি মো. শাহজাহান হাওলাদার, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. হেমায়েত উদ্দিন আহম্মেদ সুমন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. আনিস উদ্দিন আহম্মেদ শহীদ, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষ সভাপতি এ্যাড. নাসির উদ্দিন খান বাবুল, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. মজিবর রহমান, জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. ফজলুল করিম শাহিন, জেলা স্বেচ্ছা সেবক লীগের সাধারন সম্পাদিক মনিজরুজ্জামান, জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারন সম্পাদক শারমিন মৌসুমি কেকা প্রমুখ।