জেএসসিতে জিপিএ বিপর্যয় ॥ কমেছে পাশের হার

রুবেল খান ॥ বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় এবার পাশের হার কমেছে। সেই সাথে জিপিএ’র সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় অর্ধেকে নেমে গেছে। এবার জেএসসিতে বরিশাল বোর্ডে পাশের হার ৯৬ দশমিক ৩২ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ হাজার ৪শ’ ৩১জন। পাশ ও জিপিএ’র দিক থেকে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। জিপিএ-৫ এর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল আজিম আনুষ্ঠানিক ভাবে পরীক্ষার ফলাফলের পরিসংখ্যান ঘোষনা কালে এই তথ্য জানিয়েছেন।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বরিশাল বোর্ডের অধীনে বিভাগের ৬ জেলার ১ হাজার ৭শ’ ৪টি স্কুলের ১ লাখ ২২ হাজার ১২৪ জন জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের জন্য ফরম পূরন করে। এদের মধ্যে ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৭জন শিক্ষার্থী ১৭২টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে। অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে ৫৫ হাজার ৭শ’ ১৮ জন ছাত্র এবং ৬২ হাজার ৬শ’ ৭৯জন ছাত্রী। মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৫ জন বিভিন্ন গ্রেডে পাশ করে।
ফল অনুযায়ী এবার বরিশাল বোর্ডে ৯৭.০১ ভাগ মেয়ে এবং ৯৫.৫৩ ভাগ ছেলে পাশ করেছে। এবারের পরীক্ষায় গনিতে কিছুটা ফলাফল খারাপ হয়েছে। তাছাড়া গত বছর বরিশাল বোর্ডে জেএসসি’তে পাশের হার ছিল ৯৭.৩৮ ভাগ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫ হাজার ৫৭০জন।
বিভাগের ৬ জেলার মধ্যে সেরা ভোলায় ২৭৭টি স্কুল থেকে ১৯ হাজার ১৩জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ১৮ হাজার ৬২৯জন। এর মধ্যে ৯ হাজার ৪ জন ছেলে এবং মেয়ে ৯ হাজার ৬২৫ জন। পাশের হার ৯৭ দশমিক ৯৮ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩শ’ ৮৭জন। এর মধ্যে ছেলে ৬২২ এবং মেয়ে ৭৬৫ জন।
বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী বরগুনা জেলার ১৮৪টি স্কুল থেকে ১৩ হাজার ৫শ’ ৮৮জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ১৩ হাজার ২৯৩জন। এর মধ্যে ছেলে ৬ হাজার ৩৩৮ এবং মেয়ে ৬ হাজার ৯৫৫ জন। বরগুনা জেলায় পাশের হার ৯৭ দশমিক ৮৩ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৫৯জন। যার মধ্যে ছেলে ৩৯৯ ও মেয়ে ৬৬০ জন।
তৃতীয় স্থান অধিকারী বরিশাল জেলার ৪৬১টি স্কুল থেকে ৩৮ হাজার ৫৩১জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৩৭ হাজার ৫২৪জন। এর মধ্যে ছেলে ১৭ হাজার ৫৬ জন ও মেয়ে ২০ হাজার ৪৬৮ জন। পাশের হার ৯৭ দশমিক ৩৯ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৪শ’৩৯ জন। এর মধ্যে ছেলেরা পেয়েছেন এক হাজার ২৬৩ ও মেয়েরা পেয়েছেন ২ হাজার ১৭৬ জন।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে পটুয়াখালী। এ জেলার ৩০৪টি স্কুল থেকে ২১ হাজার ৪৪২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ২০ হাজার ৮১৪ জন। এর মধ্যে ছেলে ১০ হাজার ৫০৯ জন ও মেয়ে ১০ হাজার ৩০৫ জন। পাশের হার ৯৭ দশমিক ০৭ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ২৬৩ জন। এর মধ্যে ছেলেরা পেয়েছেন ৪৫১ ও মেয়েরা পেয়েছেন ৮১২ জন।
এদিকে ২৭৯টি স্কুল থেকে ১৫ হাজার ২৫৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করে ১৪ হাজার ৫১৩ জন পাশ করে পঞ্চম স্থানে রয়েছে পিরোজপুর জেলা। এর মধ্যে ৬ হাজার ৩৭৭ জন ছেলে এবং ৮ হাজার ১৩৬ জন মেয়ে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮০৬ জন। যার মধ্যে ছেলে ৩০৪ ও মেয়ে ৫০২ জন। পাশের হার ৯৫ দশমিক ১৩ ভাগ।
অপরদিকে সর্বনি¤œ ৮৭ দশমিক ৬৫ ভাগ পাশ করে বিভাগের মধ্যে সব থেকে পিছিয়ে রয়েছে ঝালকাঠি জেলা। এলাকার ১৯৯টি স্কুল থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১০ হাজার ৫৬৭ জন। যার মধ্যে পাশ করেছে ৯ হাজার ২৬২ জন। এর মধ্যে ছেলে ৩ হাজার ৯৪৫ জন এবং মেয়ে ৫ হাজার ৩১৭ জন। এ জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭৭ জন। যার মধ্যে ছেলে ১৬৯ জন এবং মেয়ে ৩০৮ জন। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক ফলাফলে বরিশাল জেলা এগিয়ে রয়েছে। বরিশাল বোর্ডে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এবার অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৫৯ জন বহিস্কার হয়।