জুনে চালু হচ্ছে শেবাচিমে আইসিইউ সেবা

রুবেল খান॥ অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর প্রানের দাবি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)। আগামী এক মাসের মধ্যেই বরিশাল শের-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পূর্ব পাশে এর কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। ইতোমধ্যে আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ হয়েছে। এ আইসিইউটি দেশের অন্যান্য আইসিইউ থেকে আধুনিকমানের হবে বলেও নিশ্চিত করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গনপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, প্রায় ৫ থেকে ৬ বছর পূর্বে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পূর্ব পাশের পেছন দিকে নির্মান করা হয় দ্বিতল আইসিইউ ভবন। প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে আইসিইউ ভবন নির্মান করা হলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং জণবলের অভাবে ভবনটি চালু করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ফলে এক প্রকার পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ভবনের কলাপসিবল গেট সহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে যায়। এদিকে এভাবে চলতে থাকলে সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী এএফএম রুহুল হক এর নির্দেশে আইসিইউ ভবনটির দ্বিতীয় তলায় স্থানান্তর করা হয় করোনারী কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)। দীর্ঘ বছর ভবনটিতে সিসিইউ কার্যক্রম চলে আসলেও মূল কার্যক্রম আইসিইউ চালু হচ্ছিল না।
অপরদিকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও প্রয়াত এমপি শওকত হোসেন হিরণ শেবাচিম হাসপাতাল উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি থাকা অবস্থায় আইসিইউ চালুর জন্য মন্ত্রনালয়ে ব্যাপক তদবির করেন। সে সময় তার প্রচেষ্টায় আইসিইউ চালুর জন্য সিএমএইচডি থেকে আইসিইউ সাপোর্টের কিছু যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু তার মৃত্যুর পরে আইসিইউ কার্যক্রম বাস্তবায়ন দক্ষিণাঞ্চলবাসীর কাছে স্বপ্নই রয়ে যায়।
তবে সাবেক চীফ হুইফ ও সাংসদ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ শেবাচিম হাসপাতাল উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহন করেন। পরবর্তীতে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মু. কামরুল হাসান সেলিম তার সহযোগিতা নিয়ে আইসিইউ কার্যক্রম শুরু করতে জোর প্রচেষ্টা চালান। তার এই প্রচেষ্টায় এখন বাস্তবায়নের পথে আইসিইউ কার্যক্রম। গত প্রায় ৬ মাসের ব্যবধানে আইসিইউ কার্যক্রম চালু করতে ঢাকা সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর এবং দরপত্রের মাধ্যমে সরবরাহ করেছেন আইসিইউ সাপোর্টের কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। যা এখন শুধু স্থাপনের অপেক্ষায়।
হাসপাতালের স্টোর কিপার পরিতোশ সরকার পরিবর্তনকে জানান, দ্বিতল ভবনের নিচ তলায় আইসিইউ করা হবে। এখানে বেড থাকবে ১৬টি। এর মধ্যে ৮টি হবে আইসিইউ বেড। আইসিইউ সেবা গ্রহনে সুস্থ রোগীদের স্থানান্তর করে রাখা হবে পাশেই পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে। এখান থেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে যাবে রোগীরা।
তিনি জানান, আইসিইউ চালু করতে ইতোমধ্যে ৫টি ভেন্টিলেটর, ৫টি মনিটর, ইনফিউশন সিরিঞ্জ পাম্প ১টি, এ্যানেস্থেসিও (অজ্ঞান) করার মেশিন ৫টি, ডি-ফেব্লিলেটর ৫টি সহ আরো অন্যান্য যন্ত্রপাতি এতোমধ্যে তারা পেয়ে গেছেন। এছাড়াও ১টি সেন্ট্রাল প্যাসেন্ট মনিটর সিক্সটিন-ডি-ওয়ান রয়েছে। যে মনিটরটি দিয়ে এক সাথে ১৬ জন রোগীকে পর্যবেক্ষন করা যাবে।
জানতে চাইলে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মু. কামরুল হাসান সেলিম জানান, আইসিইউ কার্যক্রম চালু করতে আমাদের এখন আর কোন বাধা নেই। কেননা আইসিইউ’র জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে এসে গেছে। তবে এখন আর অল্প কিছু যন্ত্রপাতির প্রয়োজন। তা খুব দ্রুত শেবাচিমে পৌছাবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন। এছাড়া ইতোমধ্যে চিকিৎসক এবং নার্সদের বিদেশ থেকে আইসিইউ চিকিৎসা সেবার বিষয়ে প্রশিক্ষন দেখিয়ে আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ডা. মু. কামরুল হাসান আরো বলেন, আইসিইউ স্থাপন এবং ঐ স্থানকে উপযোগী করে তুলতে গনপূর্ত বিভাগ কাজ করছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যে এর কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। গতপূর্ত বিভাগ কাজ শেষে আমাদের কাছে হস্তান্তর করলে ভবনে মেশিনারী স্থাপন এবং উদ্বোধনের দিন তারিখ ঠিক করবেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আইসিইউ কার্যক্রমের উদ্বোধনের কথা রয়েছে।
আইসিইউ প্রজেক্টের কাজ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা গনপূর্ত মেডিকেল কলেজ উপ-বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিধান মজুমদার পরিবর্তনকে জানান, বরিশালের আইসিইউর কার্যক্রম খুব দ্রুততার সাথে চলছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি’র নির্দেশ অনুযায়ী ৭ দিনের মধ্যে নির্মান এবং সাজসজ্জার কাজ শেষ করতে তড়িৎ গতিতে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ জন্য ২৪ ঘন্টাই ভবনটিতে কাজ চলছে।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিধান মজুমদার আরো জানান, বরিশালের আইসিইউ দেশের অন্যান্য আইসিএউ এর থেকে অধিকতর আধুনিক মানের হবে। আর সে জন্য এয়ারকন্ডিশেন, ১০ মিলিমিটার মাপের থাই গ্লাস, চিকিৎসকদের আলাদা রুম নির্মান, আধুনিক মানের বেড, এমনকি বাথরুমের কমটটিও বিদেশি প্রযুক্তির তৈরী। এছাড়াও আইসিইউর প্রবেশ দ্বারের মূল ফটকের দু’পাশে রয়েছে ফুলের বাগান। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে। নির্ধারিত ৭ দিনের মধ্যেই তারা ভবনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করতে সক্ষম হবেন বলেও আশাব্যক্ত করেন গণপূর্ত বিভাগের এই কর্মকর্তা।