জিসান হত্যা খুনিদের বাঁচাতে মরিয়া পুলিশ

চরফ্যাসন প্রতিবেদক॥ চরফ্যাসনের শশীভূষণ থানার এওয়াজপুর গ্রামে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র জিসানের (১১) হত্যকারীদের বাঁচাতে ব্যস্ত পুলিশ-এমন অভিযোগ করেছেন মা নাছিমা বেগম। প্রতিবেশী মাইন উদ্দিন ডেকে নেয়ার ২৪ ঘন্টা পর গত ২৭ জুলাই সকাল সাড়ে ন’টায় নিজ বাড়ি সংলগ্ন তরকারী বাগানের পানির মধ্যে জিসানের লাশ পাওয়া যায়। লাশ উদ্ধারের এক ঘন্টা ব্যবধানে  শশীভূষণ থানা পুলিশ পরিকল্পিত হত্যা এবং লাশগুমের অপরাধে মামলা নিলেও মামলায় বাদিনীর চিহ্নিত আসামীদের এড়িয়ে অজ্ঞাত আসামী দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি লাশ উদ্ধারের পরপর মাইন উদ্দিনকে আটক করে গ্রামবাসী পুলিশে সোপর্দ করলেও পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।
নাছিমা বেগম অভিযোগ করেন, ২৬ জুলাই সকাল ৯টায় প্রতিবেশী মাইন উদ্দিন ঘর থেকে জিসানকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর থেকে জিসান নিখোঁজ ছিল। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টায় প্রতিবেশী লিপি বেগম শামুক কুড়াতে গিয়ে নিজ বাড়ির ২০/২৫ গজ পশ্চিম পাশের তরকারীর খামারে পানির মধ্যে ভাসমান জিসানের লাশ দেখতে পান। সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠান। এসময় গ্রামবাসী মাইন উদ্দিনকে আটক করে স্থানীয় চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেন। চেয়ারম্যান নুরে আলম তাকে ( মাইন উদ্দিন) পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। রাতে শশীভূষণ থানার উপ-পরিদর্শক জালাল আহমেদ জিসানের বাড়ি দিয়ে একাধিক কাগজে তার মা নাছিমা বেগমের স্বাক্ষর আনেন। পরে নাছিমা বেগমের এই স্বাক্ষরকে ব্যবহার করে খুনের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িত চিহ্নিত আসামীদের এড়িয়ে অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি আটক মাইন উদ্দিনকে রাতেই ছেড়ে দেন। নাছিমা বেগম অভিযোগ করেন, খুনিদের বাঁচাতে পুলিশ শোকাহত অবস্থায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে  একাধিক কাগজে তার স্বাক্ষর নিয়ে মামলা দায়ের করেছেন। জিসানের খুনের সময় ঢাকায় অবস্থানরত ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত  বাবা জসিম উদ্দিন জানান, চিহ্নিত খুনিদের মামলায় অন্তর্ভূক্ত করতে তিনি (বাদিনী) আদালতের শরনাপন্ন হবেন।