জাসদ নেতার প্রচেষ্টার ফসল “গোমা সেতু”

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ একজন জাসদ নেতার দীর্ঘ প্রচেষ্টার সুফল ভোগ করতে যাচ্ছে অবহেলিত বৃহত্তর বাকেরগঞ্জবাসী। সম্প্রতি একনেকের সভায় দিনারেরপুল-লক্ষীপাশা সড়কের মধ্যবর্তী রাঙ্গামাটি নদীতে যে “গোমা সেতু”র অর্থ বরাদ্দ হয়েছে তা ওই জাসদ নেতার প্রচারের ফসল। দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় মন্ত্রীর ডিও লেটার এবং ফাইল নিয়ে মন্ত্রনালয় ও সওজ অধিদপ্তরে দৌড়ঝাপের পরে সর্বশেষ গত ১৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেকের সভায় রাঙ্গামাটি নদীতে গোমা সেতু নির্মান প্রকল্পের জন্য ৫৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা অনুমোদন করেন। এমনকি ২০১৮ সালের প্রথম দিকেই সেতুর নির্মান কাজ শুরু করবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এর ফলে পুর্বাঞ্চলীয় মানুষের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। এই নেতা আর কেউ নন, বাকেরগঞ্জবাসীর গর্ব এবং উপজেলার কৃতি সন্তান জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ মহসিন। জনপ্রতিনিধি না হয়েও জনগনের স্বপ্ন পুরনে অসামান্য অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী, সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী এবং বেসামরিক বিমানমন্ত্রী সহ জাসদ নেতা মোহাম্মদ মহসিন এর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন উপজেলাবাসী।
জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন বরিশাল সদর উপজেলার দিনারেরপুল থেকে পটুয়াখালীর দমুকী উপজেলার লক্ষীপাশা (জেড ৮০৪৪) সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ন জেলা সড়ক। সড়কটির ১৪ কিলোমিটার দুরত্বে স্থানটির নাম গোমা। বরিশাল-পটুয়াখালী এবং বাকেরগঞ্জবাসীর সরাসরি সড়ক যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই। বরিশাল জেলার অবহেলিত বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন যথাক্রমে চরামদ্দি, চরাদী, দুধল, কবাই, গারুরিয়া, নলুয়া ও ফরিদপুর এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সহ পটুয়াখালী জেলার বাউফল, দুমকী, দশমিন উপজেলার বৃহৎ জনগোষ্ঠীর বরিশাল বিভাগীয় শহরের সাথে যোগাযোগের অন্যতম রুট হচ্ছে ওই সড়কটি। কিন্তু গোমায় রাঙ্গামাটি নদীতে নেই সেতুর ব্যবস্থা। একটি সেতুই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর একমাত্র ভরসা। তার মধ্যে ফেরী’র ইজারাদার কর্তৃক জিম্মি হতে হচ্ছে পরিবহন সহ সব ধরনের যানবাহন মালিক শ্রমিকদের। এর ফলে গোমা সেতু নির্মান প্রানের দাবী হয়ে দাড়ায় সাধারন মানুষের। স্থানীয় সংসদ সদস্যরা ভোটের আশায় শুধুমাত্র ব্রিজ করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে আসলেও এর বাস্তবায়ন ঘটেনি। ফলে জনগনের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত গোমা সেতু’র স্বপ্ন জনগনের সামনে নিয়ে এসেছেন বাকেরগঞ্জের কৃতি সন্তান ও জাসদ এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ মহসিন। তার প্রচাষ্টাতেই আজ গোমা সেতু প্রকল্পের অনুমোদন এবং অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে একনেক।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, জনগনের স্বপ্ন পুরনে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে রাঙ্গামাটি নদীতে গোমা সেতু নির্মানের প্রস্তাবনা মন্ত্রনালয়ে রাখেন জাসদ নেতা মোহাম্মদ মহসিন। একই সালের ২৬ মে বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন-এমপি স্বাক্ষরিত ডিও লেটার সড়ক জনপথ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের-এমপি বরাবর জমা দেন সাজদ নেতা মোহাম্মদ মহসিন। এর পর পরই মন্ত্রীর নির্দেশে সড়ক ও জনপথ বিভাগ গোমা সেতু প্রকল্প গ্রহন করে পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করে। সর্বশেষ প্রকল্পটি প্রি-একনেক থেকে এক নেকের সভায় উপস্থাপনা করা হলে সভার সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এমপি প্রকল্পের অনুমোদন এবং অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। সূত্র জানিয়েছে ডিও লেটার থেকে শুরু করে এক নেকের সভাপর্যন্ত প্রকল্পটি পৌছনের পেছনে মোহাম্মদ মহসিন এর অবদান অতুলনিয়। তার পীড়াপীড়িতেই যোগাযোগমন্ত্রী এবং মন্ত্রনালয় কর্তৃপক্ষ তিন বছরের মধ্যে গোমা সেতু’র স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। স্থানীয় কোন এমপি’র ডিও লেটার কিংবা সহযোগিতা ছাড়াই মোহাম্মদ মহসিন এর লক্ষ্যে পৌছাবার পেছনে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীরও অবদান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের।