জালিয়াতির মাধ্যমে স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালনা কমিটি গঠনের অভিযোগ

পিরোজপুর প্রতিবেদক ॥ ভান্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী স্কুল এন্ড কলেজে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটি গঠনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পিরোজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ কাজী সহিদুল হক লিখিতভাবে এই অভিযোগ করেন। তিনি জানান, গত ১৮ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু প্রিজাইডিং অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জহিরুল আলম মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় দুইজন অভিভাবকের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন এবং ৯ এপ্রিল একটি প্যানেলকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত করেন। এরপর ওই কমিটির প্রতিবেদন অধ্যক্ষকে না দিয়া নিজের কাছে সংরক্ষণ করেন। ফলে অবৈধ ঘোষণাকৃত শিক্ষকদ্বয় তাদের প্রার্থীতা পুনরুদ্ধারের জন্য পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। এরপর ১৩ এপ্রিল মোঃ ফিরোজ হাওলাদার নামের একজন অভিভাবক প্রার্থী মোঃ ফারুক হোসেন বাদী হয়ে পিরোজপুর জজ কোর্টের ভান্ডারিয়া সহকারী জজ আদালতে ভান্ডারিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ জহিরুল আলম, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ কাজী সহিদুল হক, প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামান সাকিন, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক এবং চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বাদী করে ১৩ এপ্রিল একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালত ১৯ এপ্রিল অভিযুক্ত ১-৫ নং বিবাদীর নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারীসহ তাদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।
অধ্যক্ষ অভিযোগ করেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশের কপি পাওয়ার পর তিনি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামান সাকিন কুটকৌশলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত করণিক বিমল কৃষ্ণ রায় ও সিনিয়র শিক্ষক মুহাঃ মিজানুর রহমানের মাধ্যমে অধ্যক্ষের অগোচরে তার স্বাক্ষর জাল করে নির্বাচন সংক্রান্ত রেজুলেশন তৈরী করেন এবং প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহৃত ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রতিবেদনসহ ২২ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ গভর্ণিং বডি বোর্ডে দাখিল করেন। পরবর্তীতে ২৮ এপ্রিল তা বোর্ড থেকে অনুমোদন করান। বিষয়টি অধ্যক্ষের নজরে আসার পর ওই কমিটি অবৈধ দাবি করে তা বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি লিখিতভাবে ২৯ এপ্রিল বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন এবং ৩০ এপ্রিল ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে অবৈধ ম্যানেজিং কমিটির অপকর্মের বিচার দাবি করেন।
সহিদুল আরও দাবি করেন বিষয়টির সাথে জড়িত হওয়ায় তাকে অবৈধ উপায়ে গঠিত ম্যানেজিং কমিটির লোকজন বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।