জাতীয় পার্টিতে আবারো ভাঙ্গন শুরু

রুবেল খান॥ নিজেদের কোন্দলে জর্জরিত জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগর শাখায় আবারো ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। একাধিক গ্রুপের কারনে ভাঙ্গনের শেষ প্রান্তে পৌছানো এ দল থেকে এক সময়ের প্রভাবশালী নেতারা চলে গিয়ে জনপ্রিয় জাপাকে প্রায় নিঃশেষ করেছে। গুটি কয়েক নেতারা কোনভাবে দলের ব্যানারে কার্যক্রম চালালেও তেমন কোন কর্মীর দেখা নেই। আর এমন অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে প্রথম পর্যায়ে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন কমিটির সদস্য সচিব বশির আহম্মেদ ঝুনুকে। সেই সাথে ঐ পদে কেন্দ্র থেকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির অপর নেতা আলতাফ হোসেন ভাট্টিকে। তবে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে সদস্য সচিবের পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন বলে দাবী করেছেন বশির আহম্মেদ ঝুনু। গতকাল সোমবার নিজ বাস ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবী করেন।
সূত্রমতে, এক সময় বরিশাল জেলা এবং মহানগরীতে জাতীয় পার্টি বেশ সক্রিয় ছিলো। বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র এবং প্রয়াত এমপি শওকত হোসেন হিরণ, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান প্রয়াত গোলাম মাওলা, সৈয়দ কাওসার হোসেন ও মনিরুজ্জামান ফারুকসহ বেশ নাম ডাকওয়ালা নেতা-কর্মীদের পদচারনায় মুখরিত ছিলো জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি। এসব নেতাদের দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই ভাটা লাগে জাতীয় পার্টিতে। এমন অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে বেশ কয়েকবার জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টিকে সক্রিয় করতে উদ্যোগী হন কেন্দ্রীয় কমিটি। কিন্তু হাল ধরা সংগঠন পরিচালনার জন্য যোগ্যতা সম্পন্ন নেতাদের অভাবে তা আর পেরে ওঠেনি কেন্দ্রীয় নেতারা। কেননা দীর্ঘ বছর থেকে লেগে থাকা দলটির মধ্যে নিজেদের দ্বন্দ্ব আর নেতা-কর্মীদের অসৌহার্দ পূর্ন কার্যক্রমই কেন্দ্রীয় নেতাদের দলকে সু-সংগঠিত করতে বাধা গ্রস্থ করে। নেতা-কর্মীদের মধ্যে এমন অসৌহার্দ পূর্ন কার্যক্রম এবং দলীয় কার্যক্রমে নিস্কৃয়তার কারনে একটা সময়ে দলের পরিচয় দেয়ার শেষ অবস্থান কার্যালয়টিও হারিয়ে ফেলেন বরিশাল জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা।
এদিকে বরিশাল জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টিকে নতুন করে সুসংগঠিত করতে দুটি শাখায় সম্মেলনের ডাক দেন কেন্দ্রীয় কমিটি। এজন্য জেলা ও মহানগর গঠন করা হয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি। এর মধ্যে মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন কমিটিতে এ্যাড. এ.কে.এম মরতুজা আবেদীনকে আহ্বায়ক ও বশির আহম্মেদ ঝুনুকে সদস্য সচিব এবং জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতে সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপুকে আহ্বায়ক করা হয়। তিন মাসের সময় দিয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হলেও গত প্রায় এক বছরের সম্মেলন আয়োজনে ব্যর্থ হন দুটি কমিটিই।
এর কারন হিসেবে দলীয় নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, যাদের দিয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করা হয়েছে তারা সবাই নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকেন। তারা সম্মেলনের আয়োজন না করে নিজেদের গ্রুপ ভাড়ি করতে শুরু করেন নতুন কোড়াম। তবে গতকাল অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মহানগর জাতীয় পার্টির প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব বলেন, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনের পর পরই জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির একটি গ্রুপের নেতা-কর্মীরা তাদের বিরোধীতা করেন। যার ফলে শেষ পর্যন্ত তারা সম্মেলন আয়োজন করতে ব্যর্থ হন।
এদিকে বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাড়াও রয়েছেন বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল। বরিশাল বিভাগের দায়িত্ব তাকে দেয়া হলেও তিনি নিজেই নিজের খবর রাখার সময় পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন তৃনমুলের নেতা-কর্মীরা। এমনকি তিনি সিনিয়র নেতা হলেও তার কমেন্ট ফলো করছে না দলের অন্যান্য নেতারা। কেননা তিনি নিজেই জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি নিয়ে গ্রুপিং এর রাজনীতির সৃষ্টি করেছেন এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদেরা। যে কারনে ভেঙ্গে পড়েছে গোটা জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির ভীতি। এসব কারনে এক সময়ের জাতীয় পার্টি আজ ধ্বংসের দার প্রান্তে পৌছেছে। পদ পদবি ধারী সিনিয়র নেতাদের গ্রুপিং এবং সাংগঠনিক কর্মকান্ড নিস্কৃয় থাকায় অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মীরা ইতোমধ্যে জাতীয় পার্টি ছেলে অন্যদলে স্থান করে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে পেয়েছেন সম্মান জনক পদ পদবিও।
এদিকে গতকাল সোমবার মহানগর জাতীয় পার্টি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দলকে চাঙ্গা ও সম্মেলন আয়োজনের লক্ষে যে কমিটি করা হয়েছিলো সেই মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব পদ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে বশির আহম্মেদ ঝুনুকে। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-দপ্তর সম্পাদক আবুল হাসান আহমেদ জুয়েল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনিক দুর্বলতা ও দলীয় কার্যক্রম না থাকায় বশির আহমেদ ঝুনুকে অব্যহতি প্রদান করেন। তার পদে সদস্য সচিব মনোনীত করা হয় আলতাফ হোসেন ভাট্টিকে।
অব্যহতি প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল সোমবার নিজ বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে বশির আহমেদ ঝুনু বলেন, দলের মধ্যে আন্ত দন্দ এবং দলীয় কার্যক্রমে পদে পদে তাদের বাধা দিয়ে আসছে অপর পক্ষ। যে কারনে তিনি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব পদ থেকে অব্যহতি চেয়েছেন। ইতোমধ্যে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন পত্র কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে প্রেরন করেছেন বলেও বাদী করেছেন তিনি।