জাটকা ও মা ইলিশ আহরন নিষিদ্ধকরন সফলে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রয়োজন-শিল্পমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ শিল্প মন্ত্রী আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু-এমপি বলেন, শুধু মাত্র আইন করে কিংবা অভিযান চালিয়ে দারিদ্র ও ক্ষুদার্থ মানুষকে জাটকা এবং মা ইলিশ আহরণ থেকে বিরত রাখা সম্ভব নয়। এজন্য বাস্তবতার নিরীখে কার্যকর কর্মসূচি নিতে হবে। ইলিশ মাছের উৎপাদন বাড়াতে গৃহিত জাটকা ও মা ইলিশ আহরন নিষিদ্ধকরন কর্মসূচি সফল করতে হলে গরিব জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রয়োজন রয়েছে। এটা করা সম্ভব হলে জাতীয় সম্পদ মা ইলিশ ও জাটকা আহরন বন্ধ করা সম্ভব হবে।
গতকাল বেলা ১২টার দিকে মৎস অধিদপ্তর আয়োজিত জাটকা সংরক্ষণে জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্প মন্ত্রী আমীর হোসেন আমু-এমপি এসব কথা বলেন।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ অডিটরিয়ামে মৎস ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব শেলীনা আফরোজ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি শিল্প মন্ত্রী আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু-এমপি আরো বলেন, দেশ স্বাধীনের পরে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৎস ও প্রানী সম্পদ রক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তার প্রচেষ্টায় আজ দেশে মৎস খাতে ব্যাপক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। জেলেরা পেয়েছে খাদ্য ও পরিচয়পত্র। তাই জাতীয় মাছ ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধি করতে জাটকা নিধন বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতি বছর ৫ লাখ মেট্রিকটন ইলিশ উৎপাদন হচ্ছে। যার মধ্যে শুধুমাত্র বাংলাদেশেই শতকরা ৬০ ভাগ উৎপাদিত হয়ে থাকে। বাকি ৪০ ভাগ মায়ানমার ও ভারতে উৎপাদন হচ্ছে। যার সবটুকুই সম্ভব হয়েছে বর্তমান সরকারের যুগপোযোগী কর্মসূচির কারনে। সরকারের গৃহিত কর্মসূচী মেনে চললে বাংলাদেশেই এক সময় ৫ লাখ টন ইলিশ উৎপাদন সম্ভব হবে।
শিল্প মন্ত্রী বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহনের পরই মৎস ও পশু সম্পদ খাতের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকার প্রতি বছর অক্টোবর মাসের প্রথম পূর্ণিমার তিন দিন পূর্বে থেকে ১১ দিন মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য অভিযান পরিচালনা, ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা আহরন, বিপনন ও পরিবহন নিষিদ্ধ করা, জাটকা আহরন থেকে বিরত থাকতে জেলে পরিবারকে মার্চ হতে জুন পর্যন্ত ১৬০ কেজি চাল বিতরন, জেলের বিকল্প কর্মসংস্থান ব্যবস্থা ও ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণার উদ্যোগ সহ নানা যুগপযোগী কর্মসূচি পালন করে আসছে সরকার। ভবিৎষ্যতেও জেলেদের খাদ্য, বাসস্থান ও কর্মসংস্থান করে দিতে সরকার বদ্ধ পরিকর।
বরিশালের বিভিন্ন জেলার জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভা বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেন, সরকারের পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সকলকে এক যোগে কাজ করতে হবে। একমাত্র বর্তমান সরকারের আমলেই আমরা জাতীর কাছে মাথা জাগিয়ে বলতে পারছি ‘বাংলাদেশেীরা মাছে ভাতে বাঙ্গলী’। তিনি তার বক্তব্যে জাটকা সংরক্ষণে বর্তমান সরকারের নানামুখি পদক্ষেপ’র কথা তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সরকার মা ইলিশ সরক্ষণের অভিযান পরিচালনা করছে, জেলেদের জন্য নিবন্ধন ব্যবস্থা, জেলেদের জন্য খাদ্য শস্য বিতরণ, ভিজিএফ কর্মসূচি গ্রহন ও বিকল্প কর্মস্থানের ব্যবস্থা করেছে। এতে করে মাছ ধরা নিষিদ্ধেও সময় জেলেরা দূর্ভোগে না পড়ে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিভিন্ন স্থানে সরকারের জাটকা ও মা ইলিশ আহরনে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্যেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অবৈধ ভাবে জাটকা ও মা ইলিশ আহরন করছে। যা আইনত দন্ডনীয়। জনপ্রতিনিধিরা দেশ বিরোধী এসব কর্মকান্ড করায় দেশের সাধারন মানুষ অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করতে উৎসাহি হচ্ছে। তাই সরকারের জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচি বাস্তায়ন করতে সবার আগে জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসার আহবান জানান মৎস ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ, বরিশাল-২ আসনের সাংসদ এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস, বরিশাল সদর-৫ আসনের সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজ, বরিশাল-৩ আসনের সাংসদ এ্যাড. শেখ মোহাম্মদ টিপু সুলতান ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য এ্যাড. মমতাজ বেগম।
এছাড়া অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন-বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউছ, বরিশাল রেঞ্জ’র ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবির, বরিশাল মেট্রো পলিটন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী, বরিশালের জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম, ভোলা জেলা প্রশাসক সেলিম রেজা, পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান, কোষ্টগার্ডের ক্যাপটেন কাওছার আলম, বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু সহ বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, মৎস অধিদপ্তর ও বরিশাল মৎস অফিসের সিনিয়র কর্মকর্তারা মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহন করেন।