জলাবদ্ধতায় বাড়ছে মশা-মাছি ও রোগের সংক্রমন॥ দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বরিশালে টানা বর্ষন আর জলাবদ্ধতায় বাড়ছে রোগের আশংকা। মশা-মাছি আর খুজলি-চুলকানির পাশাপাশি দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। জলাবদ্ধতার ফলে গভীর নলকূপের পানি বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে বলেও ধারনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যে কারনে রাস্তাঘাটে জমে থাকা নোংড়া পানি থেকে নিজেকে রক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র মতে, গত ক’দিনের টানা বর্ষনে নগরীর প্রতিটি রাস্তাঘাট এবং ফুটপাতে পানি জমেছে। এর পাশাপাশি প্লাবিত হয়েছে নি¤œ অঞ্চল। ফলে এসব অঞ্জলের মানুষ গৃহবন্ধি হয়ে পড়েছে।
এদিকে প্রবল বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় রোগ জীবানু বৃদ্ধির আশংকা করছে নগরবাসী। পুকুর, খাল এবং নর্দমার বিষাক্ত পানি সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো মানুষের শরীরের সাথে যুক্ত হয়ে ভয়াবহ ব্যাক্টেরিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে সাধারন মানুষ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এমন আশংকা বেশি থেকে যায়। কেননা দুরন্ত শিশুরাই বৃষ্টির কারনে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দুরন্তপনা করে। এসব নোংড়া পানি শিশুদের মুখে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিটে যাচ্ছে। এসব স্থান থেকে প্রবেশ করছে শরীরের ভেতরে।
জানতে চাইলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ভাস্কর সাহা বলেন, নোংড়া পানিতে রোগ জীবানু থাকে। এসব পানি শরীরে লাগলে বিভিন্ন রোগ ব্যাধি হতে পারে।
মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. মজিবর রহমান তালুকদার বলেন, জমে থাকা পানি শিশুদের জন্য মারাক্তক ক্ষতিকর। কেননা এই পানি থেকে শিশুর শরীরে নানা প্রকার রোগ হতে পারে। বিশেষ করে ডায়রিয়া এবং ভাইরাল ফিবার হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। এ কারনে শিশুদের জলাবদ্ধতায় জমে থাকা পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
এছাড়া তিনি বলেন, এসময়ে নলকূপের পানিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। কেননা চারদিকে পানি জমে গভীর নলকূপ (টিউবয়েল) এর পাইপ থেকে নিচে নেমে বিশুদ্ধ পানির সাথে যুক্ত হয়। এর মাধ্যমে নলকূপের পানিতে মিশে যায় জীবানু। এই পানি পানে শুধু মাত্র শিশুই নয়, সকল বয়সের মানুষের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ডার্মাটোলজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিপ্লাব কুমার দাস বলেন, নোংরা পানি বা জীবানুর কারনে মানুষের শরীরে খজলি, জলবসন্ত এবং চুলকানি হতে পারে। এমনকি এ থেকে ক্ষতস্থানে পচন ধরার মত বড় ধরনের রোগের সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি বলেন, বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে ভাইরাস জনিত নানা রোগের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি বেড়ে যায় মশা মাছির উৎপাত। জলাবদ্ধতার মাঝে মশা মাশি ডিম ছাড়লে পরে তা থেকে বাচ্চা জন্মায়। আর এসব মশা মাছি মানুষের গৃহে প্রবেশ, মানুষেল শরীরে হুল ফোটানো এবং খাবারের মাধ্যমে জীবানু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। তাই যতটা সম্ভব বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি থেকে নিজেকে সামলে রাখার পাশাপাশি বাসা বাড়িতে মশাড়ি অথবা মশা-মাছি নিধনকারী ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।