জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় স্থানীয় পরিকল্পনা প্রনয়নের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহনে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারকদের প্রতি আহবানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। মানবাধিকার জোট সভাপতি ডাঃ সৈয়দ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেয় মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস হোসেন, সাবেক প্রেসক্লাব সভাপতি এসএম ইকবাল, আইসিডিএর নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার জাহিদ, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল বিশ্বাস, মহিলা আ’লীগ মহানগর সভাপতি ফজিলাতুন্নেছা ফরিদ, ম্যাপের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর চক্রবর্তী, বেলার সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন, তৃণমূল সমাজ উন্নয়ন সংস্থার উপদেষ্টা আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য বাংলাদেশ অতি সামান্য দায়ী হলেও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত প্রতিক্রির মুখে সর্বাধিক বিপন্ন দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এদেশের সর্বাপেক্ষা দরিদ্র জনগোষ্ঠী জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সর্বাধিক বিপদের মুখে রয়েছে। এছাড়াও মানববন্ধনে বক্তারা ৮ দফা দাবী তুলে ধরেন। দাবী গুলো হলো জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনের গৃহীত সিদ্ধান্তানুযায়ী স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনাকে অবশ্যই জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
দেশের প্রধান ৬টি ইকোসিস্টেম উপকূল, চরাঞ্চল, খরা প্রবণ, প্লাবন সমভূমি, পাহাড়ি এবং হাওলাঞ্চলের জন্য পৃথক পৃথক স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনার অনুকরনীয় মডেল প্রণয়ন করতে হবে।
জলবায়ু অর্থায়নকে একটি তহবিল থেকে পরিচালনার লক্ষ্যে জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলকে আরও কার্যকরী ও দক্ষ করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে জলবায়ু আইন-২০১০ সংশোধন করে জলবায়ু ট্রাস্ট কমিটিতে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে হবে।
জেলা বাজেট এবং জেন্ডার বাজেটের মতো একটি পৃথক পৃথক জলবায়ু বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। ৭ম পঞ্চ-বাষিকী পরিকল্পনায় স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিপন্নতার ইনডেক্স প্রণয়ন করে সেই অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ ও অর্থায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জলবায়ু প্রকল্পগুলি অনুমোদনের ক্ষেত্রে দারিদ্র ও জলবায়ু বিপন্ন এলাকাগুলিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জাতীয় বাজেটে জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ অব্যহত রাখতে হবে।