জমে উঠেনি কোরবানীর পশুর হাট ॥ কশবা হাটে বিদেশী গরু

রুবেল খান ॥ বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সহ জেলায় ২০টি হাটে শুরু হয়েছে পশুর বেচা বিক্রি। সেই সাথে স্থাপন করা হয়েছে জাল টাকা সনাক্ত করণ মেশিন ও বিকাশ পয়েন্ট। এছাড়া আজ থেকে নামছে পশু পরীক্ষক টিম।
এদিকে কোরবানীর বাকি মাত্র তিন দিন। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত তেমন জমে উঠেনি বরিশালের হাটগুলোর বেচা বিক্রি। দেশি গরুর তুলনায় ভারত এবং নেপালি গরুর সংখ্যা ও মূল্য উর্ধ্বমুখি হওয়ায় এখন পর্যন্ত বেচা-বিক্রি জমছে না বলে দাবী করেছেন অনেকেই। তবে আজ শুক্রবার থেকে হাটে পশু বেচা বিক্রি কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন হাট ইজারাদার ও ফরিয়ারা।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের হাট বাজার শাখার বাজার পরিদর্শক নুরুল ইসলাম জানান, নগরীতে স্থায়ী এবং অস্থায়ী মিলিয়ে ৮টি হাটের অনুমোদন দিয়েছেন তারা। এর মধ্যে গত বৈশাখের প্রথমে নগরীর রূপাতলী সোনারগাও টেক্সটাইল মিল সংলগ্নে, কাশিপুর বাঘিয়া ও কশাইখানার স্থায়ী পশুর হাটের ইজারা প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া কোরবানী উপলক্ষে নগরীতে আরো ৫টি পশুর হাট অস্থায়ী ভিত্তিতে ইজারা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ পাঁচটি হাট বসেছে নগরীর সিএন্ডবি রোড সদর উপজেলা পরিষদ সংলগ্নে, কাউনিয়া টেক্সটাইল সংলগ্ন বটতলা, নবগ্রাম রোড, কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক ও কালিজিরা বাজারে। ইতোমধ্যে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদিত হাটগুলোতে পশুর বেচা-বিক্রি শুরু হয়েছে। নগরীর ৮টি হাটের মধ্যে রূপাতলী সোনারগাও টেক্সটাইল মিল সংলগ্ন স্থায়ী এবং সিএন্ডবি রোড থানা কাউন্সিল সংলগ্ন হাটে ব্যাপক সংখ্যক কোরবানীর গরু এবং খাসির সমাহার ঘটেছে। নগরীর অন্যান্য হাটের তুলনায় এ দুই হাটে দেশী গরুর সংখ্যা বেশি এবং মূল্য অনেকটা কম দেখা গেছে।
এদিকে সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে সদর উপজেলা সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আরো ১২টি হাটের ইজারা অনুমোদন দেয়া হয়েছে বরিশাল জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে। এর মধ্যে ৩টি স্থায়ী হলে বাকি ৯টি অস্থায়ী ভিত্তিতে হাট বসানো হয়েছে। বাকেরগঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়া, বানারীপাড়ার গুয়াচিত্রা ও গৌরনদীর ঐতিহ্যবাহী কসবার স্থায়ী পশুর হাট ইতোমধ্যে কিছুটা জমে উঠেছে। নগরীর হাটগুলোতে পশুর দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় ঐতিহ্যবাহী হাটগুলোতে ক্রেতা সংখ্যা অনেকটা বেশি দেখা গেছে।
বরিশাল জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার কর্মকর্তা হৃদয় ঘটক জানান, স্থায়ী হাটের বাইরে কোরবানীর আগের দিন পর্যন্ত অস্থায়ী ভিত্তিতে আরো ৯টি হাটের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া, কাগাশুরা ও গনপাড়ায় তিনটি, বাবুগঞ্জ উপজেলা রহমতপুর বিমানবন্দর মোড় বটতলা, মাধবপাশা চন্দ্রদীপ হাইস্কুল এন্ড কলেজ মাঠে দুটি, উজিরপুরের বরাকোঠা ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজ মাঠ, ধামুরা বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও শেরে বাংলা স্কুল মাঠ সহ ৪টি অস্থায়ী ভিত্তিতে অনুমোদিত হাটগুলোতে ইতিমধ্যে পশুর বেচা-বিক্রি শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ১২টি হাটের মধ্যে গৌরনদী উপজেলা ঐতিহ্যবাহী কশবা গরুর হাটে সব থেকে বেশি গরুর আমদানী করা হয়েছে। এ হাটে দেশি গরুর পাশাপাশি ভারত এবং নেপালী গরুর ব্যাপক সমাহার ঘটেছে। কশবা হাটের ফরিয়া জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তিনি যশোরের বেনাপোল থেকে গরু এনেছেন। তিনি ভারতীয় এবং নেপালী গরুর মূল্য এক লক্ষ ২০ হাজার থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হাকিয়েছেন। একই হাটের ফরিয়া তোতা মিয়া জানান, তিনি যশোরের বাইনাশারী থেকে গরু এনেছেন। তিনি একটি ভারতীয় গরুর মূল্য হাকিয়েছেন সর্বোচ্চ ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। এ হাটে বেচা-বিক্রি তেমন না জমলেও ক্রেতাদের অনেকটা ভিড় দেখা গেছে।
এদিকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে এবার হাটে কোরবানীর পশুর খাজনা ধরা হয়েছে প্রতি একশ টাকায় ৫টাকা। এছাড়া হাটগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পুলিশের উদ্যোগে বসানো হয়েছে জাল নোট সনাক্তকরন মেশিন। ব্রাক ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ক্রেতাদের সুবিধার্থে বসানো হয়েছে বিকাশ পয়েন্ট।
সিটি কর্পোরেশন এর স্বাস্থ্য বিভাগের ভেটেনারী চিকিৎসক ডাঃ মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, আজ থেকে তারা সিটি কর্পোরেশন এলাকার হাট পরিদর্শনে নামবেন। রোগাক্রান্ত পশু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন তারা। এজন্য ৫ সদস্য’র একটি টিম গঠন করা হয়েছে। ডাঃ রবিউল ইসলাম এর নেতৃত্বে টিমে দু’জন পরিদর্শক ও দু’জন কর্মী দায়িত্ব পালন করবেন।
সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের আহবানে পশুর পরীক্ষা নিরীক্ষায় আজ থেকে মাঠে নামছে প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের বেশ কয়েকটি টিম। হাটগুলোতে ভ্রাম্যমান অবস্থায় তারা পশুর রোগ সহ বিভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে। এদের পাশাপাশি ভ্রাম্যমান আদালত ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানানো হয়েছে।