জমি দখল করতে আবারো রাতের আঁধারে হামলা ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর বিএম কলেজ এলাকায় টিএন্ডটি কার্যালয়ের সামনে মন্দিরে আবারো হামলা, ভাংচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার গভীর রাতে ক্ষমতাসীন দলের নেতা কাউন্সিলর ও জেলা ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে হামলাকারীরা মনসা ও কালি’র প্রতিমা ভাংচুর করে পুকুরে ফেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বাঁধাদানকারী গৃহবধূকে মারধর করেছে হামলাকারীরা। এর আগে গত ২৭ আগষ্ট মন্দির সংলগ্ন ঐ জমি দখলে নিতে ক্ষমতাসীন দলের ওই নেতারা রাতের আধারে মন্দিরে টিনের বেড়া ও চালা লুট করেছে।
বিরোধীয় ওই জমির মালিক দাবীদার লিপি রানী দাস জানান, মন্দির এবং পাশের ২৩ শতাংশ জমি নিয়ে একই এলাকার জাহিদুর রহমান ওরফে চাউলা জাহিদ এবং সবুজ’র সাথে বিরোধ রয়েছে। জমি নিয়ে আদালতে মামলা পরিচালনার জন্য জাহিদ ওরফে চাউলা জাহিদকে পাওয়ার অব এটর্নী দেয় রানী বালা শীল। শর্ত ছিল মামলার রায় পাওয়ার পর জাহিদকে তিন শতাংশ জমি দেয়া হবে। রানী বালার মৃত্যু পর জমির রায় নিজেদের পক্ষে পাওয়ার সুযোগ নেয় জাহিদ। মামলার রায়ের নথিপথ গোপন করে ভুয়া দলিল তৈরি করে জমির মালিকানা দাবি করে দখলের চেষ্টা করছে। এছাড়াও গোপনে জাহিদ জমির কিছু অংশ সবুজ’র কাছে বিক্রি করেছে।
লিপি রানী দাস অভিযোগ করেন, বেশ কিছু দিন ধরে জমি দখলের জন্য পায়তারা শুরু করে। জমির দখল নিতে জাহিদ এবং সবুজ ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কাউন্সিলর এবং জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও বিএম কলেজ শাখার ছাত্র নেতার শরনাপন্ন হয়। বিষয়টি সমাধান করে দেয়াসহ জমি দখলে এনে দেয়ার শর্তে ১৮ লাখ টাকা লেনদেন করেছে জাহিদ ও সবুজ।  এই জন্য লিপিকে ৪ লাখ টাকা নেয়ার প্রস্তাব দেয় স্থানীয়  কাউন্সিলর। এতে রাজি না হওয়ায় গত ২৪ আগস্ট লিপি’র বাবা তপন কুমার শীলকে অপহরনের চেষ্টা করে স্থানীয় কাউন্সিলর এবং জাহিদ ওরফে চাউলা জাহিদ এর লোকজন। ওই দিনই থানায় সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে। এই ঘটনার তিন দিনের মাথায় ২৭ আগস্ট গভীর রাতে বিরোধী জমিতে থাকা গত ৮৫ বছরের পুরনো মনসা ও কালি মন্দিরে হামলা চালায়। এসময় তারা দুই নারীকে মারধর করে মন্দিরের বেড়া টিনের চালা লুট করে। এ নিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ক্ষিপ্ত হয় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাত সোয়া ১টা থেকে তিনটা পর্যন্ত দফায় দফায় হামলা এবং ভাংচুর চালিয়ে মনসা ও কালি’র প্রতিমা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।  লিপি রানী দাস অভিযোগ করেন, ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হোসেন লিটুর লোকজন নিয়ে মন্দির চুরির চেষ্টা করে চাউলা জাহিদ। বিষয়টি টের পেলে মন্দিরের পাশে বসবাসকারী জমির মালিক মিলন চন্দ্র শীল’র স্ত্রী ঝুমা পাল বাঁধা দেয়। পুলিশকে সংবাদ দিলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। তখন প্রতিমা নিয়ে পালাতে গিয়ে পড়ে যায় তারা। এতে প্রতিমা ভেঙ্গে যায়। পরে প্রতিমা ভেঙ্গে গুড়িয়ে বিএম কলেজের পুকুরে ফেলে দেয় হামলাকারীরা।
লিপি অভিযোগ করে বলেন, বিষয়টি থানা পুলিশকে বার বার অবহিত করা হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। যে কারনে প্রতীমা ভাংচুরের পর সকাল ৬টার দিকে ইট-বালু নিয়ে ইমারত নির্মানের মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা করে। পরে অবশ্য পুলিশের একটি টহল টিম এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। এঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ মো. আওলাদ হোসেন বলেন, অভিযোগ তদন্তের জন্য এসআই মশিউর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এব্যাপারে কাউন্সিলর লিটু জানান, আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দেয়া হচ্ছে। এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতেই আমি কাউন্সিলর হিসেবে লিপিকে টাকার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। প্রকৃতপক্ষে লিপির কোন দলিল নেই। স্থানীয় শালিসীতেও এটি প্রমাণিত হয়েছে। আমি মনে করি আমার রাজনৈতিক ইমেজ নষ্ট করার জন্য একটি গ্রুপ আমার বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।