জমজমাট নগরীর ইফতার বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ রমজানে নগরবাসীকে শতাধিক ধরনের মুখরোচক ইফতারের স্বাদ দিতে জমে উঠেছে স্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ও অস্থায়ী মৌসুমী ব্যবসায়ীদের ইফতারী পন্য বিক্রয়। বাহারী নাম ও দেশি বিদেশী স্বাদের এ সকল মৌসুমি ইফতার ব্যবসায়ীরা এখন কাটাচ্ছে ব্যস্ত সময়। প্রতিদিন দুপুর গড়িয়ে বিকেলে পড়তেই ক্রেতাদের ভীড়ে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে এ সকল প্রতিষ্ঠান। দামের তোয়াক্কা না করে ইফতারে ২/৩ ঘন্টা পূর্বে ক্রেতারা কিনে নিচ্ছেন সকল ইফতার। কেউ কেউ আবার ফিরছেন ইফতার না পেয়ে হতাশ হয়েও। নগরীর প্রতিটি ব্যস্ত
এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট ইফতার বিক্রয়ের হাট। বগুরা রোডের নাজেমস্ ইফতার হাউস, ফজলুল হক এভিনিউর রোজ গার্ডেন, গার্ডেন ইন রেস্তোরা, চায়না প্যালেস, পুলিশ লাইনস্ রোডের কীতর্নখোলা ইফতার হাউস, রিভার ক্যাফে, মুনসির গ্যারেজ এলাকার সিএফসি ইফতার ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের বিক্রি ভালো বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। তবে এদের মধ্যে ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে নাজেমস্ ইফতার। তাদের কিছু বিশেষ আইটেমের ্ জন্যই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে তারা বলে জানিয়েছে খোদ ক্রেতারাই। তবে পিছিয়ে নেই অন্যরাও কারন ক্রেতাদের নিত্য নতুন ধরনের ইফতারী স্বাদ দিতে তাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে নিজস্ব বিশেষ আইটেম। যা প্রতিদিন লুফে নিতে উপচে পড়ছে ক্রেতাদের ভীড়। শুধু তৈরি ইফতারই নয়, রমজানে ইফতারের অন্যতম আকর্ষন ফল। আর সেই ফল সংগ্রহের জন্যই সমান ভীড় নগরীর ফলের দোকানে। ফরমালিন মুক্ত ভাল ফলের খোজে দোকান থেকে দোকান ঘুরে তারা কিনছেন। রমজানে নৈতিকতার বিষয়টি মাথায় রেখে দোকানিরাও চেষ্টা করছেন ফরমালিনমুক্ত ফল সরবরাহের। এ সকল বিষয়ে তথ্যানুসন্ধানকালে জানা জায়, নগরীর ইফতার বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো কিছু সাধারন ইফতার বিক্রয় করে যা প্রতিটি প্রতিষ্ঠনের রয়েছে। যেমন পিয়াজু, ডিম চপ, আলুর চপ, ভেজিটেবল চপ, হালিম, বেগুনী, জিলাপী, বুরিন্দা, জর্দা, বোরহানী, চিকেন কুলি ইত্যাদি। এ সকল ইফতার সামগ্রী প্রতি পিস এর মূল্য ৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। তবে ক্রেতাদের ভীর এ সকল ইফতারের জন্য হয়না বলে দোকানীরা জানিয়েছেন। তাদের ভীড় হয় বিশেষ ইফতার সামগ্রী সংগ্রহে। বিশেষ আইটেম এর মধ্যে নাজেম’স্, রিভারক্যাফে ও সিএফসি এগিয়ে। নাজেম’স্ এর বিশেষ আইটেম গুলো হচ্ছে, ফিরনি, তেহারী, শাহী জেলাপী, মোরগ পোলাউ, কাচ্চি বিরিয়ানি, হালিম, শাহি জর্দ্দা, মুরগী মোসাল্লাম, খাসির রান ও গরুর কালো ভূনা। মোট ২১টি ভিন্ন ভিন্ন আইটেম তৈরি করেন বলে জানিয়েছেন নাজেম’স ইফতার এর সত্ত্বাধিকারী ফরিদুর রহমান রেজা। তাদের তৈরি বিশেষ আইটেম গুলোর ক্রেতা চাহিদা প্রচুর বলেন তিনি। ইফতারের সময়ের অনেক পূর্বেই তাদের বিক্রয় সম্পন্ন হয় এবং অনেক সময় ক্রেতারা তাদের সরবরাহ বাড়ানোরও তাগিদ দিয়ে থাকেন বলে জানিয়েছেন। রেজা আরও বলেন, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী যথাসম্ভব ভাল মানের ইফতার সরবরাহের চেষ্টা করেন তারা। আর ক্রেতাদের ভাল মানের ইফতার সরবরাহের ফলেই এখন তারা ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে। অন্যদিকে রিভারক্যাফে’র আছে বেশ কিছু নতুন ও বিশেষ আইটেমের ইফতার। যেমন লেমোনেড, মাটন চপ, চিকেন চপ, ফিস চপ, ক্রিসপি চিকেন, প্রণ চপ, মাটন ভিন্দালু, চিকেন নাগেস, মুরগী মাসাল্লাম, ছানার পোলাও, চানা কাবুলী ইত্যাদি। ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় পিছিয়ে নেই তারাও বলেন সত্ত্বাধিকারী। সিএফসি’র ইফতারের বিশেষ আইটেমের মধ্যে আছে, শাক ফ্লোরি, চিকেন নাগেচ, খাসি কাবাব, চিকেন কোপ্তা, চিংড়ি চপ, ফিসবাস, ফিস চপ ইত্যাদি। তাদের তৈরি ইফতারের ক্রেতাদের মধ্যে অনেক চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিক্রয়কারীরা। অন্যদিকে ফলের বাজার বিষয়ে নগরীর ফলপট্টি এলাকার মেসার্স বরিশাল টেডার্স এর সত্ত্বাধিকারী সুমন জানান, রমজানের ইফতারের অন্যতম উপকরণ ফল এর বিক্রিও হচ্ছে খুবই ভাল। প্রায় সব ধরনের ফলই বিক্রি হচ্ছে। উপকরণ খেজুর বিক্রি হচ্ছে খুবই ভাল। স্থানীয় খেজুর, ডাবাস খেজুর, নাগাল খেজুর, বড়ই (লুলু), ফরিদা ও মরিয়ম খেজুর সহ বিভিন্ন ধরনের খেজুর বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ৯০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। আপেল বিক্রি হচ্ছে দুই প্রজাতির। দক্ষিণ আফ্রিকার সোনালী আপেল ও নিউজিল্যান্ডের গালা আপেল (লাল) বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে প্রতিকেজি ১৮০ ও ১৬০ টাকায়। মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা প্রতি কেজি। আমের মধ্যে বেশি বিক্রি হচ্ছে হিমসাগর, ল্যাংড়া ও রূপালি প্রজাতির। দাম প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকা। আঙ্গুর ইন্ডিয়ান ও অস্ট্রেলিয়ান (লাল) বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০০ ও ৪০০ টাকায়। চায়না কমলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ টাকায়। এ সকল তথ্য দিয়ে সুমন আরও বলেন, রমজানে ক্রেতাদের ফলের চাহিদা বেড়েছে। একই সাথে বেড়েছে বিক্রিও তাই এই পবিত্র মাসে কোন ধরনের ভেজাল তথা ফরমালিন যুক্ত ফল ক্রেতাদের হাতে পৌছে সে বিষয়ে সজাগ রয়েছেন তিনি সহ সকল ফল বিক্রেতারা।