জমকালো আয়োজনে বরিশালে বিশ্বমানের রেস্তোরাঁ “হান্ডি কড়াই” উদ্বোধন

সিদ্দিকুর রহমান ॥ ফিতা কাটা, আতঁশবাজি, ফানুস উড়ানো এবং জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের রেস্তোরা “হান্ডি কড়াই” এর উদ্বোধন হয়েছে। পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল, হান্ডি কড়াইয়ের স্বত্বাধিকারী শফিকুল আলম গুলজার, প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক পুলক চ্যাটার্জী, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও দৈনিক আজকের পরিবর্তন পত্রিকার সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ, সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার আজাদ রহমান, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও দৈনিক মতবাদ সম্পাদক মুরাদ আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুর রহমান মিরন, রাহাত খান, ফিরদাউস সোহাগ, প্রথম সকালের সম্পাদক কাজী আল মামুন, দৈনিক কীর্তনখোলা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এ এফ এম আনোয়ারুল হক, বরিশালের আজকাল পত্রিকার সম্পাদক কাজী আবদুল্লাহ আল রাসেল, শামীম আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা এনায়েত হোসেন চৌধুরী সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিনই বরিশালের সাধারন মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আমন্ত্রিত অতিথিরা আন্তর্জাতিক মানের রেস্তোরা এই “হান্ডি কড়াই” এর অসাধারণ পরিবেশ, বিশ্বমানের আসবাবপত্র, মনমুগ্ধকর ব্যতিক্রমী চোখ ধাঁধানো সাজসজ্জা, মানসম্মত সেবা ও সুস্বাদু খাবারের স্বাদ নিয়ে বেশ কিছু সময় আনন্দ-উদ্দীপনায় মেতে থাকে। এখানে সুস্বাদু খাবার উপভোগের সাথে সাথে উপর থেকে কীর্তনখোলা নদী ও দপদপিয়া সেতু দেখে আমন্ত্রিত অতিথিরা মুগ্ধ হয়ে যান। এছাড়াও প্রথমবারের মতো হান্ডি কড়াইয়ে লাইভ কিচেন দেখে অনেকেই বিস্মিত হন। বরিশাল ছাড়াও রাজধানীতেও এরকম আয়োজন দুর্লভ। এদিকে “হান্ডি কড়াই” রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানান, নগরীর এটাই প্রথম রেষ্টুরেন্ট যেখানে রুফটপ রেস্টুরেন্টের সেবা পাওয়া যাবে। চারিদিকে উন্মুক্ত পরিবেশে খোলা আকাশের নিচে নগরবাসীর সেবা দিতে তৈরি করা হয়েছে এক চমৎকার পরিবেশ। এখানে এক সঙ্গে ১৬০ জনের বসার ব্যবস্থা করেছেন তারা। রেষ্টুরেন্টে ব্যবহৃত সকল আসবাবপত্র আনা হয়েছে দুবাই থেকে। রেস্টুরেন্টের ব্যাতিক্রমি সাজ সজ্জার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, মেঝে থেকে শুরু করে আলোকসজ্জায় ব্যাবহার করা হয়েছে উন্নতমানের সব উপকরণ। রেস্টরেন্টের প্রতিটি কোণ সাজানো হয়েছে দেশী বিদেশী বিভিন্ন কৃত্রিম গাছ দিয়ে। মাটির প্রায় শত ফুট উপরে বসে খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতির স্পর্শ পেতে রেস্টুরেন্টের কিছু অংশে স্বচ্ছ কাঁচের মেঝে নিখুতভাবে সাজানো হয়েছে সবুজ ঘাসের আচ্ছাদন দিয়ে। বৃষ্টি এবং রোদের তাপ থেকে রক্ষা পেতে রাখা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ছাতার ব্যবস্থা। রাতের বেলা রেষ্টেুরেন্টে এক মায়াবী আলোয় সপ্নীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেক দূর থেকেও রাতের বেলা “হান্ডি কড়াই” রেষ্টুরেন্টের আলোকসজ্জা দেখা যাবে। সকল শ্রেনীর রুচিশীল মানুষের জন্য সাধ্যের মধ্যেই এই রেস্টুরেন্টে থাকবে ভারতীয়, চাইনিজ, থাই ও দেশী বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা। বিভিন্ন অনুষ্ঠান উদযাপনের জন্য এখানে রয়েছে যথেষ্ট পরিসর। ৩৬ জন ওয়েটার ও প্রশিক্ষিত ১০ জন দেশী বিদেশি বাবুর্চি রয়েছে রান্নার জন্য। রেস্টুরেন্টে আগমনকারীদের সুবিধার্থে স্থাপন করা হয়েছে আলাদা একটি লিফট। এছাড়াও এখানে রয়েছে ফ্যামিলি ও ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের ব্যবস্থা। এমন পরিবেশ ও খাবারের জন্য নগরবাসীর পকেট থেকে অন্যান্য রেষ্টুরেন্টের চেয়ে বেশি খরচ হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন কর্তৃপক্ষ। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আন্তজার্তিক মানের রেস্তোরা “হান্ডি কড়াই” এর স্বত্বাধিকারী শফিকুল আলম গুলজার জানান, রেস্টুরেন্ট “হান্ডি কড়াই” তে আমরা চেষ্টা করেছি উন্নত দেশগুলোর মত শান্ত পরিবেশে অবসর ও বিশেষ মুহুর্ত কাটানোর সুযোগ করে দেয়ার। নগরবাসীর জন্য সাধ্যের মধ্যেই কোলাহল মুক্ত একটি অপূর্ব পরিবেশ তৈরি করার প্রত্যয়ই তিনি শুরু করেছেন নগরীর প্রথম এই রুফটপ রেস্টুরেন্ট “হান্ডি কড়াই”।