জনসংখ্যা ২ উপজেলায় বেড়েছে, কমেছে ৮

ওয়াহিদ রাসেল॥ বিগত ১০ বছরে বরিশাল জেলার মধ্যে সদর ও গৌরনদী উপজেলায় জনসংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু অন্য উপজেলায় কমেছে। জেলা পরিসংখ্যান অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে। সদর উপজেলায় জনসংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি জমির পরিমান। যার ফলে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে ঘনবসতি। মানুষের জীবন ধানের মান উন্নত হলেও ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে মাথাপিছু জমির পরিমান। বসবাসের স্থান হয়ে যাচ্ছে সংকীর্ন। পরিসংখ্যান দপ্তর থেকে পাওয়া এক তথ্যে জানা গেছে, ২০০১ সালে বরিশাল সদর উপজেলার মোট জনসংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৩২ জন, যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৫ লাখ ২৭ হাজার ১৭ জন। এতে মোট বেড়েছে ৬৩ হাজার ৯৮৫ জন। যার মধ্যে ছেলেদের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ২৯০ জন, যা বর্তমানে ২ লাখ ৬৭ হাজার ২০৭ জন। মেয়েদের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৪২ জন, বর্তমানে রয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮১০জন। এর মধ্যে শহরে বসবাসের সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬৮ জন এবং গ্রামে কমেছে ৩০ হাজার ৯৪৩জন। বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার পূর্বে ১ পয়েন্টে ১২ হলেও বর্তমানে ১ পয়েন্ট ২৮ হয়েছে যা মোট পরিবারের ৯৩ হাজার ৯৭৩ জন যা এখন বেড়ে দাড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৭৩টি পরিবারে। যার মধ্যে
শহরে বেড়েছে ৩১ হাজার ৭৭৩টি এবং গ্রামে কমেছে ৫ হাজার ৯৬৮টি পরিবার। এই জনসংখ্যা বাড়ার কারণ হিসেবে দেখা যায় বরিশাল বিভাগের অন্যান্য উপজেলাগুলো মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য শহরমুখী হচ্ছে। জীবন ও জীবিকার তাগিদে শহরে বসবাস শুরু করে। অন্যান্য উপজেলাগুলোতে পূর্বের তুলনায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে মুলাদীতে ২০০১ সালে মোট জনসংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ২৮৩ জন, যা বর্তমানে কমে হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৭৫জন। যার মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ছিল ৯২ হাজার ৮৪জন এবং নারীর সংখ্যা ছিল ৯১ হাজার ১৯৯জন। বর্তমানে ওই উপজেলায় পুরুষের সংখ্যা কমেছে ৯ হাজার ৫৩৯ জন এবং নারীর সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ৩১ জন। ওই উপজেলার মোট পরিবারের সংখ্যা পূর্বের চেয়ে বেড়েছে ২ হাজার ৫৭০টি। বানারীপাড়া উপজেলার মোট জনসংখ্যার পরিমাণ ছিল ১লাখ ৫২ হাজার ৮৭৭জন। যার মধ্যে থেকে কমেছে ৪ হাজার ৬৮৯জন। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা কমেছে ৩২৭ জন। ওই উপজেলার গ্রামের তুলনায় শহরতলীতে জনসংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ৬৭৩ জনের। মোট পরিবারের সংখ্যা হল ৩৪ হাজার ১৮৬টি। শহরে বেড়েছে ৬৮৯টি পরিবার। একই ভাবে হিজলা উপজেলার জনসংখ্যা কমে দাড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৭ জনে, এতে মোট কমেছে ২৮ হাজার ৪৩১জন। এর মধ্যে পুরুষ কমেছে ১৭ হাজার ১২৯ জন এবং নারী কমেছে ১১ হাজার ৩০২ জন। শহরে বসবাসের সংখ্যা বেড়েছে ৭৭৮ জনের। উপজেলার মোট পরিবারের সংখ্যা ছিল ৩৪ হাজার ৩২৫টি। এর মধ্যে কমেছে ৩ হাজার ৭৯৬টি। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মোট জনসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার ৩৬৪জন। এতে কমেছে ৩ হাজার ৩১৮ জন। এর মধ্যে মোট পুরুষের সংখ্যা কমেছে ৭ হাজার ৪৭৪জন এবং নারীর সংখ্যা ৪ হাজার ১৫৬জন। এদের মধ্যে শহরে ৭৮৬ জন বেশি লোকের বসবাস হলেও গ্রামের বেড়েছে ৬৪জন। ৬ হাজার ৫১২টি পরিবার বেড়ে পরিবারের মোট সংখ্যা হয়েছে ৬৫ হাজার ২৩১জন। শহরতলীতে বেড়েছে ৬৮৫টি পরিবারের বসবাস। উজিরপুর উপজেলায় মোট জনসংখ্যার ৬ হাজার ৪১৫ জন কমে হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫৯ জন। যার মধ্যে পুরুষের পরিমাণ ৮ হাজার ৮৩০ জন কমলেও নারীর সংখ্যা ২ হাজার ৪১৫ জন বেড়ে ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩০ জন দাড়িয়েছে। একই সাথে ৪ হাজার ৩৬৩টি নতুন পরিচার যুক্ত হয়ে মোট পরিবারের সংখ্যা হয়েছে ৫২ হাজার ৯৫৯টি। শহরতলীতে বেড়েছে ৪৫৬টি পরিবারের বসবাস। বাবুগঞ্জের বসতি ৬ হাজার ৩৭৯ জন কমে বর্তমানে রয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৬১জনে। যার মধ্যে ৬ হাজার ৪২২ জন পুরুষ কমে দাড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৫৮৬ জনে এবং নারীর সংখ্যা ৪৩ জন বেড়ে দাড়িয়েছে ৭২ হাজার৭৭৫ জনে। পরিবারের সংখ্যা ১ হাজার ৭০৫টি বেড়ে হয়েছে ৩১ হাজার ৬৬৩টি পরিবারের বসবাস। এছাড়াও বাকেরগঞ্জ উপজেলার মোট জনসংখ্যার ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৯০৯ জনের মধ্যে কমেছে ৪০ হাজার ৬৪ জন জনসংখ্যা। যার মধ্যে পুরুষ ২৫ হাজার ১৫১ জন কমে হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯২৫ জন এবং ১৪ হাজার ৯৬৩ জন কমে হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯২০ জন। একই সাথে ৮৪০টি পরিবারের সংখ্যা কমে মোট পরিবার হয়েছে ৭১ হাজার ৭৩৭টি। এর মধ্যে শহরতলীতে ৪৩৯টি পরিবারের সংখ্যা বেড়ে মোট দাড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৯৫টি পরিবারে। অন্যান্য উপজেলাগুলোর তুলনায় গৌরনদীতে জনসংখ্যার বসতি বেড়েছে। ওই অঞ্চলের পূর্বের জনসংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮০ হাজার ২১৯ জন, যা বর্তমানে হয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৮৬জন। যার মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেড়েছে ২৫০ জন এবং নারীর সংখ্যা ৮ হাজার ১১৭জন। শহরে বসবাসের সংখ্যা ৪৭২৪ জন বেড়ে হয়েছে ৪২ হাজার ৪৩৮জন। মোট পরিবারের সংখ্যা ৩৭ হাজার ৪১ জন থেকে বেড়ে হয়েছে ৪১ হাজার ৫৬১ জন। সর্বশেষ আগৈলঝাড়া উপজেলার জনসংখ্যা ৬ হাজার ২০৫ জন কমে হয়েছে ১লাখ ৪৯ হাজার ৪৫৬জন। পুরুষের সংখ্যা ৫ হাজার ৭৭২জন কমে হয়েছে ৭২ হাজার ৪২১ ও মহিলাদের সংখ্যা ৪৩৩ জন কমে হয়েছে ৭৭ হাজার ৩৫ জন। ওই উপজেলার ১ হাজার ২৪১টি পরিবার বেড়ে ৩২ হাজার ৮৪০টি পরিবার হয়েছে যার মধ্যে শহরতলীতে বসবাস করে ২ হাজার ৪০৫টি পরিবার। পরিসংখ্যানের তথ্যানুসারে জানাগেছে ওই উপজেলা গুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ কর্মসংস্থান না থাকায় তারা প্রতিনিয়তই সদর উপজেলা সহ বিভিন্ন শহরে পাড়ি দিচ্ছে। যার ফলে ওই এলাকা বা অঞ্চলগুলোতে জনসংখ্যার হার কমলেও তার চাপ এসে পড়ছে বিভাগীয় শহর গুলোতে। কিন্তু বিভাগীয় শহরগুলোতে ও জনসংখ্যার তুলনায় কর্মসংস্থান না বাড়লে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়ছে মানুষ।