জনগণ চাইলে জনসেবা করতে চান সমাজসেবক আতিক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ তিনি জনপ্রতিনিধি নন। নয় কোন সরকারি আমলাও। একজন রাজনৈতিক এবং ব্যবসায়ী মাত্র। এই পরিচিতিটুকু দিয়েই ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন-এমপির সহযোগিতায় নিজ এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন দেশ ও জনগনের উন্নয়ন শুধু জনপ্রতিধি হয়েই নয়; সদিচ্ছা থাকলে সাধারন মানুষ হিসেবেও করা যায়। এই মানুষটি হলেন বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতী ইউনিয়নের কৃতি সন্তান, বামরাজনৈতিক সংগঠন যুব মৈত্রী’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পরিচালক মো. আতিকুর রহমান। এদিকে তার এই সদিচ্ছা শুধু নিজেকেই আত্মবিশ্বাসী করে তোলেনি। জনমনেও শক্তি সঞ্চার করেছে। তাইতো তিনি আজ মুলাদী ও বাবুগঞ্জ উপজেলাবাসীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। এ জনপ্রিয়তা তাকে নিয়ে জনপ্রতিনিধিত্বের স্বপ্নও দেখাচ্ছে জনগনকে। তবে জনগনের দাবী এবং ইচ্ছা শক্তির মধ্যেও একজন সাধারন মানুষ হিসেবে নিজের নীতি ও আদর্শকে ধরে রাখতে অটুট থাকার কথা বলেছেন আতিকুর রহমান। তার ইচ্ছা-শক্তি এবং নীতি-আদর্শের অভিভাবক বাংলাদেশের ওয়ারর্কার্স পার্টির সভাপতি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন-এমপি’র সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না বলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে জানিয়েছেন তিনি।

জানাগেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাসিন্দা বজলুর রহমান মাষ্টার এর ছেলে আতিকুর রহমান। জন্মসূত্রেই তিনি এই উপজেলার নাগরিক। তার ভাই মশিউর রহমান বর্তমানে দেহেরগতি মডেল ইউনিয়নে পরপর দু’বারের নির্বাচিত এবং পদক প্রাপ্ত সভাপতি। ছাত্রজীবন থেকেই বাম রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত আতিকুর রহমান। পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এর আদর্শে অনুপ্রানিত হয়েই ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনীতি পদার্পন তার। বর্তমানে তিনি যুব মৈত্রী’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল এর পরিচালক হিসেবে রয়েছেন। এর বাইরে ঠিকাদারী ব্যবসাও রয়েছে তার।

এদিকে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক জীবনে তার অর্জনের সিংহভাগই ব্যয় করেছেন নিজের জন্মস্থান বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার জীবন মান উন্নয়নে। জনপদ, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, কমিউনিটি সেন্টার, হাট-বাজার সহ এমন কোন স্থান নেই যে তার সহযোগিতার হাত পৌঁছেনি। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে তিনি যা করে দেখিয়েছেন তা যুগে যুগে অন্য কোন জনপ্রতিনিধিরাও করে দেখাতে পারেননি। তবে এলাকাভিত্তিক যে উন্নয়ন তিনি করেছেন তার শতভাগ অবদান রাশেদ খান মেনন-এমপি’র কাধেই দিয়েছেন তরুন সমাজসেবক আতিকুর রহমান।

পরিবর্তনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে আতিকুর রহমান বলেন, আমার নেতা রাশেদ খান মেনন-এমপি’র সহযোগিতায় যতটুকু পেরেছি এলাকার মান উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করেছি। বিনিময়ে কিছু খুঁজিনি। মানুষ আমাকে ভালোবাসে এর থেকে বড় চাওয়া-পাওয়া কি হতে পারে?

বাবুগঞ্জ এবং মুলাদী উপজেলায় তার করা কিছু উন্নয়নের ফিরিস্থি তুলে ধরতে গিয়ে আতিকুর রহমান বলেন, নদী ভাঙ্গন খ্যাত এলাকা বাবুগঞ্জ এবং মুলাদী। এ দুটি উপজেলার মধ্যে বাবুগঞ্জে সড়ক যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছি। এক সময় বাবুগঞ্জের মানুষ বর্ষা মৌসুমে জুতা পায়ে হাটতে পারতো না। কিন্তু এখন বর্ষা মৌসুমেও সেই রাস্তায় বাস চলাচল করছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মান করে দিয়েছি। যা কোন জনপ্রতিনিধির পক্ষে সম্ভব হয়নি। শুধু তাই নয়, বাবুগঞ্জবাসীকে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে বাঁচাতে পাইল স্থাপন এবং ভাঙ্গন কবলিত মানুষের উন্নয়নে কাজ করেছি।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, আতিকুর রহমান বেশিরভাগ উন্নয়ন করেছেন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা কেন্দ্রিক। তার করা উন্নয়নের তালিকায় রয়েছে জামেনা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ইদেলকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় দুটিতে তৃতীয় তলা করে পৃথক দুটি একাডেমিক ভবন করে দিয়েছেন আতিকুর রহমান। আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজে ৫০ আসন বিশিষ্ট হোস্টেল নির্মান, বাহেরচর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, কে. কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন, মধ্য ও পশ্চিম ভূতেরদিয়ায় দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন, রাকুদিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাবুগঞ্জ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন, রাকুদিয়া দাখিল মাদ্রাসা ভবন, রানির স্কুলে একাডেমিক ভবন নির্মানে ৭০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ এনে দিয়েছেন। এছাড়াও আগরপুর সবুজ বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কেদারপুর দাখিল মাদ্রাসা ও চাঁদপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মানের জন্য ৭০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দের ব্যবস্থা, পশ্চিম ভুতেরদিয়া আলিয়া মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন, মাধবপাশা চন্দ্রদ্বীপ স্কুল এন্ড কলেজে ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ এবং রাশেদ খান মেনন মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মানে অর্থ বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে ছোটাছুটি করেছেন।

এর বাইরে পাঠাগার এবং ৫টি মসজিদ উন্নয়নে ২০ লাখ টাকা করে অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি। বাবুগঞ্জ ও মুলাদীর বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে একাধিক মসজিদ উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করার নজিরও সৃষ্টি করেছেন তরুন সমাজ সেবক আতিকুর রহমান। শুধু তাই নয়, দেহেরগতি ইউনিয়নে নিজ পৈত্রিক জমিতে গরিব এবং অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবার নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে ১০ শয্যার মা ও শিশু হাসপাতাল এবং মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন-এমপি’র নামে একটি দ্বিতল কমিউনিটি সেন্টার স্থাপন করেছেন। যার উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী মো. নাসিম এমপি এবং বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি।

এছাড়া বাবুগঞ্জ বন্দর উন্নয়নে রাশেদ খান মেনন এর তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা করে অনুদানের ব্যবস্থা করে দিয়েছিন তরুন সমাজ সেবক আতিকুর রহমান। বাবুগঞ্জ উপজেলাকে ড্যানিডা প্রকল্পের আওতাভুক্ত করনের অবদান একমাত্র আতিকের। রাস্তা উন্নয়নের জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের জলবায়ু প্রকল্প থেকে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন তিনি। শুধু এসবই নয়, বাবুগঞ্জ এবং মুলাদী উপজেলা জুড়ে আতিকুর রহমান এর বহু উন্নয়ন কর্মকান্ডের চিত্র ফুটে উঠেছে।

সরেজমিনে বাবুগঞ্জ এবং মুলাদী উপজেলা ঘুরে দেখাগেছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আতিকুর রহমান এর করা উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে চায়ের দোকানে ঝড় বইছে। সাধারন মানুষের মুখে মুখে শোভাপাচ্ছে তার উন্নয়নের কথা। শুধু সাধারন মানুষ নয়, বাবুগঞ্জ উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে বিনির্মানে আতিকুর রহমানের প্রচেষ্টার কথা স্বীকার করছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও। এমনকি দল-মত নির্বিশেষে আতিকুর রহমানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেও শুরু করেছেন এলাকার মানুষগুলো। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আতিকুর রহমানকে বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবেও দেখতে চাচ্ছেন তারা। উপজেলাবাসী মনে করেন জনপ্রতিনিধি না হয়েও যিনি উন্নয়নের মহানায়কের ভুমিকা রাখতে পারেন তিনি জনপ্রতিনিধি হলে আর যাই হোক এলাকায় উন্নয়নের গনজোয়ার সৃষ্টি করতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে যুব মৈত্রী’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পরিচালক তরুন সমাজ সেবক আতিকুর রহমান বলেন, বাবুগঞ্জ এবং মুলাদীতে যে উন্নয়ন হয়েছে তার সবটুকু অবদান আমার জননন্দিত নেতা রাশেদ খান মেনন এমপি’র। কেননা তিনি সহযোগিতা করেছেন বিধায় দুই উপজেলাবাসী উন্নয়ন দেখতে পেরেছেন। আমি শুধু চেষ্টা করেছি উপজেলাবাসীর পাশে থাকার।

নির্বাচন প্রসঙ্গে আতিকুর রহমান বলেন, জনগন যদি মনে করে আমি এমপি হওয়ার যোগ্য মনে করে, তাহলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আমার কোন আপত্তি নেই। তবে এক্ষেত্রে আমার নেতা রাশেদ খান মেনন-এমপি যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেই সিদ্ধান্তকেই সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি যদি মনে করেন আমি ওয়ার্কার্স পার্টির হয়ে বরিশাল-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি, তবে সেটাই করব। তাছাড়া জনগনের উপর আমার বিশ্বাস রয়েছে। আমি তাদেরই সন্তান। তাই তারা আমার ক্ষতি চাইবেন না।