ছাত্র ও বাস্তুহারা লীগের ব্যানারে ভাটারখাল এলাকায় চাঁদাবাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ছাত্র ও বাস্তুহারা লীগের ব্যানারে আবারো প্রকাশ্যে চাঁদাবাজী করছে ভাটারখাল এলাকার টোকাই বাহিনী। চরমোনাই মাহফিলকে কেন্দ্র করে যাত্রী আনা নেয়া করা ট্রলার থেকে তারা আদায় করছে শত শত টাকা। নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইন্ধোনে চাঁদাবাজীর প্রমাণ পেয়ে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চাঁদাবাজদের লাঠি পেটা করেছে থানা পুলিশ।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, চরমোনাই’র মাহফিলে আগত যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে কীর্তনখোলা তীর ঘেষা মুক্তিযোদ্ধা পার্ক ট্রলার ভেরার জন্য উন্মুক্ত করে দেয় বিসিসি কর্তৃপক্ষ। সেই সাথে মুসুল্লীদের সহযোগিতার জন্য নিরাপত্তা কর্মীদের সেখানে সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়।
দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীরা জানায়, গত কয়েকদিন ধরেই কীর্তনখোলা নদীর তীরে মুক্তিযোদ্ধা পার্কের অস্থায়ী ঘটে যাত্রীবাহী ট্রলার ঘাট দিচ্ছে। এখান থেকে মুসুল্লীদের নিয়ে চরমোনাই যাচ্ছে ট্রলারগুলো। আবার চরমোনাই থেকে মুসুল্লীদের এনে মুক্তিযোদ্ধা পার্কে নামিয়ে দিচ্ছেন ট্রলার চালকরা।
একাধিক ট্রলার চালক অভিযোগ করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক মুসুল্লীদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও স্থানীয় কিছু যুবককে চাঁদা দিতে হচ্ছে। গত কদিন ধরেই ভাটারখাল এলাকার বেশ কিছু যুবক টেবিল চেয়ার নিয়ে বসে এক একটি ট্রলার থেকে সর্বনি¤œ ২শ থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা না দিলে ট্রলার আটকে রাখে তারা। ভাটারখালের বাসিন্দা এবং বাস্তুহারা লীগ নেতা পরিচয়ধারী টোকাই ফারুক, মাসুম, চেউয়া সোহেল, আলমগীরের ছেলে রুবেল, টোকাই সাদ্দাম সহ একটি সংঘবদ্ধ টোকাই চক্র ট্রলার চালকদের জিম্মি করে চাঁদা আদায় করলেও তাদের শেল্টার দেয় নৌ ফাঁড়ি পুলিশের কর্মকর্তা। বিনিময় ট্রলার থেকে আদায় হওয়া চাঁদার অংশ ফাঁড়ি পুলিশের পকেটে চলে যায়।
এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে ঘটনাস্থলে গিয়ে। দেখাগেছে, যেসব টোকাই বাহিনী চাঁদা আদায় করছে তাদের সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক নৌ ফাঁড়ি পুলিশের। যে কারণে সাংবাদিকরা মুক্তিযোদ্ধা পার্কে উপস্থিত হওয়া মাত্রই কালো বর্ণের লম্বা এবং মাথায় টাক পড়া ফাঁড়ি পুলিশের এক কর্মকর্তা চাঁদাবাজদের শতর্ক করে দেন। তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ঐ কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যাতে চাঁদা তুলতে না পারে সে জন্যই আমরা ঘাটে শতর্ক অবস্থানে রয়েছি। তাছাড়া সকালে চাঁদা তোলার সময় ফারুক নামে একজনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছি। কিন্তু থানা থেকে তাকে ছেড়ে দিয়েছি। তবে বর্তমানে কোন চাঁদাবাজী হচ্ছে না। এসময় চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করে দেয়া সত্বেও ফাঁড়ি পুলিশের ঐ কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।
চাঁদা আদায়ের কারণ জানতে চাইলে ভাটারখাল এলাকার টোকাই সাদ্দাম ও রুবেল জানায়, স্থানীয় মিজান মিয়া বিসিসি থেকে ঘাট ইজারা নিয়েছে। যে কারণে তার নির্দেশেই চরমোনাই’র ট্রলার থেকে টোল আদায় করছেন। টোলের টাকা সব মিজান মিয়াকেই দিচ্ছেন বলে দাবী করে তারা। এসময় সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচারণও করে টোকাই বাহিনী।
এদিকে তাৎক্ষনিকভাবে বিষয়টি কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাখাওয়াত হোসেনকে অবহিত করা হয়। তখন তিনি কোতয়ালী থানার একটি পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে দেন। এসআই আবু তাহেরের নেতৃত্বাধীন পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাঁড়ি পুলিশের ঐ কর্মকর্তার সাথে ঘোরা ফেরা করতে দেখেন চাঁদাবাজদের। এসময় তিনি ঐ কর্মকর্তার সামনেই চাঁদাবাজদের লাঠি পেটা করে এলাকা থেকে বের করে দেন। সেই সাথে নৌ ফাঁড়ির ঐ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে উপরস্থ কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করার কথা জানান এসআই তাহের। তবে এরপরেও গতকাল রাতে ট্রলার থেকে চাঁদা আদায় করতে দেখা গেছে।