ছাত্রলীগ নেতার মসজিদের বরাদ্দ আত্মসাত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ মসজিদ উন্নয়নের নামে উত্তোলিত টিআর-কাবিখার ২টন চাল আত্মসাত করলেন চাঁদপুরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নয়া আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম। এ নিয়ে এলাকা জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হলেও নিরব রয়েছে প্রশাসন। তবে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকার চাল দেখে আসলেও তা জব্দ করেনি তারা। অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে মধ্যস্ততা করে সরকারী চালের ভাগ পেয়ে বিষয়টি চেপে গেছেন তারা।
সূত্রে জানাগেছে, গত ১১ চাঁদপুরা ইউনিয়নের খোন্তাখালী মজুমদার বাড়ি জামে মসজিদের উন্নয়নের জন্য এমপি কোটায় ২ টন চাল উত্তোলন করেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম। ঐদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিনি ট্রাকে করে চাল নিয়ে যায় খোন্তাখালী গ্রামে ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে।
এদিকে মসজিদের নামে এমপি কোটায় সরকারী চাল উত্তোলন করলেও তা জানেনা মজদিক কর্তৃপক্ষ। মসজিদ কমিটির সাধারন সম্পাদক ডা. আনিসুর রহমান জানান গত ১০ বছরেও তারা তাদের মসজিদের জন্য সরকারী ভাবে সাহাজ্য সহায়তা পাননি।
এদিকে ছাত্রলীগ নেতা জহির সরকারী চাল মসজিদ উন্নয়নে না দিয়ে নিজ পরিবারে বিএনপি সমর্থীত ভাইদের ভাগ বাটোয়ারা করে দেন। এর মধ্যে বড় ভাই বাবুল হাওলাদারকে ১৫ বস্তা, আনোয়ার হোসেনকে ১১ বস্তা, দেলোয়ার হোসেনকে ৮ বস্তা এবং বাবা-মাকে দিয়েছে ১৩ বস্তা। মসজিদের চাল আত্মসাত করলেও বিষয়টি ধামা চাপা পড়ে যায়। তবে গত ২ মে জহিরের বড় ভাই ইউনিয়ন বিএনপি নেতা বাবুল হাওলাদার প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে ৩ মন চাল বিক্রি করেন স্থানীয় রিক্সা চালক সাইদুল’র কাছে। আর এর মাধ্যমেই ফাঁস হয়ে যায় চাল আত্মসাতের ঘটনা। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নয়া আহ্বায়কের টিআর এবং কাবিখার ২ টন চাল আত্মসাতের ঘটনাটি গোটা ইউনিয়ন জুড়ে টক অব দা টাউনে পরিনত হয়েছে। তবে ঘটনার পরে লোক লজ্জায় গা ঢাকা দিয়েছে ছাত্রলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম। ফলে এ বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে তার বড় ভাই বাবুল হাওলাদার জানান, ছোট ভাই জহির তার কাছে ১৫ বস্তা চাল বিক্রি করার জন্য রেখে গেছে। কিন্তু কোথা থেকে কিভাবে এনেছে আমার জানানেই। বিক্রি করতে বলেছে তাই বিক্রি করেছে।
এদিকে খবর পেয়ে বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোফরান ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেলেও রহস্যজনক কারনে চালগুলো জব্দ না করেই ফিরে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতা জহির এমপি কোটার সরকারী চাল আত্মসাত করে পুলিশকে মোটা অংকের উৎকোচ ভাগ দেয়ায় তারাও নিরবতা পালন করছে।
তবে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিলো। চালও পেয়েছে। কিন্তু চালের বস্তায় কোন সরকারী ছিল বা লেখা নেই। তাই ঐ চাল যে সরকারী তার প্রমান না পাওয়া তারা চালগুলো জব্দ করেন নি।