ছাত্রলীগ নেতার আত্মসাত করা মসজিদের নামে বরাদ্দের চাল উদ্ধারে ব্যর্থ প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ পরিবর্তনে সংবাদ প্রকাশের পর ছাত্রলীগ নেতার আত্মসাতকৃত টিআর প্রকল্পের চাল উদ্ধারে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তাদের উপস্থিতি টের পেয়েই চালগুলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে ফেলেন ছাত্রলীগ নেতার বিএনপি সমর্থীত ভাই এবং পরিবারের সদস্যরা। গতকাল বুধবার বিকাল ৩টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাঁদপুরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ আহ্বায়ক জহিরুল ইসলামের বাসায় অভিযান চালাতে গেলে এই ঘটনা ঘটে।
তবে অভিযোগ উঠেছে মসজিদ উন্নয়নের জন্য উত্তোলিত এমপি কোটার দুই টন চালের মধ্যে বেশিরভাগ চালই ইতোমধ্যে বিক্রি করে ফেলেছে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক জহির ও তার বিএনপি সমর্থীত ভাইয়েরা। এই ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ মিয়া।
উল্লেখ, গত ১১ চাঁদপুরা ইউনিয়নের খোন্তাখালী মজুমদার বাড়ি জামে মসজিদের উন্নয়নের জন্য এমপি কোটায় ২ টন চাল উত্তোলন করেন প্রবাসির স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করা চাঁদপুরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম। ঐদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিনি ট্রাকে করে চালগুলো নিয়ে যায় তার নিজ গ্রাম খোন্তাখালীর বাড়িতে। মসজিদের নামে চালগুলো উত্তোলন করলেও চাঁদপুরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম জহির টিআর’র চাল তিনি এবং তার তিন ভাই বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন, বাবুল এবং দেলোয়ার হোসেন ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। তবে তা খুব সহজে হজম করতে পারেনি। সরকারী চাল বিক্রি করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়েন ছাত্রলীগের লেবাজধারী জহিরুল এবং তার বিএনপি নেতা ভাইয়েরা।
ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রলীগ এবং তার ভাইদের মসজিদের চাল কেলেংকারীর বিষয়ে গত ১১ মে দৈনিক আজকের পরিবর্তনে একটি স্বচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর ফলে নড়েচড়ে বসেন উপজেলা প্রশাসন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার সকালে ত্রান ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয় বরিশাল জেলা অফিসের সুপারভাইজার মহসিন হাসান ও উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের অফিস সহকারী শাহ আলম পত্রিকায় প্রকাশিত ঘটনার তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে যান। এসময় তারা জহিরুলের বড় ভাই বাবুলের বাসায় গিয়ে টিআর’র চাল দেখতে পান। এসময় তারা বস্তা ভরা চালের ছবি এবং কিছু আলামত নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের নিকট জমা দেন। এর পর পরই বিকাল তিনটার দিকে উপজেলা নির্বহী অফিসার মো. আব্দুর রউফ মিয়া আত্মসাতকৃত চাল উদ্ধারে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। কিন্তু চতুর ছাত্রলীগ নেতা ও তার ভাইয়েরা নির্বাহী কর্মকর্তার আগমী বার্তা আগে ভাগেই টের পেয়ে চালগুলো সরিয়ে চাচা সেকান্দার আলী হাওলাদারের বাসার পেছনে লুকিয়ে রাখে। ফলে জব্দ করা সম্ভব হয়নি আত্মসাতকৃত চালগুলো।
জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুর রউফ মিয়া জানান, চাল উদ্ধার হয়নি। তবে তদন্ত করে তারা জানতে পেরেছেন মসজিদের উন্নয়নের জন্য চাল উত্তোলন করা হলেও তা সেই কাজে ব্যবহার হয়নি। তিনি বলেন, ঐ চাল যে মসজিদের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে সেই মসজিদের উন্নয়নে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ অমান্য হলে চাল উত্তোলন এবং আত্মসাতকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।