ছাত্রলীগের সদর উপজেলার ১০ ইউপি আহবায়ক কমিটি গঠন

রুবেল খান॥ বরিশাল সদর উপজেলার বিলুপ্ত হওয়া কমিটির নেতৃবৃন্দ গঠন করলো ১০ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি। জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ উপজেলা কমিটি বাতিল করলেও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দের নির্দেশে ইউনিয়নের পূর্বের কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। তবে মহানগর ছাত্রলীগের নির্দেশে বিলুপ্ত কমিটির নেতৃবৃন্দের গঠন করা কমিটি নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এমনকি এর বৈধতা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে নানা বিতর্কের। তবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন শুধুমাত্র সিটি কর্পোরেশন এলাকার থানা গুলো মহানগর ছাত্রলীগের অধিনস্ত থাকবে।
সূত্রমতে নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক এইচ.এম জাহিদ হোসেন সহ কমিটির অন্যান্য যুগ্ম-আহ্বায়করা। টেন্ডার সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন সহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ডের শেষ পর্যায়ে সদর উপজেলার চরকাউয়া মিনিবাস মালিক সমিতি দখলের চেষ্টা করে জাহিদ হোসেন ও তার নেতৃত্বাধিন বাহিনী। এসময় জাহিদের পক্ষে দখল কার্যক্রম চালাতে গিয়ে শ্রমিকদের রোশানল ও লাঞ্ছিত হন নগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন ও সাধারন সম্পাদক অসীম দেওয়ান।
এদিকে উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক এইচ.এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম-আহ্বায়ক কবির হোসেন, মো. আসিফ আহম্মেদ সহ বিতর্কিত কমিটিকে সাংগঠনিক রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ করেন জেলা ছাত্রলীগ। কিন্তু তারা জেলা ছাত্রলীগের নির্দেশ অমান্য করে সাংগঠনিক প্রতিবেদন জমা না দেয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে ঝিমিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রম আরো গতিশিল করার লক্ষে গত ১২ এপ্রিল বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন সেরনিয়াবাত ও সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে সাংগঠনিক প্রতিবেদন জমা না দেয়া এবং বিতর্কিত কর্মকান্ডের অভিযোগে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করেন। জেলা ছাত্রলীগের এ যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে স্বাগত এবং নতুন কমিটির দাবীতে ১৩ এপ্রিল আনন্দ মিছিল করে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
অপরদিকে উপজেলা উপজেলা ছাত্রলীগের বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্তর ১০ দিনের মাথায় ঘোষনা করা হয়েছে উপজেলার অধিনস্ত ১০টি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি। মহানগরীর ৪টি থানা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের লক্ষে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের নির্দেশে উপজেলার বিলুপ্ত হওয়া ছাত্রলীগের কমিটির বিতর্কিত আহ্বায়ক এইচ.এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. আসিফ মাহমুদ ও মো. কবির হোসেন চৌধুরী এই কমিটির অনুমোদন দেন। এর পূর্বে গত ১৯ এপ্রিল বাতিল করা কমিটির আহ্বায়ক ও যুগ্ম-আহ্বায়ক দ্বয়কে ঐ ১০টি ইউনিয়নের কমিটি পূণর্গঠনের নির্দেশ দেন নগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন। তার নির্দেশে ১০টি ইউনিয়নের কমিটি ঘোষনা হলেও এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এ নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল আজকের পরিবর্তনে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। তখন নগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী বরিশাল মহানগরীর ৪ থানা মহানগর ছাত্রলীগের আওতাধিন। সে অনুযায়ী সদর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিও মহানগর ছাত্রলীগের আওতায়। তাই উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন বা বিলুপ্ত করার ক্ষমতা শুধু মাত্র মহানগর ছাত্রলীগের রয়েছে।
তবে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সুমন সেরনিয়াবাত জানিয়েছেন, উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি জেলা ছাত্রলীগের অধিনে। কেননা নগর ছাত্রলীগ যে চারটি থানা তাদের অধিনে দাবী করছে মুলত সেগুলো প্রশাসনিক থানা। ওগুলোকে এখন পর্যন্ত সাংগঠনিক থানা ঘোষনা করা হয়নি। শুধু ছাত্রলীগই নয়। মুলদল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ সহ সকল সংগঠনই জেলা কমিটির অধিনে সদর উপজেলার কার্যক্রম চলছে।
এদিকে সিমানা নির্ধারন নিয়ে ২০১৩ সনের ৩০ নভেম্বর কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচ.এম বদিউজ্জামান সোহাগ এবং সাধারন সম্পাদক সিদ্দিকি নাজমুল আলম স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের এক সিদ্ধান্ত মোতাবেক বরিশাল সিটি কর্পোরেশন আওতাধীন কোতয়ালী, বিমান বন্দর ও কাউনিয়া থানা বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগ শাখার অন্তর্ভুক্ত হবে। তাদের দেয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শুধু মাত্র সিটির আওতাধিন থানাগুলোই নগর ছাত্রলীগ শাখায় অন্তর্ভুক্ত হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রাসেল জানান, শুধুমাত্র সিটি কর্পোরেশন এলাকার অধিনস্ত থানাগুলো মহানগর শাখা কমিটির আওতাভুক্ত হবে। সিটির বাইরে থানা থাকলে তা জেলা কমিটির অন্তর্ভক্ত হবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে গত দুই বছর পূর্বে তারা একটি নোটিশও করেছেন। কেন্দ্রীয় এই নেতার বক্তব্য অনুযায়ী কোতয়ালী, কাউনিয়া এবং এয়ারপোর্ট থানা এলাকা মহানগরের আওতাধিন হলেও বন্দর থানা জেলা ছাত্রলীগের অধিনস্ত হবে।