ছাত্রলীগের মহানগর কমিটির ভেল্কিবাজীতে বিব্রতকর পরিস্থিতি

সাইদ মেমন ॥ বর্তমানে সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে ভেল্কিবাজীতে মেতে উঠেছে বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ। দুই শাখার মধ্যে সবচেয়ে অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে মহানগরের কমিটি। মহানগর শাখার পরস্পরবিরোধী কর্মকান্ড নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলেও কারো মধ্যে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। ছাত্রলীগের কর্মকান্ডে হ-য-ব-র-ল অবস্থায় চললেও মূল দল বা জ্যৈষ্ঠ ও সাবেক নেতারা এগিয়ে না আশায় কর্মীদের মাঝে নেমেছে হতাশা। এদের কর্মকান্ড নিয়ে মিডিয়াকেও বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্রসংগঠনের বিভাগীয় জেলা ও মহানগরের নেতা হয়েও তাদের আচরন ইউনিট পর্যায়ের চেয়েও করুন বলে সাবেকরা মন্তব্য করেছেন। এতে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছেও বলেও মন্তব্য তাদের।
শুক্রবার ছাত্রলীগের মহানগর আওতাধীন শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ শাখার কমিটি গঠন করে মিডিয়ায় প্রেসবিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। এতে মো. মনজুরুল ইসলাম ভুইয়া সভাপতি ও মোস্তাফিজুর রহমান তুহিনকে সাধারন সম্পাদক করা হয়। দুই সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গত ১৯ এপ্রিল গঠন করার কথা উল্লেখ ছিলো। এই কমিটি মহানগরের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন ও সাধারন সম্পাদক অসীম দেওয়ান অনুমোদন দিয়েছেন। পত্রিকায় পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে ওই দুই নেতার স্বাক্ষর ছিলো। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো-উভয় নেতার নাম ও পদবী উল্লেখ করে লেখা ছিলো “বাংলাদেশ ছাত্রীলীগ” বরিশাল মহানগর।
ওই প্রেসবিজ্ঞপ্তি পাঠানোর ২৪ ঘন্টা পার হয়নি। এর মধ্যে আরেকটি প্রেসবিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। যাতে মেডিকেল কলেজ শাখার কমিটি গঠন করার প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে সভাপতি ও সম্পাদকের দেয়া স্বাক্ষর জাল হিসেবে দাবি করা হয়েছে। এ জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে সভাপতি ও সম্পাদক উভয়ের স্বাক্ষর রয়েছে।
এখানে শুধু ভেল্কিবাজী নয়, চরম ভেল্কিবাজি পাওয়া গেছে যখন উভয় নেতার সাথে মুঠোফোনে কথা বলে। সভাপতি জসিমউদ্দিন শুক্রবারে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তি নিয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি। শুধু বলেছেন মেডিকেল কলেজ শাখার কমিটি গঠন প্রয়োজন। আর গতকাল শনিবারের পাঠানো প্রেসবিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে কিছু জানেনই না। সেখানে তার স্বাক্ষর রয়েছে জানালে সভাপতি জসিমউদ্দিন তা নিজের নয় বলে দাবি করে বলেন, স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখুন।
আর সম্পাদক অসীম দেওয়ান বলেন, আজকের যেটা পাঠানো হয়েছে সেটা সঠিক। সভাপতি জসিম সেটা মানতে নারাজ জানালে সম্পাদক অসীম বলেন, সে বলছে নাকি ? পরে বলেন, যেটা পাঠানো হয়েছে সেটাই ফলো করুন।
ছাত্রলীগ উল্লেখ করার বিষয় নিয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে সম্পাদক অসীম কোন মন্তব্য করেননি।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক, ল’ কলেজের ভিপি তুখোড় ছাত্রনেতা এ্যাড. রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস মানে ছাত্রলীগ। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক রাজনীতি করতেন। সবার আগে কলেজে যেতেন ও সবার শেষে ফিরতেন। দিনভর সাধারন ছাত্রদের সেবা দিয়ে সংগঠনের কর্মী তৈরি করতেন। আমরা সব সময় জানার ও শেখার চেষ্টা করতাম। আর বর্তমান নেতারা দ্বি-প্রহরে জেগে টেন্ডারবাজিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তারা জানারা বা শেখার চেষ্টা করেন না। তাদের মধ্যে ছাত্রদের দেয়ার মতো কোন কিছু তো নেই। দলের জন্য কিছু দিতে পারে না তারা।
তিনি বলেন, বর্তমান কমিটি গঠনের ৩ বছর শেষ হয়েছে। তারা এখন পর্যন্ত জাতির জনকের মাজারে গিয়েও পুস্পস্তবক অর্পন করেননি। দলের কোন জ্যেষ্ঠ নেতাদের ফুল দিয়ে তাদের নেতৃত্বে জানান দিতে পারেনি।
প্রানপ্রিয় ছাত্রলীগের এই অবস্থা দেখে কষ্ট হয় জানিয়ে এ্যাড. খোকন বলেন, এ থেকে পরিত্রানের জন্য কারো কাছে বলার কোন ক্ষেত্র নেই।