ছাত্রলীগের মহানগরের বর্ধিত সভা ও অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ কথিত নেতাদের নিয়েই অনুষ্ঠিত হলো মহানগর ছাত্রলীগের বর্ধিত সভা। গতকাল রবিবার বিকালে নগরীর বরিশাল ক্লাবের হল রুমে এ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে ছাত্রলীগের কথিত নেতাদের নিয়ে বর্ধিত সভা করা হলেও দেখা যায়নি জ্যেষ্ঠ কোন নেতাদের। এমনকি কর্মী শূণ্য প্রায় তাদের বর্ধিত সভা নগর ছাত্রলীগের বৃহৎ একটি অংশ বর্জন করেছে বলেও জানাগেছে।
জানাগেছে, দীর্ঘ দিন পর বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বর্ধিত সভার ভেন্যু বিকাল ৩টায় সার্কিট হাউস মিলনায়তনে করা হলেও সেখানে অনুষ্ঠিত হয়নি। বিকাল সাড়ে ৪টার পর বরিশাল ক্লাব এর দ্বিতীয় তলায় এই বর্ধিত সভা করেন নগর ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।
বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এর সভাপতিত্বে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হলেও ছিলেন না কোন জ্যেষ্ঠ নেতারা। এমনকি মহানগর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক অসীম দেওয়ান এর রহস্যজনক অনুপস্থিতির কারনে তার দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা কাউন্সিল থেকে এক প্রকার পদ-পদবি চুরি করে ফেরা ১নং যুগ্ম সাধারন সম্পাদক দাবীদার ও চিহ্নিত ডাক ব্যবসায়ী রিফাত হোসেন রাব্বী ওরফে পন্টি রাব্বি। এছাড়া বর্ধিত সভা পরিচালনা করেন সহ-সভাপতি দাবীদার বাবলু জমাদ্দার।
এদিকে বর্ধিত সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা-কর্মী জানান, প্রথম বারের মত বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে সাংগঠনিক তেমন কোন আলোচনা হয়নি। শুধু মাত্র ১৫ই আগষ্ট উপলক্ষে কিছু দায়সাড়া কর্মসূচী নিয়ে আলোচনা করা হয়। তবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে যোগ দিয়ে পদ-পদবি চুরি করে বরিশালে ফেরা ছাত্রলীগের কথিত ২১ সহ-সভাপতি এবং যুগ্ম সাধারন সম্পাদকদের পরিচয় করিয়ে দেন নগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন।
সূত্রগুলো আরো জানায়, মহানগর ছাত্রলীগ একটি শক্তিশালী কমিটি। কিন্তু এ কমিটির বর্ধিত সভায় ছিলেন না কোন জ্যেষ্ঠ নেতারা। যাদের দাওয়াত দেয়া হয়েছিলো তারাও নানা অজুহাতে বর্ধিত সভা এড়িয়ে যান। এর কারন হিসেবে নগর ছাত্রলীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন ভুয়া পদ-পদবি ধারীদের নিয়ে আয়োজন করা বর্ধিত সভা তারা বর্জন করেছেন। এ কারনে তারা কেউ বর্ধিত সভায় উপস্থিত হননি। এমনকি বিদ্রোহী এই গ্রুপটি পাল্টা বর্ধিত অথবা কর্মী সভার আয়োজনের বিষয়টিও ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, নগর ছাত্রলীগের যে ২১ জন সহ-সভাপতি এবং যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক দাবী করছেন তারা সকলেই অসাংগঠনিক। এমনকি এর মধ্যে বেশিরভাগই ছাত্রদল থেকে সুবিধা ভোগ করতে এসেছে। তাছাড়া যারা পদ পদবি দাবী করছে খোঁজতে গেলে তাদের বেশিরভাগেরই ছাত্রত্ব খুজে পাওয়া যাবে না। উল্টো পাওয়া যাবে তাদের স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ওপেন এবং গোপন ঘর সংসারের খবর। তাই নগর ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদকের এই কথিত কমিটি বর্জন ঘোষনা করেছেন। এমনকি নগর ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদক অবৈধ দাবী করে করা মামলার বিষয়টিও তুলে ধরেন মহানগর ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপ এবং সাবেক নেতারা।