ছাত্রলীগের ভেল্কিবাজীর কমিটি নিয়ে উতপ্ত মেডিকেল কলেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ছাত্রলীগের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ শাখা কমিটি গঠন নিয়ে জাল-জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে শান্ত মেডিকেল কলেজ পূনরায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কমিটি ঘোষনার পর গভীর রাতে আবাসিক হলে ভাংচুর চালিয়েছে বঞ্চিত ইমরান-সাজিদ গ্রুপ। পাশাপাশি গতকাল শনিবার সকাল থেকে ক্লাস বর্জন করে দিনভর বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সভা ও অধ্যক্ষের নিকট স্মারক লিপি দিয়েছে।
সূত্রমতে, গত ২৪ এপ্রিল বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এবং সাধারন সম্পাদক অসীম দেওয়ান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শেবাচিম ছাত্রলীগের দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা হয়েছে বলে জানানো হয়। কমিটিতে মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের অবৈধ আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ৪০ তম ব্যাচের ছাত্র মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ভুইয়া রাফিকে সভাপতি এবং ৪২ তম ব্যাচের মোস্তাফিজুর রহমান তুহিনকে সাধারন সম্পাদক করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
এদিকে শুক্রবার রাতে কমিটি ঘোষনার বিষয়টি নিশ্চিত হতে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন’র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ঘনিষ্ট সহযোগী কাজী মিলন জসিম উদ্দিন’র বরাত দিয়ে, মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিষয়টি ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগের অপর গ্রুপের সভাপতি প্রার্থী ইমরান হোসেন ও সম্পাদক প্রার্থী সাজেদুল করিম সাজিদ সমর্থকরা ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। হাবিব রহমান হল ছাত্রলীগ সভাপতি ইমরান জানান, রাতে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের খেলা দেখছিলেন তারা। এর কিছুক্ষণ পরে সাধারন শিক্ষার্থীরা হলের নোটিশ বোর্ডে রাফিকে সভাপতি ও তুহিনকে সম্পাদক করে করা কমিটি’র নোটিশ টানিয়ে দেয়া হয়। এ নিয়ে রাতেই তারা নগর ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা মেডিকেল কলেজ কমিটি ঘোষনা হয়নি বলে নিশ্চিত করেন।
এর পর পরই রাত ১টার পরে ছাত্রলীগের ইমরান-সাজিদ গ্রুপ জামিলুর রহমান হলে মঞ্জুরুল ইসলাম ভুইয়া রাফি’র ২০৪, তার সহযোগি আশিকের ১০১ এবং হাবিব রহমান হলের মোস্তাফিজুর রহমান তুহিনের ৪১৩, তার সহযোগী সাইদ’র ৪১৪ ও কামালের ১০৪ নম্বর রুমে ভাংচুর করে।
ইমরান জানান, সাধারন শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে রাফি ও কামাল সহ তাদের সহযোগিরা পালিয়ে যায়। কিন্তু সকালে তারা একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে ক্যাম্পাস দখলে নিতে আসে। সাধারন শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে রাফি ও তুহিন বাহিনী পালিয়ে যায়।
ছাত্রলীগ নেতা সাজিদুল করিম সাজিদ জানান, বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ এবং জাল-জালিয়াতি ও ভুয়া কমিটি বাতিলের দাবীতে সাধারন শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছে। সেই সাথে ক্যাম্পাস চত্ত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা গনস্বাক্ষর দিয়ে রাফি ও তুহিন সহ তাদের সহযোগিদের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
সাজিদ অভিযোগ করে বলেন, রাফি’র ছাত্রত্ব নেই। সে এমবিবিএস পরীক্ষা দিয়েছে। তাছাড়া রাফি সব সময় ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে সুবিধা ভোগ করেছে। কোন সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাকে দেখা যায়নি। তুহিন শিবির ঘেষা রাজনীতি করে। সে নিজেকে ছাত্রলীগের নেতা দাবী করে বহু অপকর্ম করে বেরাচ্ছে। সর্বশেষ সন্ধানীর কমিটিতে সভাপতি করে দেয়ার কথা বলে এক সাধারন ছাত্রের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহন করেছে। যা আদৌ ফেরত দেয়নি। এছাড়া রাফি ও তুহিন ক্যাম্পাস মাদকের অভায়ারন্যে পরিনত করেছে। তাদের অভিযোগ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে অবৈধ ভাবে কমিটি ঘোষনা করেছে অছাত্র ও বিতর্কিত রাফি ও তুহিন।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ভুইয়া রাফি জানান, পরীক্ষা দিলেও তার ফল প্রকাশ হয়নি। সে অনুযায়ী এখনো তার ছাত্রত্ব আছে। এছাড়া কমিটির বিষয়ে তিনি আগে কিছুই জানতেন না। তারা কোন জাল-জালিয়াতি করেননি। মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সম্পাদক মিলে কমিটি ঘোষনা দিয়েছেন।
মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক. ডা. ভাস্কর সাহা বলেন, ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদের দুই পক্ষের মধ্যে একটু বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য তারা ক্লাস বর্জন করেছে। কিন্তু কমিটি গঠন বা বাতিলের বিষয়ে তাদের করনীয় কিছুই নেই। তা তিনি বিষয়টি রাজনৈতিক ভাবে সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীদের বলেছেন। তিনি আরো বলেন, গতকাল কিছু শিক্ষার্থী গনস্বাক্ষর করে অধ্যক্ষ বরাবর একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন। অভিযোগ তদন্ত করে এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।