ছাত্রলীগের বিএম কলেজ শাখার পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের গুঞ্জন

জুবায়ের হোসেন॥ দক্ষিনের অক্সফোর্ড খ্যাত সরকারি বিএম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের গুঞ্জন উঠেছে। কলেজ ক্যাম্পাসের আঙ্গিনা ছাড়িয়ে কমিটির গুঞ্জন এখন শহরজুড়ে। একই সাথে কমিটির পদবি দাবীদারদের নাম নিয়ে হচ্ছে আলোচনা-সমালোচনা। এই গুঞ্জনের সত্যতা স্বীকার করে শিঘ্রই কমিটির প্রয়োজন জানিয়েছেন বিএম কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান একাধিক নেতারা। তাদের কথা “সুষ্ঠু ধারায় ছাত্র রাজনীতির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কমিটির প্রয়োজন রয়েছে। গুঞ্জনের কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক পদের দাবীদার হিসেবে উঠে এসেছে বিএম কলেজের বেশ কয়েক ছাত্রনেতার নাম। এদের মধ্যে সভাপতি পদের দাবীদার হিসেবে রয়েছেন গোলাম মোস্তফা অনিক সেরনিয়াবাত, আতিকুল্লাহ মুনিম ও ফয়সাল আহম্মেদ মুন্নার। সাধারন সম্পাদক পদের দাবীদার হিসেবে রয়েছে কাজী মিলন, জুবায়ের আলম ও নূর আলম সাঈদীর। জেষ্ঠ্য নেতারা সাংগঠনিক যোগ্যতা অনুযায়ী দেবেন বলে দাবী বর্তমানে একাধিক নেতার। একই সাথে ছাত্রত্ব ও রাজপথে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে থাকার বিষয়টিও দেখবেন তারা। একই সাথে থাকবে ক্লীন ইমেজের বিষয়টি। বিএম কলেজ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ এক যুগ আগে ২০০৩ সালে গাজী তৌকির আতাহারী শুভকে আহবায়ক করে বিএম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটি হয়। ছাত্রলীগের তৎকালীন মহানগরের আহবায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া স্বাক্ষরিত যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন শুভ সেন (১), ফাতেমা মমজাত মলি (২), সুরুজ শিকদার (৩), মাকসুদ আলম মাসুদ (৪), নাহিদ সেরনিয়াবাত (৫) এবং মঈন তুষার (৬)। এই কমিটি গঠনের কিছুদিন পর ৩নং যুগ্ম আহবায়ক সুরুজ শিকদার দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় সিনিয়র সদস্য থেকে যুগ্ম আহবায়কের স্থান পায় রফিক সেরনিয়াবাত। তবে এই কমিটি তখন গঠিত হলেও তেমন জোড়ালো ভূমিকা রাখতে পারেনি। এই কমিটি তবে অধ্যক্ষ লাঞ্ছিতের ঘটনার পরে তাও ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে বলেও জানায় একাধিক নেতৃবৃন্দ। বর্তমানে ঐ কমিটির আহবায়ক সহ অধিকাংশ যুগ্ম আহবায়কই ছিটকে পড়েছেন ছাত্র রাজনীতি থেকে। কেউ গিয়েছেন সিনিয়র সংগঠনে আর কেউ কেউ ছাত্র রাজনীতি ছেড়ে বিভিন্ন পেশায় রয়েছেন। কমিটির ৬ জন যুগ্ম আহবায়কের চারজনই আছেন বিভিন্ন স্থানে চাকুরিরত। আহবায়ক কমিটির এই দুর্বল অবস্থানের কারণে ২০১১ সালের ২০ জুন সে সময়ের অধ্যক্ষ ড. ননী গোপাল দাস কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের জরুরী সভা ডেকে গঠন করেন ২৬ সদস্যের কর্মপরিষদ। বিএম কলেজের ছাত্র সংসদ (বাকসু)’র সংবিধান সংশোধন করে করা এই তিন মাস মেয়াদি কর্ম পরিষদের ভিপি করা হয় মঈন তুষারকে। জিএস নাহিদ সেরনিয়াবাত ও এজিএস বর্তমানে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সামসুদ্দোহা আবীদকে। তবে গঠনের পর নানা বিতর্ক তৈরি হয় এই কর্মপরিষদের। ঢাকায় আ’লীগের নীতি নির্ধারকরা এই কর্ম পরিষদকে অবৈধ ঘোষনারও সিদ্ধান্ত নেন বলে যানায় সূত্রটি। এছাড়াও এতে পদবীতে থাকা নেতারা জড়িয়ে পড়েন নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে। তবে মেয়াদ শেষ হলেও এখনও বিএম কলেজ শুধুমাত্র ওই কর্ম পরিষদের নামেই চলে। কমিটির অভাবে এখন নানা বিশৃঙ্খলতায় ভুগছে বিএম কলেজের ছাত্রলীগের রাজনীতি বলে দাবী সূত্রটির। সাংগঠনিক পরিবেশ বজায় না থাকায় বহিরাগতদের প্রভাব বৃদ্ধির ফলে নানা অপকর্ম হচ্ছে ক্যাম্পাসে। যা রুখতে আবাসিক হলের ছাত্ররা সংঘবদ্ধ হয়েছে একাধিকবার। এ বিষয়ে বিএম কলেজের শাখা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক গাজী তৌকির আতাহারী শুভ বলেন, বিএম কলেজের যেকোন কমিটির দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করাটা পুরোনো বিষয়। কলেজের ছাত্রলীগের আহবায়ক থাকাকালীন সিনিয়র নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার চেষ্টা করেছেন। এখন কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতিকে গতিশীল করতে অবশ্যই একটি পূর্নাঙ্গ কমিটি দরকার। তবে তা হতে হবে ক্লীন ইমেজের প্রকৃত ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ে। যারা প্রকৃত ছাত্র এবং বিতর্কের উর্ধ্বে। শিঘ্রই কমিটি দাবী ও প্রয়োজন জানিয়ে প্রকৃত ছাত্র নেতাদের দ্বারা কমিটি গঠনের কথা বলেন, যুগ্ম আহবায়ক শুভ সেন, নাহিদ সেরনিয়াবাত ও মাকসুদ আলম মাসুদ।
মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিনের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, সিনিয়র নেতাদের কারনেই কমিটি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না । তাদের মধ্যে সমঝোতা হলে দ্রুতই বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি নেয়া হবে।