ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, দুই ছাত্রদল কর্মী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের রাজনীতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা। আর এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গতকাল বুধবারও বরিশাল জেলা এবং মহানগর ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে স্বশস্ত্র ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশের সতর্ক অবস্থানের কারনে বড় ধরনের অপ্রীতিক ঘটনা ঘটেনি। গতকাল সন্ধ্যা রাতে নগরীর ত্রিশ গোডাউন বদ্ধভুমি সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে এঘটনার সময় ছাত্রলীগের সাথে হামলার মিশনে যোগ দেয়া ছাত্রদলের দুই কর্মীকে আটক করে পুলিশ। একই সাথে ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের ফেলে যাওয়া কয়েকটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি দুটি মোটর সাইকেল জব্দ করেন তারা। পরে অবশ্য আটক হওয়া ধানগবেষণা এলাকার বাসিন্দা এবং সরকার বিরোধী আন্দোলনে নাশকতা মামলার আসামী জামান সহ দুই ছাত্রদল কর্মী ও তাদের মোটর সাইকেল ছেড়ে দেয় পুলিশ। থানায় নেয়ার পূর্বেই মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন অস্ত্রধারী এসব ছাত্রদল নেতাদের ছাড়িয়ে রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল বুধবার বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত’র অনুসারী তানজিল’র জন্মদিন পালনের জন্য ত্রিশ গোডাউন বদ্ধভূমি এলাকায় কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে যায় সাজ্জাদ সহ তার অনুসারীরা। এসময় তাদের সাথে উপস্থিত ছিলো ঐ এলাকার নাঈম এবং নাহিদ নামের দুই যুবক। গেলো ঈদের দ্বিতীয় দিন ২১নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের’র সাথে মোটর সাইকেল পার্কিং নিয়ে ঐ দুই যুবকের ঝামেলা হয়। গতকাল বুধবার জুবায়ের নদীর পাড়ে গিয়ে ঐ দুই যুবকের সাথে পূনরায় কথা কাটাকাটি হয়। এমনকি জুবায়েরকে হুমকি দেয় ছাত্রলীগের ওই দুই কর্মী।
এ ঘটনার পর পরই জুবায়ের মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন অনুসারী কথিত সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদ্বীপ দাস, কাজী মিলন, বাপ্পি, মৃধা রাকিব, জামান, বুলবুল, সোহেল, উজ্জল সহ ২০/২৫ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত এবং তার সমর্থকদের উপর হামলা চালাতে যায়। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে মৃদু ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জসিম সমর্থকদের ধাওয়া করলে তারা দুটি মোটর সাইকেল এবং কয়েকটি ধারালো অস্ত্র ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এসময় সেখান থেকে জামান সহ দুই জনকে আটক করে।
কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন জানান, ছাত্রলীগের এক পক্ষ কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে জন্মদিনের অনুষ্ঠান পালন করতে ছিলো। এসময় অপর পক্ষের প্রদ্বীপ সহ বেশ কয়েকজন ধারো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। যে কারনে বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গতকালের ঘটনাই নয়, বেশ কয়েকদিন ধরেই বরিশাল মহানগর এবং জেলা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। যা নিয়ে বেশ কয়েকবার হাতাহাতি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং কুপিয়ে আহত করার ঘটনাও ঘটেছে। যার মধ্যে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্ম দিন পালনের দিবাগত রাতে নলছিটির ডন মামুনকে কুপিয়ে জখম করে জেলা ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। তবে এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বিএম কলেজ অবৈধ কর্মপরিষদের কথিত ভিপি মঈন তুষারের অতর্কিত হামলা থেকে। ঐ রাতে জেলা ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হয় তুষার নিজেও।
এর পর গত ৫ অক্টোবর মহানগর ছাত্রলীগের কথিত যুগ্ম সাধারন সম্পাদক রাব্বি ওরফে পন্টি রাব্বিকে পিটিয়ে আহত করে বিএম কলেজ ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঐ রাতেই সদর রোডে জেলা এবং মহানগর ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এর আগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রলীগ নেতাকে মেস থেকে তুলিয়ে নিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত এবং তার সমর্থকরা।
গত ৬ অক্টোবর মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন সমর্থকরা মেডিকেল কলেজ কম্পাউন্ডে ইনস্টিটিউ অব হেল্থ টেকনোলজী (আইএইচটি) ছাত্রাবাসে অনুপ্রবেশ করে ছাত্রলীগের অপর গ্রুপের সমর্থকদের বেলচা দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।
সর্বশেষ গতকাল দুপুরে সরকারী বরিশাল কলেজে জসিম উদ্দিন সমর্থক ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা ছাত্রদলের উপর হামলা চালায়। এসময় তাদের মারধর করে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাতে বদ্ধভূমিতে পূনরায় জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে উত্তেজনা ছড়ায়। হঠাৎ করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা বরিশাল ছাত্রলীগের কর্মকান্ড নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছে নগরবাসী। ছোট খাটো বিষয় নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ যে ভাবে মারমুখ হচ্ছে তাতে করে সামনে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন তারা। তবে তাদের এই সংঘর্ষে সাধারন মানুষের ক্ষয়ক্ষতির আশংকাও করছেন সচেতন মহল। তাই এখনই ছাত্রলীগের বিবাদমান দুই গ্রুপকে নিয়ন্ত্রনে আনতে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।