ছাত্রলীগের জেলা-মহানগর শাখার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ সরকারী বরিশাল কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এবার নড়েচড়ে বসেছে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগ। তাদের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাজিব হোসেন খানকে বরিশাল কলেজ কমিটি থেকে অব্যাহতি এবং বিভ্রান্ত সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন তারা। এজন্য মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সম্পাদকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের হুমকিও দিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। বরিশাল সরকারী কলেজে রাজিব হোসেন খানকে সাধারন সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে করা নতুন কমিটির বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে গতকাল পাল্টা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জেলা ছাত্রলীগ এই হুশিয়ারী দেন।
জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম সোহরাব স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন সেরনিয়াবাত ও সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গত ১৩ মার্চ মহানগর ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাজিব হোসেন খানকে সাধারন সম্পাদক করে সরকারী বরিশাল কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষনা করে। এর পরে আবার তথা কথিত তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ঐ কমিটি থেকে রাজিব হোসেন খানকে অব্যহতি দিয়ে অপর একজনকে সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব দেন নগর ছাত্রলীগ। যা জেলা ছাত্রলীগের কমিটির জন্য সুনাম ক্ষুন্নের সামিল বলে দাবী করেছেন জেলা কমিটির সভাপতি সুমন সেরনিয়াবাত ও সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।
তারা দাবী করে বলেন, বরিশাল কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠন বা ভাঙ্গনের বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেন খান অবগত বা সম্পৃক্ত নয়। তাই তাকে জড়িয়ে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ না করার জন্য সতর্ক করেন তারা। পাশাপাশি জেলা ছাত্রলীগের কোন নেতাকে নিয়ে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করানো হয় তবে জেলা ছাত্রলীগ আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলেও হুশিয়ারী করা হয়েছে।
এদিকে কমিটি থেকে বাদ বাড়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেন খান পরিবর্তনকে জানান, তাকে সাধারন সম্পাদক করে জখন কমিটি গঠন করা হয়েছিলো তখন মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক উভয়ে স্বাক্ষর দিয়ে কমিটি ঘোষনা দিয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে জখন তাকে বাদ দিয়ে কমিটি ঘোষনা করা হলো সেখানে শুধু মাত্র সভাপতির স্বাক্ষর দেয়া রয়েছে। বিভিন্ন অনিয়ম এবং অপকর্মের পরে নগর ছাত্রলীগ এখন তাকে এবং জেলা ছাত্রলীগকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। রাজিব দাবী করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ আর কোথা থেকে অভিযোগটি আসল তা নগর ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক কেউ জানেন না। অথচ তারা তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও উল্লেখ করছে। এটা মহানগর ছাত্রলীগের আরেকটি অপকর্ম এবং অনিয়ম বলে অভিযোগ করেন রাজিব হোসেন।
এ বিষেয়ে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন’র সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।