ছাত্রলীগের এমন পরিস্থিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীতে ছাত্রলীগের কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ হলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মো. নাসিম। ছাত্রলীগের বিচ্ছৃঙ্খল কর্মকান্ড দেখে তিনি নেতা-কর্মীদের সামনেই বলেছেন এখানে ছাত্রলীগের এমন পরিস্থিতি তা আগে জানলে এখানে আসতাম না। আর এসে যখন ছাত্রলীগের উচ্ছৃঙ্খল কর্মকান্ড দেখতে হলো এজন্য পরবর্তীতে আর বরিশালে আসব না।
গতকাল ঢাকায় ফেরার পথে বরিশাল সার্কিট হাউজে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান কালে ফুল দেয়া নিয়ে বিএম কলেজ অবৈধ কর্মপরিষদের সহ-সভাপতি মঈন তুষার এবং কলেজটির ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ও নগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সমর্থক মিলন’র মধ্যে মারামারির দৃশ্য দেখে খোদ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মো. নাসিম ক্ষোভের সাথে এসব কথা বলেন। এমনকি নগর এবং বিএম কলেজ ছাত্রলীগের এমক বিচ্ছৃঙ্খল কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ মন্ত্রী রাতের খাবার না খেয়েই সার্কিট হাউজ ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশ্যে লঞ্চে চলে যান বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় পটুয়াখালী ও কলাপাড়ায় একাধিক সরকারি এবং দলীয় কর্মসূচি শেষ করে ঢাকায় যাবার উদ্দেশ্যে বরিশালে আসেন। এখানকার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং দলীয় নেতাদের অনুরোধে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম বরিশাল সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন।এসময় বিএম কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগতম জানায় ছাত্রলীগ নেতা জোবায়ের ও বিএম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী কাজী মিলন সহ তাদের সমর্থকরা। একই সময় বিএম কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষে মন্ত্রীকে ফুল দিতে যান কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও অবৈধ কর্মপরিষদের সহ-সভাপতি মঈন তুষার। কিন্তু তার আগেই বিএম কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষে জুবায়ের ও কাজী মিলন একত্রিত হয়ে ফুল দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে যান মঈন তুষার। এক পর্যায় তুষার তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মী জোবায়েরকে হুমকি দেয়।
এক পর্যায় মন্ত্রীর সামনেই জোবায়েরকে মারধর করে তুষার ও তার সহযোগিরা। এসময় জুবায়ের’র সহযোগিরাও তুষার এবং তার সমর্থকদের উপরে পাল্টা হামলা চালায়। এক পর্যায় সার্কিট হাউজে দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হ্যান্ড মাইক দিয়ে ছাত্রলীগকে একাধিকবার শান্ত হতে বললেও তারা মন্ত্রীর কথার কর্ণপাত করেনি বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।এক পর্যায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এজন্য বরিশাল ও বিএম কলেজ ছাত্রলীগের এমন পরিস্থিতি দেখে হতবাক হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এমনকি রাতের খাবার না খেয়েই চলে যান তিনি। তবে বরিশাল সদর আসনের সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজের অনুরোধে এখানকার আওয়ামীলীগ, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সাথে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অচিরেই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) এবং বার্ন ইউনিট উদ্বোধন করা হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন। সেই সাথে বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের আমুল পরিবর্তন আনা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।