ছাত্রনেতাদের অস্ত্রাগার ছাত্রাবাস ও মেস

জুবায়ের হোসেন॥ নগরীর স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এর ছাত্রাবাসগুলো এখন ছাত্রনেতা নামের সন্ত্রাসীদের অস্ত্রাগারে পরিণত হয়েছে। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্রাবাসই নয় এ সংলগ্ন মেস বাসাগুলোও একইভাবে ব্যবহার হচ্ছে অস্ত্র সংরক্ষনের কাজে। সামান্য বিষয় নিয়ে হওয়া ঝামেলায় প্রতিনিয়তই এ সকল স্থান থেকে বের হয়ে আসছে ধারালো দেশীয় অস্ত্র। যে অস্ত্র দিয়ে ছাত্রলীগ নামধারীরা করছে সাধারন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাসহ ছিনতাইয়ের মত কাজ। তবে সবার জানা এই অস্ত্রাগারে চলছে না কোন প্রসাশনের অভিযান বলে জানায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্টরা। উপরের অভিযোগগুলোর সাথে বিস্তারিত তথ্যে তারা জানায়, বরিশালে যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনিতী চলে তাদের মধ্যে অন্যতম ব্রজমোহন কলেজ, হাতেম আলী কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, বরিশাল কলেজ, বরিশাল ল’ কলেজ ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। এ সকল প্রতিষ্ঠান থেকে বিগত দিনে বের হয়েছে খ্যাতিমান ছাত্রনেতা। তবে সেকাল একালে বিস্তর ফারাক রয়েছে। কারন তখন ছিল সাংগঠনিকতা। আর বর্তমানে আছে অস্ত্রের ঝনঝনানি। আর এই দিক দিয়ে এগিয়ে আছে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। এর প্রধান ছাত্রবাসে এখন ছাত্র কম, অস্ত্রই বেশি রাখা আছে। ছাত্রবাসের ছাত্রনেতাদের দখলকৃত কক্ষগুলোতেই রক্ষিত থাকে এই অস্ত্র সমূহ। নেতাদের টাকায় তৈরি এই অস্ত্রের তত্ত্বাবধান করে ছিচকে ছাত্রলীগ নেতারা। শুধু কক্ষেই নয় ছাত্রাবাসের বিভিন্ন আনাচে কানাচে আছে এই অস্ত্র। যার প্রমান মেলে তুচ্ছ তুচ্ছ ঝামেলায় অন্ত্রের মহরায়। পলিটেকনিক সংলগ্ন টুইনটাওয়ার মেসটিও এক বড় অস্ত্রাগার। এখানেও অনেক দেশি অস্ত্র আছে বলে জানায় সূত্রটি। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট আকারে ছোট হলেও এর বিগত ছাত্রলীগ নেতাদের ইতিহাসে উজ্জীবিত হয়ে বর্তমানের ছাত্রলীগ আরও হিং¯্র হয়ে উঠেছে। এরপর রয়েছে বিএম কলেজ, আয়তনে বিশালাকার হওয়ায় এখানেও রয়েছে বিপুল অস্ত্র সংগ্রহ। জীবনানন্দ দাস ছাত্রবাস (হিন্দু হল), মুসলিম হল এর প্রতিটি ব্লকের প্রতিটি রুমেই কমপক্ষে ২/৪টি ধাড়ালো অস্ত্র রয়েছে। বিএম কলেজের অস্ত্রের এক বিশাল ভান্ডার রয়েছে বাকসু ভবনের আশপাশ ঘিরে। নগরীর বড় বড় দ্বন্দ্বে এখান থেকে অস্ত্র সরবরাহ করা হয় বলেও জানা গেছে। এখানের তত্ত্ববধানেও ছাত্রলীগ। তৃতীয় সরকারী হাতেম আলী কলেজ। এই কলেজে অস্ত্র সংরক্ষণ করা হয় এর আশপাশের পুকুর, ডোবা, নালার মধ্যে। সুরক্ষিত ভাবে পানির নিচে বস্তা ভরা অবস্থায় এখানেও সংরক্ষিত আছে বিপুল দেশীয় অস্ত্র। হাতেম আলী কলেজের করিম কুটির এলাকায় ছাত্রবাসেও কিছু অস্ত্র সংরক্ষিত আছে বলে জানায় সূত্রটি। বরিশাল কলেজ, ল’কলেজ নেতাদেরও অস্ত্র ভান্ডার রয়েছে তবে তারা তা সংরক্ষনের স্থানের অভাবে সহায়তা নেয় অন্যদের যেমন বিএম কলেজ, পলিটেকনিক কলেজের। এই অস্ত্র প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসে প্রকাশ্যেই, তবে ছাত্রনেতা হওয়ায় এবং তাদের তত্ত্বাবধানে থাকায় কেউই মুখ খুলতে রাজী হয় না। আর প্রশাসন সে তো জনগনের বন্ধু! বলে উক্তি করে অভিযোগকারী উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্ট সূত্র। এ বিষয়ে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হকের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমনটা হওয়া কখনই সুখকর নয়। আর এর ফলাফলও খারাপ। তাই এই পরিস্থিতি উত্তরনে সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপ নেয়া উচিত। একই বিষয়ে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ড. নুরুল ইসলাম ক্ষোভের সাথে বলেন, ইনস্টিটিউট ছাত্ররা পড়ালেখায় অমনোযোগী হয়ে এ সকল বিতর্কিত কাজ করছে। তাদের সঠিক পথে আনার যাবতীয় প্রচেষ্টাই করা হয়। ছাত্রাবাসে অস্ত্রভান্ডার থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, তার দাবী প্রশাসনের কাছে ঐ সকল অস্ত্র খুজে বের করুন। প্রয়োজনে ছাত্রাবাসে বিশেষ অভিযান চালিয়ে হলেও তা করুন। আর এই অভিযানে যাদেরকেই জড়িত পাওয়া যাবে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের সহযোগীতায় কামনা করেন তিনি। উক্ত বিষয়ে বরিশাল মহানগর পুলিশের মুখপাত্র, সিনিয়র সহকারি পুলিশ কমিশনার আজাদ রহমান বলেন, অচিরেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। আর যে অস্ত্র গুলো প্রদর্শিত হয়ে আসছে তা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হে