ছাত্রদলে নেতৃত্ব সংকট

জুবায়ের হোসেন ॥ বরিশালের জেলা ও মহানগরের বর্তমান ছাত্র নেতাদের দিয়ে গঠিত হয়েছে যুবদলের দুই কমিটি। যুবদলের এই কমিটি গঠনে ছাত্রদলের জেলা ও মহানগর শাখায় নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। তাই দ্রুত ছাত্রদলের কমিটির দাবি জানিয়েছেন দুঃসময়ে পদবি ছাড়া ছাত্রদলের হাল ধরে রাখা নেতাকর্মিরা। বৃহস্পতিবার সারাদেশের ১২ সাংগঠনিক জেলার সাথে বরিশালের ওই দুই কমিটি ঘোষনা করা হয়। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা কামরুজ্জামান দুলাল স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি ঘোষনা করা হয়। জানা গেছে, ঘোষিত কমিটি বরিশাল (দক্ষিন) জেলা ৬ ও মহানগর ৭ সদস্য বিশিষ্ট। বরিশাল দক্ষিন জেলার সভাপতি হিসেবে রয়েছেন সদ্য সাবেক ছাত্র নেতা পারভেজ আকন বিপ্লব ও সাধারন সম্পাদক হচ্ছেন অ্যাডভোকেট এইচএম তসলিম উদ্দিন। এছাড়া দক্ষিন জেলার অন্য চারটি পদধারীরা হলেন সহ-সভাপতি মামুন রেজা খান ও মো. সাজ্জাদ হোসেন, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাওলা রাব্বী শামীম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আহমেদ বাবলু।
মহানগরের সভাপতি হচ্ছেন আক্তারুজ্জামান শামীম ও সাধারন সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন। অন্যান্যদের মধ্যে সহ-সভাপতি কামরুল হাসান রতন ও মাকসুদুর রহমান মাসুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল হাসান জাহান ও শহিদুল হাসান আনিচ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান পলাশ।
এর আগে সর্বশেষ ২০০৭ সালে যুবদলের ওই দুই শাখার কমিটি ঘোষনা হয়। এর মধ্যে মহানগর যুবদলের পাল্টাপাল্টি কমিটি ঘোষনা করা হয়েছিল।
এদিকে ঘোষিত কমিটির পদধারী দক্ষিন জেলার সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচএম তসলিমউদ্দিন জেলা ছাত্রদলের জেষ্ঠ্য যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন। একইভাবে জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মাসুদ হাসান মামুন মহানগরের সাধারন সম্পাদক হয়েছেন। মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাজহারুল হাসান জাহান মহানগর ছাত্রদলের জেষ্ঠ্য যুগ্ম আহবায়ক অপর যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শহিদুল হাচান আনিচও মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক। সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান পলাশ একই শাখা ছাত্র দলের যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন।
দক্ষিন জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাওলা রাব্বী শামীম কোতয়ালী থানা ছাত্রদলের সভাপতি।
তৃনমূলের নেতা কর্মিরা জানিয়েছে, ছাত্রনেতাদের যুবদলের কমিটিতে নেয়ার পূর্বে ছাত্রদলের কমিটি করা উচিত ছিল। ছাত্রদল থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি না দিয়ে বর্তমান পদ আগলে রাখা নেতাদের দিয়েই করা হয়েছে যুবদলের কমিটি। কিন্তু আগে অপরিকল্পিতভাবে যুবদলের কমিটি করে ছাত্রদলকে নেতৃত্ব শুন্য করা হয়েছে। তাই এই কমিটি গঠনের পর তা আনন্দের বদলে ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তাই দ্রুত কমিটি দিয়ে সমস্যা সমাধান করা উচিত। এ বিষয়ে ছাত্রদলের জেলার যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম সুজন বলেন, ছাত্রদল অনেক বড় সংগঠন। কোন নেতা নির্ভর নয়। দীর্ঘদিন ধরে আহবায়ক কমিটি রয়েছে। তাই কমিটির প্রয়োজন রয়েছে। দ্রুতই কেন্দ্র কমিটি দেবে।
এই বিষয়ে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ও যুবদলের বরিশাল মহানগরের সাধারন সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন বলেন, যুবদল করার জন্য আমরা ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে অব্যাহতি নেয়ার ঘোষনা অনেক আগেই দিয়েছি। এখন যুবদলের রাজনীতি করবো। তাদের শূন্যতা পূরনে খুব দ্রুত ছাত্রদলের কমিটি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই বিষয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কামরুজ্জামান দুলাল কমিটি ঘোষনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তারা পূর্বের পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে বর্তমানের যুবদলের দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে মৌখিক ঘোষনা দিয়ে পদ আগলে রাখা বর্তমান যুবদল নেতাদের ওপর ত্যাগী ছাত্রদল নেতাদের ক্ষোভ অনেকটাই প্রকাশ্যে আসতে শুরু হয়েছে। একাধিক পদ পদবি আটকে রাখা নেতাদের ওপর তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাদের সাথে যুবদলের পদ পদবি পাওয়ার যোগ্যতা রাখা নেতারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদে নেমে এসেছে। গতকাল এরই ধারাবাহিকতায় নব্য কমিটির প্রতিবাদে টাউনহল দলীয় কার্যালয়ে তালা মেরে দেয় তারা। বর্তমান যুবদলের পদ পদবিতে আসা নেতাদের অধিকাংশই বিতর্কিত জানিয়ে এ প্রতিবাদ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছ ছাত্র ও যুবদলের একাধিক কর্মী। তারা জানান, শিঘ্রই এখানকার সিনিয়র নেতারা পরিস্থিতি সামালাতে কোন পদক্ষেপ না নিলে দলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।