ছাত্রদলের হরতাল পালন হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ হরতাল ডেকে ঘুমিয়ে কাটালো বরিশালের ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা। যার ফলে গতকাল বুধবার বরিশালে পালিত হয়নি ছাত্রদলের ডাকা হরতাল। পাশাপাশি প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা আর সতর্ক অবস্থানের কারনে স্বাভাবিক ছিলো যানবাহন ও নগর জীবন। নগরীতে হরতাল সমর্থনে একটি মাত্র বিক্ষোভ মিছিল ছাড়া কোথাও পিকেটিং কিংবা হরতাল সমর্থকদের দেখা যায়নি।
সূত্রমতে, বরিশাল জেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মাসুদ হাসান মামুনকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে জেলা ও মহানগর সহ বিভাগে হরতাল আহবান করে ছাত্রদল। গত সোমবার জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হাফিজ আহম্মেদ বাবলু স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হরতালের ডাক দেয়া হয়।
এদিকে পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী গতকাল বুধবার বরিশাল বিভাগে হরতাল পালনের কথা থাকলেও তা পালন করেনি জেলা বা মহানগর ছাত্রদল। তবে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জেলা ছাত্রদল নেতা সোহেল রাঢ়ীর নেতৃত্বে কাশিপুর আনসার ক্যাম্পাস সংলগ্নে হরতাল সমর্থনে একটি মিছিল বের হয়। তাও পুলিশ খবর পাওয়ার আগেই মিডিয়া কভারেজ নিয়ে কেটে পড়ে মিছিলকারীরা। এছাড়া সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোথাও দেখা যায়নি হরতালকারীদের। এমনকি বরিশাল নগরী বা জেলার বাইরে অন্য কোন জেলায় বরিশাল জেলা ছাত্রদলের ডাকা হরতালে সাঁড়া দেয়নি।
এমনকি জেলা-মহানগর ছাত্রদল শুধু মাত্র হরতাল ডেকে জনমনে আতংক সৃষ্টি করে ঘরে ঘুমিয়ে থেকে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছে বলে অভিযোগ করেছে কর্মীরা। সিনিয়র নেতারা ঘুমের ঘোরে হরতাল পালন করায় কর্মীরা নামেনি রাজপথে। আর এসব কারনে হরতালের প্রভাব মুক্ত নগর জীবন ছিলো স্বাভাবিক। যে ভাবে নগরের অভ্যন্তরে চলাচল করেছে গন পরিবহন, ঠিক সেভাবেই আন্ত জেলা ও মহা সড়কে চলাচল করতে দেখা গেছে আভ্যন্তরিন এবং দুরপাল্লার যানবাহন।
বরিশাল-টুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন জানান, গতকাল ছাত্রদলের হরতাল থাকা সত্যেও তাদের সমিতি থেকে নিয়মিত বাস ছেড়ে গেছে। যাত্রী সংখ্যাও ছিলো মোটামুটি। তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি তারা বাস মালিক এবং শ্রমিকরা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। যার ফলে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
নথুল্লাবাদের পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন পরিবর্তনকে জানান, সকল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিটি রুটেই রোটেশন অনুযায়ী যাত্রী নিয়ে তাদের বাস ছেড়ে গেছে।
অন্যদিকে নগর পুলিশের মুখপাত্র মো. আজাদ রহমান জানান, বরিশালে কোন হরতাল পালন হয়নি। নগর জীবন স্বাভাবিক ছিলো। গতকাল হরতালের দিন পুলিশ, ব্যাটালিয়ান ও আনসার মিলিয়ে তাদের ৬শতাধিক সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করেছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং স্থাপনা গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং তল্লাশি চৌকি জোরদার ছিলো।