চর কাউয়া মিনিবাস মালিক সমিতি দখল নিয়ে সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ চর কাউয়া মিনিবাস মালিক সমিতি দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল রবিবার সদর উপজেলার চরকাউয়া বাস টার্মিনালে এই ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মী সহ দুইজন আহত হয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবি এবং মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম উদ্দিনকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এর পূর্বে নবগঠিত মালিক সমিতির কমিটি বাতিলের দাবীতে দুপুর থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বাস ধর্মঘট পালন করে মালিক ও শ্রমিকরা।
চরকাউয়া মিনিবাস মালিক সমিতির সদস্যরা জানায়, সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণ’র মৃত্যুর পর সকল বাস মালিকদের কন্ঠ ভোটে নতুক কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও চর কাউয়ার ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবিকে সভাপতি এবং নূরুল ইসলাম খানকে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এর পর থেকেই একটি মহল বাস মালিক সমিতি জবর দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো।
এর পরিপ্রেক্ষিতে হঠাৎ করেই সমিতির কাউকে কিছু না জানিয়ে চরকাউয়া মিনিবাস মালিক সমিতির ভূয়া এবং পকেট কমিটি ঘোষনা করে জবর দখলের চেষ্টা চালায় ঐ গ্রুপটি। এই কমিটিতে বাস মালিক নূরুল ইসলাম মোল্লাকে আহ্বায়ক ও উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক এইচ এম জাহীদকে সদস্য সচিব করে আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়।
এদিকে তথা কথিত ঐ কমিটি ঘোষনা এবং পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরে চরকাউয়া মালিক সমিতি ও শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর জের ধরে গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মালিক ও শ্রমিকরা আন্দোলন করলে পুলিশ তাদের বাধা এবং ধাওয়া করে। এতে বিক্ষুব্ধ মালিক ও শ্রমিকরা চর কাউয়া থেকে ৮টি রুটে বাস ধর্মঘট শুরু করে।
এ ঘটনার পর পরই অবৈধ ভাবে গঠিত আহ্বায়ক কমিটির স্ব-ঘোষিত আহ্বায়ক নূরুল ইসলাম মোল্লা ও ছাত্রলীগের এইচ এম জাহীদ’র পক্ষে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন ও সাধারন সম্পাদক অসীম দেওয়ান এবং জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক সহ তাদের বাহিনী চরকাউয়া বাস মালিক সমিতি কার্যালয় জবর দখলের জন্য যান বলে অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবি।
এসময় বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম’র উপস্থিতে কার্যালয়ের মধ্যে দুই পক্ষের মাঝে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায় ছাত্রলীগের জসিম, অসীম ও রাজ্জাক সমর্থক ছাত্রলীগ নামধারী ক্যাডাররা মনিরুল ইসলাম ছবিকে লাঞ্ছিত করে। এ নিয়ে ছাত্রলীগ ও বাস মালিক এবং শ্রমিকদের কার্যালয়ের মধ্যেই তুমুল সংঘর্ষ বাধে। এসময় ছাত্রলীগ কর্মী আরিফ ও সাগর রক্তাক্ত জখম হয়। বিকাল চারটার দিকে শুরু হওয়া দুই পক্ষের সংঘর্ষ প্রায় আধা ঘন্টা ধরে চলে। এসময় ছাত্রলীগ কর্মীদের মারধর এবং নগর ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম উদ্দিনকে ধাক্কা ধাক্কি ও লাঞ্ছিত করে। ঘটনাস্থলে ওসি রেজাউল করিম এবং অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থ হয়।
খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (এসি) অপু সরোয়ার’র নেতৃত্বে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও পুলিশের অতিরিক্ত সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে মৃদু লাঠি চার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
সহকারী পুলিশ কমিশনার অপু সরোয়ার ছাত্রলীগ-শ্রমিক এবং মালিক সমিতির দুই পক্ষকের মধ্যে সমঝোতা বৈঠক করেন। এসময় তিনি উভয় পক্ষকে সমাধানের জন্য আজ সোমবার সমঝোতা বৈঠকে বসার জন্য বলেন। এই বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা শান্ত হয়। পরে সহকারী পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপে বিকাল ৫টার দিকে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করে যাত্রীপরিবহন শুরু করে বাসগুলো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমিতির ও সদর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবি বলেন, কিভাবে এবং কারা কমিটি গঠন করেছে তা আমরা বাস মালিকরা জানিনা। পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি একটি কমিটি হয়েছে। তিনি বলেন, কথিত কমিটির পক্ষে বাস মালিক সমিতি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। এসময় মালিক এবং শ্রমিকদের বাধার মুখে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায় ছাত্রলীগের দখলবাজরা।
জানতে চাইলে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের মধ্যে বাস মালিক সমিতি নিয়ে একটু বিরোধের সৃষ্টি হয়। তারা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ বিষয়টি সমাধানের জন্য চরকাউয়া বাস টার্মিনালে যান। এসময় শ্রমিকরা উত্তেজনার সৃষ্টি করে। তবে ছাত্রলীগ আ’লীগের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের সমাধান করে দিয়েছে।
বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন, বাস মালিক সমিতি’র কমিটি গঠন নিয়ে মালিকদের মধ্যে একটু উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিলো। পরে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা সমঝোতার জন্য আসলে দুই পক্ষের মধ্যে একটু হাতাহাতি হয়েছে। তবে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার পূর্বেই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।