চৌমাথা এলাকায় বিসিসি’র উচ্ছেদ অভিযান ॥ ভবন মালিক’র দাবি ষড়যন্ত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর চৌমাথা এলাকায় সড়কের মধ্যে অবৈধভাবে নির্মিত তিন তলা ভবনের দেয়াল ভেঙ্গে ফেলেছে ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল সোমবার বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী হাকিম’ ইমতিয়াজ মাহমুদ জুয়েল’র পরিচালনায় ভ্রাম্যমান আদালত ওই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। তবে অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভবন মালিক। বিসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দাবি করা ঘুষ না দেয়া ও প্রতিবেশি প্রভাবশালীর সাথে দ্বন্ধ থাকার খেসারত দিতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভবন মালিক মো. ওমর ফারুক। ওই দাবি অস্বীকার করে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে নির্মিত ভবনের দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযান নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।
ভবন মালিক মো. ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, চৌমাথা ঘোষ বাড়ী এলাকায় জমি ক্রয় করে বিসিসি’র নিয়ম মেনে প্লান নিয়ে তিনতলা ভবনটি নির্মান করেন। সেখানে বসবাস শুরুর পর থেকে নানা কারনে প্রতিবেশী সরকারী উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা (উপ-সচিব) মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে তার বনিবনা হয়নি। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠেনি। এই কারনেই তার বিরুদ্ধে বিসিসি’র রাস্তা দখল করে ভবন নির্মনের অভিযোগ দেয়া হয়। ভবন মালিক মো. ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, বিসিসি’র একাধিক নোটিশ পেয়ে নগর ভবনে গেলে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবী করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহেদুজ্জামান। ঘুষের টাকা না দেয়া এবং প্রতিবেশি মোস্তাফিজুর রহমানের ফোনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মো. ওয়াহেদুজ্জামান’র নির্দেশে ভ্রাম্যমান আদালত ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার দেয়াল ভেঙ্গে ফেলেছে।
মো. ওমর ফারুক বলেন, ঘোষবাড়ি সড়কে উপ-সচিব মোস্তাফিজুর রহমানের সহ আরও ৩ জনের ভবন একই ভাবে বিসিসিরি রাস্তা দখল করে তৈরি করা হয়েছে। যার অভিযোগ তিনি গত ৮ জুলাই লিখিত অভিযোগ আকারে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দিয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমলে নেননি। আর এখন ভ্রাম্যমান আদালত শুধুমাত্র তার ভবনটিই ভেঙ্গেছে। অন্য কোন ভবনের দিকে ফিরে তাকায়নি।
অভিযোগ গুলোর বিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহেদুজ্জামান জানান, ওই ব্যাক্তি প্লান পাশ করালেও নিয়মানুযায়ী রাস্তা থেকে ৩ ফুট স্থান না রেখেই ভবন নির্মান করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে একাধিকবার ভবনের বর্ধিত অংশ ভেঙ্গে ফেলার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি। তাই ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ঘুষ দাবি করার অভিযোগের বিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয় তারা প্রায়শই এমন নানা ধরনের কথা বলে থাকেন। ভবন মালিকের করা অভিযোগগুলোর কোনটিরই সত্যতা নেই বলেন তিনি। একই অভিযুক্ত এলাকার অন্য ভবনগুলোর বিরুদ্ধে কি ব্যাবস্থা নেয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিসিসির জমি দখল করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেয়া হবে।