চোরের হাত থেকে ফুলগাছ বাঁচাতে বন্ধ শেবাচিমের আইসিইউ ভবনের প্রধান ফটক !

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ গত ২৩ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম-এমপি আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন দক্ষিণাঞ্চলবাসীর প্রানের দাবী শেবাচিম হাপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)। এর মাধ্যমে এই হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম আরেক ধাপ এগিয়ে যায়। তবে এখানকার রোগীদের দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারনে ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগীদের। ঠিক তেমনি আইসিইউ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও রোগী এবং স্বজনদের ভোগান্তি লেগেই রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রীর আসার কারনে আইসিইউ ভবনের প্রধান ফটকে থাকা গেটটি খুলে দেয়া হয়। কিন্তু তিনি যাবার পর পরই চোরের হাত থেকে ফুলগাছ রক্ষা করতে আবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে প্রধান ফটকটি ! এর ফলে শুধুমাত্র আইসিইউ রোগীরা এবং তাদের স্বজনরাই নয়, ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে একই ভবনে থাকা করোনারী কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) এবং বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারী ইউনিটের রোগী এবং স্বজনদের। গেটটি বন্ধ করে দেয়ায় জরুরী প্রয়োজনেও রোগীর ওষুধ কিংবা চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করতে পুরো হাসপাতাল ঘুরে পৌছতে হচ্ছে আইসিইউ ভবনে। বিশেষ করে রাতে ওই ভবনে আসা যাওয়া করতে হলে জরুরী বিভাগের গেট ছাড়া আর কোন উপায় থাকছে না। অনেক সময় ওষুধ নিয়ে পৌছাবার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে রোগীরা। এসব কারনে আইসিইউ’র প্রধান গেটটি বন্ধ রাখায় কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে রোগী এবং তাদের স্বজন সহ সংশ্লিষ্ট মহলে।
সূত্র মতে, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উত্তর-পূর্ব পাশে রয়েছে পৃথক আইসিইউ, সিসিইউ ও ক্যাজুয়ালীটি ভবন। ওই তিনটি ইউনিটে কমপক্ষে দেড়শ’র মত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। তাছাড়া হাসপাতালের সবচেয়ে গুরুত্বপূণ ওয়ার্ড হিসেবে ওই তিনটি ইউনিটকেই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ওই ভবনে রোগী ও স্বজনদের প্রবেশের জন্য রয়েছে পৃথক গেট। যাতে খুব সহজেই রোগীদের প্রয়োজনে জরুরীভাবে ওষুধপত্র সরবরাহ করা যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই অদৃশ্য কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই গেটটি বন্ধ রেখেছে। এ কারনে মুমুর্ষ রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র এবং চিকিৎসা সামগ্রী সংগ্রহে পদে পদে বিপত্তির শিকার হতে হচ্ছে স্বজনদের। বিশেষ করে কোন রোগীর খুবই দ্রুত ওষুধের প্রয়োজন হলে স্বজনকে একাধিক ওয়ার্ড ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দোকান থেকে ওষুধ নিতে হচ্ছে। তাছাড়া আইসিইউ রোগীদের সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষনের জন্য ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়। কিন্তু হাসপাতালের একমাত্র প্যাথালজী বিভাগটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দুপুরের পর পরই। এর পরবর্তী সময়ে রোগীদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাড়ায় বাইরের ব্যক্তিমালিকানা প্যাথলজী। কিন্তু আইসিইউ ভবনে রোগীর স্বজনদের প্যাথলজি কিংবা ফার্মেসীতে আসা যাওয়া করতে গিয়ে সংকটময় মুহুর্তে পৌছে যায় রোগীরা। তবে এসব কিছুই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারনে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী এবং তাদের স্বজনরা।
এদিকে সপ্তাহ খানেক আগে বরিশালে এসে ঘটা করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট’র কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করে গেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে গত ২৩ জুলাইয়ের আগ থেকেই ওই ইউনিটের গেটটি খোলা রাখা হয়। এতে করে রোগীর স্বজনদের দূর্ভোগের অবসান ঘটে। তাদের ধারনা ছিলো পরবর্তীতে গেটটি নিয়োমিতভাবেই খোলা রাখা হবে। কিন্তু মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকেই গেটটি ফের বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাই ওই গেটটি খুলে দেয়ার দাবী জানিয়েছে সেখানকার রোগী ও স্বজনরা।
এ ব্যপারে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এসএম সিরাজুল ইসলাম জানান, ফুল গাছ চোর নিয়ে যাবে। তাই গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে রোগী বা তাদের স্বজনদের আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হবে।