চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তল্লাশীর প্রতিবাদে নগরীতে বিএনপির বিক্ষোভ

রুবেল খান ॥ বিএনপি’র চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পুলিশী তল্লাশীর ঘটনায় রাজপথে নেমেছে বিএনপি ও তার অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে মিছিলের চেষ্টা এবং বিক্ষোভ সমাবেশে করেছে তারা। এজন্য গতকাল রোববার সকাল থেকেই উত্তপ্ত ছিলো বিএনপি’র রাজনৈতিক মাঠ। মহানগর, উত্তর এবং দক্ষিণ বিএনপি’র পাশাপাশি রাজপথে সক্রিয় আন্দোলনে দেখা মিলেছে দীর্ঘদিন রাজনীতি ঝিমিয়ে পড়া বিএনপি নেতা-কর্মীদের। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে মিছিল বের করতে চাইলে তা পুলিশের বাঁধায় পন্ড হয়ে যায়। এমনকি দলীয় কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে নেতা-কর্মীরা পুলিশি ধাওয়া এবং হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ বিএনপি নেতা-কর্মীদের।

নেতা-কর্মীরা জানান, শনিবার বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের দলীয় কার্যালয়ে কোন কারন ছাড়াই হঠাৎ তল্লাশী অভিযান চালায়। এর প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ঘোষনা করে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটি। এরই অংশ হিসেবে গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে নগরীর সদর রোডে বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ এর আয়োজন করে জেলা ও মহানগর বিএনপি। জেলা বিএনপি’র সভাপতি এবায়দুল হক চান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এবং মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক এমপি এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার। বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ ঘোষনার পর থেকেই আওয়ামী লীগের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনা বুঝতে পেরেছেন অগণতান্ত্রিকভাবে তিনি এখন আর ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন না। এটা বুঝতে পেরেই তিনি নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। স্বৈরাচারী অবৈধ সরকার পুলিশ বাহিনী দিয়ে দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে ভাংচুর এবং অবৈধ ভাবে তল্লাশী করিয়েছেন। পুলিশ দিয়ে তল্লাশী, নেতা-কর্মীদের হামলা-মামলায় জড়িয়ে বিএনপিকে ভয় দেখানো যাবে না। অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপির উপর যতই পুলিশি নির্যাতন ও হয়রানী করুক, ততটাই দূর্বার গতিতে বিএনপি এগিয়ে যাবে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে।

তিনি বলেন, বাংলার মাটিতে আওয়ামী লীগ আর কখনই এককভাবে নির্বাচন করতে পারবে না। জাতীয়তাবাদী শক্তি তাকে এককভাবে নির্বাচন করতে দেবে না। উন্নয়নের নামে মানুষের মৌলিক ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে আ’লীগ জনগনকে গনতন্ত্র শেখাচ্ছে। যে দেশে গনতন্ত্র নেই, সেই দেশে উন্নয়ন কখনই মঙ্গলকর হয় না। কেননা দেশ স্বাধীনের পূর্বেও দেশের উন্নয়ন করা হয়েছিলো। কিন্তু বাংলার মুক্তিকামী মানুষ সেই উন্নয়ন চায়নি। তারা চেয়েছিলো স্বাধীনতা। যা ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। ঠিক সেভাবে করেই স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ বিএনপি’র পতাকাতলে এসে অবৈধ সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করবে।

সমাবেশে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, মহানগর বিএনপি সহ-সভাপতি মনিরুল আহসান তালুকদার মনির, মহানগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক জিয়া উদ্দিন সিকদার, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আবুল কালাম শাহিন, মহানগর বিত্রনপি যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন, কোতয়ালী বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড. কাজী এনায়েত হোসেন বাচ্চু, কোতয়ালী বিএনপি সহ-সভপতি আনোয়ার হোসেন লাবু, স্বেচ্ছাসেবক দল বরিশাল জেলার আহ্বায়ক ও বিসিসি’র প্যানেল মেয়র আলহাজ কেএম শহিদুল্লাহ, মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক এ্যাড মীর জাহিদুল কবীর জাহিদ, মাহাবুবুর রহমান পিন্টু, জেলা যুবদল সভপতি এ্যাড. পারভেজ আকন বিপ্লব, মহানগর যুবদল সাধারন সম্পাদক এ্যাড. এইচ এম তছলিম উদ্দিন, মহানগর ছাত্রদল আহবায়ক খন্দকার আবুল হোসেন লিমন প্রমুখ। এর পূর্বে জেলা ও মহানগর বিএনপি’র পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল সহকারে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হন। সমাবেশ শেষে মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশের বাঁধায় তা পন্ড হয়ে যায়।

এদিকে বিকালে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপি’র উত্তর জেলা শাখা। কমিটির সভাপতি ও সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ এর নেতৃত্বে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ তাতে বাঁধা দিলে টাউন হলের সম্মুখে এসে মিছিলটি পন্ড হয়ে যায়। তাছাড়া কর্মসূচি শেষে উত্তর জেলার নেতা-কর্মীরা ফেরার পথে তাদেরকে পুলিশ ধাওয়া এবং হামলার অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, সমাবেশ শেষ করে নেতা-কর্মীরা ফকিরবাড়ি সড়ক হয়ে ফিরছিলেন। এসময় কোতয়ালী থানা এবং ডিবি পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। এসময় মুলাদী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহে আলম এবং উপজেলা ছাত্রদল নেতা রোকনুজ্জামান সহ অনেকে পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হন। তবে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন হামলার শিকার ছাত্রদল নেতা রোকনুজ্জামান।

অপরদিকে বরিশাল মহানগর ও জেলা যুবদলের উদ্যোগে পৃথক পৃথক ভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শেষে মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ তাদের বাঁধা দেয়। এক পর্যায় টাউন হলের সম্মুখে এসে মিছিলটি পন্ড হয়ে যায়।

এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দল বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জেলার আহ্বায়ক আলহাজ্জ কেএম শহীদুল্লাহ, মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক এ্যাড মীর জাহিদুল কবীর জাহিদ, মাহাবুবুর রহমান পিন্টু, মহানগর ছাত্রদল আহবায়ক খন্দকার আবুল হোসেন লিমন প্রমুখ।