চিকিৎসক হারুনের কসাই খানায় এবার বলি ৪ সন্তানের জননী

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ কদিন যেতে না যেতে আবারো কশাই খ্যাত ডা. হারুন অর রশিদের হাতে বলি হলো ৪ সন্তানের জননী আরো এক গৃহবধূ। তার অপচিকিৎসার শিকার হয়ে গতকাল সোমবার নগরীর ক্লাব রোডে সাফায়াত জেনারেল হাসপাতালে বিবি রহিমা (৩৫) নামের গৃহবধূর অকাল মৃত্যু ঘটে। তবে সদর হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের সাবেক কনসালটেন্ড একাধিক রোগীর নিরব হত্যাকারী ডা. হারুন অর রশিদ এ হত্যা কান্ডের ঘটনাটিও ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে ধামা চাঁপা দিয়েছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে চিকিৎসার নামে একের পর এক রোগী হত্যার পরেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন কশাই ডাক্তার হারুন অর রশিদ। পুলিশের নাকের ডগায় নিজ বাড়িতে অবৈধ ক্লিনিক ব্যবসা করলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। এমনকি নিরবতা পালন করছে স্বয়ং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
জানাগেছে, ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরখালী গ্রামের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী বিবি রহিমা। গত ৩ মাস পূর্বে ঢাকার একটি হাসপাতালে তার গলায় টনসিল টিউমার অপারেশন করানো হয়। অপারেশনের পরে গলার ঐ স্থান থেকে একটি গুটির মত দেখা দেয়। এজন্য চিকিৎসক এর স্মরনাপন্ন হবেন বলে ভাবেন রহিমা বেগম এবং তার পরিবার।
পরবর্তীতে দালালের খপ্পরে পড়ে গত ২২ আগস্ট নগরীর পুলিশ লাইন্স এর সামনে সদর হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের সাবেক কনসালটেন্ড কশাই খ্যাত ডা. হারুন অর রশিদ এর কাছে নিয়ে আসা হয় রহিমাকে। ডা. হারুন পূর্বের নিয়মেই রোগীর গলার গুটি (সিস্ট) দেখা মাত্রই স্বজনদের জানায়, তার গলায় পাথর হয়েছে। এজন্য খুব দ্রুত অপারেশন করার পরামর্শ দেন ডা. হারুন।
এসব বলে রোগীর স্বজনদের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করে ১৪ হাজার টাকার চুক্তিতে পুলিশ লাইন্সের সামনে ডা. হারুনের নিজ বাড়িতে অবৈধ রওশন আরা মেমোরিয়াল ক্লিনিক নামের কশাই খানায় রাত ১২টায় ঐ রোগীর অপারেশন শুরু করেন কশাই হারুন। এসময় সহকারি ডাক্তার হিসেবে তার সাথে দায়িত্ব পালন করেন অপর হাতুড়ে ডা. আবির।
এদিকে অস্ত্রপচারের পর পরই ডা. হারুন অভিভাবকদের জানান, রোগীর জ্ঞান ফিরছে না। তার অবস্থা আশংকা জনক। এজন্য ঐ রাতেই ২টার দিকে তাকে পার্শ্ববর্তী ক্লাব রোডের সাফায়েত জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে নিবির পর্যবেক্ষনে (লাইফ সাপর্ট) রাখা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার সকালে বিবি রহিমা বেগম (৩৫) এর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে সকালে সাফায়াত জেনারেল ক্লিনিকে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মৃত রহিমার স্বামী আলমগীর হোসেন’র অভিযোগ কশাই ডা. হারুন অর রশিদের অপ- চিকিৎসার শিকার হয়েই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। কেননা এর পূর্বে তার স্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলো।
জানতে চাইলে ডা. হারুন অর রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অপারেশনের টেবিলে রোগীর মৃত্যু হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এর জন্য আমি দায়ি নই। কেননা ডা. আবির নামে যে চিকিৎসক রোগীকে অজ্ঞান করেছে সেই চিকিৎসক পরবর্তীতে রোগীর জ্ঞান ফিরিয়ে আনতে পারেনি। ভুল বা অপচিকিৎসা প্রদান করে থাকলে সেই দায়ভার সম্পূর্ণ অজ্ঞান করা চিকিৎসক (এ্যানেসথেসিও) ডা. আবিরের। তার পরেও যেহেতু আমার উপর দায়ভার চাপানো হয়েছে সে জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে সাফায়েত জেনারেল হাসপাতালের এবং মৃত দেহ বাড়িতে পৌছে দেয়ার যাবতীয় খরচ বাবদ ৭০ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কশাই ডাক্তার হারুন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, শুধু মাত্র বিবি রহিমা বেগমই নয়। ইতোপূর্বে আরো অসংখ্য রোগী ডা. হারুনের অপচিকিৎসার শিকার হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে। মাত্র কদিন পূর্বেও ১৭ মাস বয়সি এক শিশুর গলায় টনসিল অপারেশন করতে গিয়ে গলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেটে ফেলে। যে কারনে ঐ শিশুটির মৃত্যু হয়। তখনও পুলিশ এবং মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি ধামা চাপা দেন তিনি। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও বিষয়টি কর্নপাত হচ্ছে না স্বাস্থ্য বিভাগ কিংবা প্রশাসনের। যে কারনে চিকিৎসার নামে একের পর এক রোগী হত্যা করেও বহাল তবিয়তে মানুষের জীবন নিয়ে খেলায় মেতে আছেন কশাই ডাক্তার হারুন।