চার দিনব্যাপি জীবনানন্দ উৎসব কাল শুরু

সিদ্দিকুর রহমান ॥ “আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে, এই বাংলায় হয়ত মানুষ নয়, হয়তবা শঙ্খচিল শালিকের বেশে” জীবনের আনন্দ নিয়ে জীবনানন্দ দাশ বিমূর্তরুপে বার বার ফিরে আসেন এই প্রকৃতির কোলে। শঙ্খচিল আর শালিকের বেশে। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি কবির বরিশাল শহরে জন্ম। তিনি একজন শক্তিমান প্রগতিশীল আধুনিক কবি। তার কবি কীর্তি স্বতন্ত্রে উজ্জল। একবিংশ শতাব্দীতে মানবতার বিপন্ন ছবি তার কবিতায় প্রতিফলিত। বর্ণনায় সুস্পষ্টতা বাচনভঙ্গি ও শ্রেষ্ঠত্বে তিনি স্বতন্ত্র ও বিশিষ্ট কবি। তার প্রথমদিকের কবিতা বিষাদে আপ্লুত। তার ইতিহাস চেতনা সুগভীর। অতীত ও বর্তমানকে তিনি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের সূত্রে কবিতাকে তিনি গদ্যের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পেরেছিলেন। তার এই প্রভাব পরবর্তী কালের কবিদের উপর পড়েছিল। রবীন্দ্রনাথ যথার্থই বলেছিলেন তার কাব্য চিত্ররুপময়। বাংলা ভাষায় শুদ্ধতম কবি, বাংলা কবিতার চিরঞ্জীব রুপকার, রুপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন বরিশাল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২য় বারের মত আয়োজন করা হয়েছে। বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ৪দিন ব্যাপী উৎসবটি পালন করা হবে। জীবনানন্দ উৎসব আগামীকাল থেকে শুরু হয়ে আগামী ১ মার্চ পর্যন্ত চলবে। উৎসবটি উদযাপনের জন্য নগরীর অশি^নী কুমার হল এবং কবি জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি পাঠাগার ও মিলনায়তন ভবনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। আর এই উৎসবকে ঘিরে জীবনানন্দ ভক্তদের মধ্যে চলছে সাজ সাজ রব। এছাড়াও উৎসবে কবি জীবনানন্দের কবিতা আবৃত্তি, কবিতা ভিত্তিক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ৪ দিন ব্যাপী উৎসবের প্রথম দিনে রয়েছে সকাল ১০টায় নগরীর অশি^নী কুমার হলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন। জেলা প্রশাসক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ গাউস (অতিরিক্ত সচিব)। এছাড়াও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একই ভেন্যুতে প্রবন্ধ পাঠ অনুষ্ঠিত হবে। জীবনানন্দ দাশের কাব্য “দেশপ্রেম ও প্রকৃতি ভাবনা” পাঠ করবেন বিএম কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ হালদার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এ্যাড. এস এম ইকবাল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ স.ম. ইমানুল হাকিম, বিশেষ অতিথি থাকবেন যুগ্ম সম্পাদক যুগ্ম সচিব (অবঃ) এম মোয়াজ্জেম হোসেন। এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রান্তিক সঙ্গীত বিদ্যালয় কর্মীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে উৎসবের ২য় দিনে সকাল ১০টায় কবি জীবনানন্দের কবিতা ভিত্তিক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, সকাল সাড়ে ১০টায় জীবনানন্দ দাশ এর কাব্য ভিত্তিক বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, দুপুর ১২ টায় কবি আলাপন কবি জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি পাঠাগার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নগরীর অশি^নী কুমার হলে প্রবন্ধ পাঠ অনুষ্ঠিত হবে। জলপাই হাটির কবি প্রবন্ধটি পাঠ করবেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসান। এদিকে জেলা প্রশাসক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক থাকবেন অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ তপংকর চক্রবর্তী। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সফিকুন্নবী সামাদী (ডি.লিট), বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সচিন কুমার রায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় স্ব-রচিত কবিতা পাঠ ও বরিশাল অঞ্চলের কবিগণের কবিতা পাঠ অনুষ্ঠিত হবে। রাত ৮টায় শফিক ব্যালে ট্রুপ এর পরিবেশনায় নৃত্যানুষ্ঠান ও সাড়ে ৮টায় শব্দাবলী গ্রুপ থিয়েটারের পরিবেশনায় অতঃপর হাট্টিমা টিম টিম পরিবেশিত হবে। উৎসবের ৩য় দিন বিকেল ৪ টায় কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রবন্ধ পাঠ অনুষ্ঠিত হবে। জীবনানন্দ “ঢেউয়ের আঘাত” পাঠ করবেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ ভাস্কর সাহা। জেলা প্রশাসক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দৈনিক সমকালের সম্পাদক  ও পিআইবি’র চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার, বিশেষ অতিথি থাকবেন কবি আসাদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএম কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক শাহ সাজেদা। এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জেলা শিশু একাডেমীর পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে জীবনানন্দ উৎসবের সমাপনী দিনে নগরীর অশি^নী কুমার হলে বিকেল সাড়ে ৪টায় বরিশাল অঞ্চলের সৃজনশীল ও নবীন কবি, লেখক ও সাহিত্যিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা প্রশাসক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ গাউস। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা। এতে মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান শারমিন আক্তার। এদিকে সন্ধ্যায় সম্মাননা প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। রাত ৮টায় মুরাদের দলের পরিবেশনায় নৃত্যানুষ্ঠান ও জেলা শিল্পকলা একাডেমীর পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে সমাপনী অনুষ্ঠানে কবি জীবনানন্দ পদক প্রদান করা হবে। মানসম্মত জার্নাল কিংবা কবি জীবনানন্দ দাশের উপর প্রকাশিত প্রবন্ধ বা কবি জীবনানন্দ দাশের উপর অন্য যে কোন গবেষণা গ্রন্থ পদকের জন্য বিবেচিত হবে। ১লা জানুয়ারি ২০১৫ থেকে পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত স্ব-রচিত কাব্যগ্রন্থও কবি জীবনানন্দ পদকের জন্য বিবেচিত হবে।