চারদিন ধরে অবরুদ্ধ নার্সিং কলেজ অধ্যক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ গত চার দিন অবরুদ্ধ হয়ে আছেন বরিশাল নার্সিং কলেজ অধ্যক্ষ আলেয়া পারভিন। শিক্ষার্থীরা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে নিজ কার্যালয়ে তাকে অবরুদ্ধ রাখায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি। তার মধ্যে আবার অবরুদ্ধ থাকেও চাকুরী জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে চাকুরী হারানোর শংকায় দিন কাটাতে হচ্ছে তাকে। গতকাল বৃহস্পতিবার বরিশাল নার্সিং কলেজের একাডেমিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনস্থলে গিয়ে কলেজ অধ্যক্ষের মানবেতর জীবন যাপনের এমনই চিত্র দেখাগেছে।খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বরিশাল নার্সিং কলেজের একমাত্র একাডেমিক ভবনটি বেহাত হতে না দেয়ার বাদীতে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। ১৫ মার্চ সন্ধ্যা থেকে আন্দোলন শুরু হয়। এর পরবর্তী দিন সকালে কলেজে গিয়ে মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত করার নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ। এতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে একাডেমিক ভবনে অধ্যক্ষ অলেয়া পারভিনকে তার কার্যালয়ের মধ্যে তালাবব্ধ অবস্থায় অবরুদ্ধ করে রাখেন। সেই থেকে গতকাল পর্যন্ত তিনি ঐ কক্ষের মধ্যেই অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। না পারছেন প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে এবং না পারছেন ভবন থেকে বাইরে বের হতে। সাথে একটি মোবাইল ফোন থাকলেও কাউকে কল দিয়ে পারছেন না যোগাযোগ করতে। খাওয়া দাওয়া এবং গোসল করা সহ সব কিছুই ঐ কক্ষে অবরুদ্ধ থেকে করতে হচ্ছে অধ্যক্ষ আলেয়া পারভিনকে।
নার্সিং শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যক্ষকে কক্ষের মধ্যে থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। অধ্যক্ষকে বাহির থেকে তারা খাবার কিনে এনে দিচ্ছেন। ছাত্রীরা বলেন, এখন পর্যন্ত অধ্যক্ষের সাথে শুধু মাত্র ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মজিবর রহমান এবং গতকাল দুপুরে বিডিএনএ’র নেতৃরা দেখা করেছেন। এর বারে কারো সাথে যোগাযোগ করতে দেয়া হচ্ছে না। এমনকি গত বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ এবং একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার তার সাথে দেখা করার জন্য গেলেও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাদের দেখা করতে দেয়নি। ফলে ফিরে আসতে হয়েছে।
এদিকে অবরুদ্ধ অবস্থায় থেকেও চাকুরী জীবনের শেষ দিকে এসে চাকুরী হারানোর শংকায় ভুগছেন অধ্যক্ষ আলেয়া পারভিন। একাডেমিক ভবন নিয়ে সৃষ্ট অনাকাংখিত ঘটনার জন্য অধ্যক্ষকে দায়ি করার পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে এবং প্রশিক্ষক আলী আজগরকে চাকুরী থেকে সাময়িক সময়ের জন্য বহিঃস্কার অথবা শাস্তিমুলক বদলী করা হতে পারে বলেও গুঞ্জন রটেছে। এ অবস্থায় অবরুদ্ধ থেকে একাবারেই ভেঙ্গে পড়েছেন অধ্যক্ষ।