চারতলা থেকে রহস্যজনকভাবে পড়ে নারী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ চতুর্থ তলার ছাদ থেকে পড়ে নগরীর কাটপট্টি মায়া সুপার মার্কেটের মালিক সায়েলা আক্তার রুপা (৩৫) নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর রূপাতলী শের-ই-বাংলা সড়কে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রুপা আব্দুল মতিন এর স্ত্রী। তিনি শের-ই-বাংলা সড়কে খন্দকার প্লাজার দ্বিতীয় তলায় ভাইদের সাথে ভাড়া থাকত।
এদিকে গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে ব্যাপক রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তার মেয়ের পরিবার ঘটনাটি পরিকল্পিত ভাবে হত্যা দাবী করলেও ভাইয়ের পরিবার দাবী করেছে দুর্ঘটনা। তবে এ নিয়ে গতকাল শুক্রবার হাসপাতালে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক বাক-বিতন্ডার পাশাপাশি উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
নিহতের মেয়ে জানান, নগরীর কাটপট্টি আবাসিক হোটেল এ্যাথেনা’র বিপরীত দিকে তাদের মায়া সুপার মার্কেট নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন যাবত তাদের চাচা বাবুল শেরয়ানী পরিচালনা করে আসছে। তবে মাসে ভাড়া বাবদ কিছু টাকা তার মাকে দেয়া হত।
তিনি জানান, সম্প্রতি মার্কেটটি তার ছেলে-মেয়ে এবং জামাতার মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে দেয়ার কথা বলেন। এ নিয়ে বাবুল শেরওয়ানীর সাথে তার মায়ের দ্বন্দ্ব চলে আসছে। বেশ কয়েকবার এ নিয়ে সালিশ মিমাংশা হলেও বাবুল শেরওয়ানী তা মেনে নেয়নি। বরং যে মার্কেটের ভাগ চাইতে আসবে তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ নিহতের মেয়ের। আর এই ঘটনার জের ধরেই তার মাকে ৪র্থ তলার ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হতে পারেও অভিযোগ করেছেন নিহতের মেয়ে।
এদিকে ঘটনার পরে বিষয়টি জানতে চাইলে তার মা মমতাজ বেগম জানান, রুপার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দাম্পত্য কলহের কারণে সম্প্রতি স্বামী আব্দুল মতিনের সাথে রুপার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকেই রুপা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এজন্য তাকে একটি রুমের মধ্যে আটকে রাখা হত। গতকাল সে রুমের দরজা খোলা পেয়ে চতুর্থ তলায় গেলে সেখান থেকে নিচে পড়ে যায়। পরে তাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কোতয়ালী মডেল থানার এসআই গোলাম কবির বলেন, ছাদ থেকে পড়ে নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। তবে তাদের পরিবারের মধ্যে পরিবারিক বিরোধ চলে আসছে শুনেছি। তদন্তে বাকি রহস্য বেরিয়ে আসবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে রুপার মেয়ে মায়ের মরদেহের ময়না তদন্ত করতে চাইলেও তার ভাই এবং সহযোগিরা এতে বাধা প্রদান করে। তারা ময়না তদন্ত ছাড়াই হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ফলে বিষয়টি নিয়ে গতকাল বিকালে নিহতের মেয়ের সাথে তার মামা এবং অন্যান্যদের ঝগড়া এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।