চাচীর হাতে খুন হয় শিশু আলামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর পলাশপুর এলাকায় ৪ বছর বয়সী শিশু সন্তানকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে চাচী। গতকাল বুধবার তার জবানবন্দী রেকর্ড করেন বরিশাল মহানগর বিচারিক হাকিম মো. আনিছুর রহমান। এর আগে শিশুর চাচী আলমতাজ বেগম (২৮) পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর পুলিশের কাউনিয়া থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশপুর ১ নম্বর গুচ্ছগ্রাম এলাকার বাসিন্দা দিন মজুর সুজন হাওলাদারের শিশু পুত্র মো. আল আমিন সোমবার সকালে নিখোঁজ হয়। মঙ্গলবার বিকেল ৪ টার দিকে সুজনের ভাই মান্না সুমনের ঘরের খাটের নীচে লাকড়ি দিয়ে চাপা দেয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
আল-আমিন’র সন্দেহভাজন হত্যাকারী হিসেবে চাচী আলমতাজ বেগমকে আটক করা হয়। রাতে তাকে আসামী করে থানায় মামলা করে শিশুর বাবা সুজন হাওলাদার। মামলার আসামী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদে সে আল-আমিনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। একই সাথে আদালতেও স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, প্রতিদিন সকালে শিশু আল-আমিন তার বাসায় এসে দুষ্টমি করে। সোমবার সকালে এসে দুষ্টামি করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে বাসায় পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু আল-আমিন বাসায় যায়নি। আলমতাজ তার দুই সন্তানকে নিয়ে স্কুলে পৌছে দিয়ে এসে আল-আমিনকে দেখতে পায়। তখন আল-আমিনকে পূনরায় বাসায় যেতে বললে সে গালি দেয়। এতে আলমতাজ বেগম ক্ষুদ্ধ হয়ে চড় দিয়ে সিড়ির দিকে ধাক্কা দেয়। শিশু আল-আমিন নিয়ন্ত্রন হারিয়ে সিড়ির উপর থেকে নিচে পড়ে চিৎকার শুরু করে। দ্রুত নিচে নেমে এসে তার গলা চেপে ধরে কক্ষে নেয়। এতে শ্বাসরোধ হয়ে মারা গেছে সে। তখন লাশ খাটের নিচে রাখা লাকড়ি সরিয়ে চাপা দিয়ে রাখা হয়।