চাচার ঘর থেকে ভাতিজার লাশ উদ্ধার ॥ চাচী আটক

রুবেল খান ॥ নগরীর পলাশপুর এলাকায় চাচার ঘরের খাটের নিচে লাকড়ি দিয়ে চাপা দেয়া শিশু ছেলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার ৫নং গুচ্ছগ্রাম প্রথম গলিতে এই ঘটনা ঘটেছে। চার বছর বয়সী শিশু ছেলে আল-আমিনকে হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ চাচীকে আটক করেছে। শিশু আল-আমিন ওই এলাকার বাসিন্দা দিনমজুর সুজন হাওলাদারের ছেলে। আটক চাচী আলমতাজ বেগম শিশুর আপন চাচা মান্না সুমন’র স্ত্রী। শিশু আল-আমিন’র মৃত্যু’র রহস্য উদঘাটন না হলেও এলাকাবাসী চাচীকে হত্যাকারী হিসেবে সন্দেহ করছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী’র ধারনা শিশু আল-আমিনের হত্যাকারী চাচী। শিশুর  চাচা মান্না সুমন মাদকসহ আটক হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। তাই একাই থাকতো চাচী আলমতাজ। তার ঘরের খাটের নিচে লাকড়ি দিয়ে চাপা দেয়া অবস্থায় লাশ উদ্ধার হওয়ায় তাকে আসামী করে রাতে কাউনিয়া থানায় মামলা হয়েছে।  নিস্পাপ শিশুকে হত্যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে নানা গুঞ্জন, আলোচনা সমালোচনার ঝড়।
প্রতিবেশি নূরুন্নাহার বেগম জানান, তারা মান্না সুমনের টিন সেড ঘরের নিচ তলার ভাড়াটিয়া হিসেবে বাস করেন। একই ঘরের দ্বিতীয় তলায় থাকেন মান্না সুমন ও তার স্ত্রী আলমতাজ। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে তিনি ঘরে রান্না করতে ছিলেন। তখন পাটাতনের উপর থেকে তার পাশে কয়েক ফোটা রক্ত পড়ে। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় শিশু আল আমিনের ফুফু নুরজাহানকে নিয়ে পাটাতনের উপরে থাকা খাটের নিচে টর্চলাইট নিয়ে সন্ধান করেন। খাটের নিচে থাকা লাকড়ি দিয়ে শিশু আল আমিন’র  লাশ চাপা দেয়া অবস্থায় পেয়েছেন  তারা। তখন পুলিশকে খবর দেয়া হলে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের বাবা দিনমজুর সুজন হাওলাদার জানান, গত সোমবার সকাল ৮টার পর থেকেই শিশু পুত্র আল আমিন নিখোঁজ হয়। কোথাও তাকে না পেয়ে থানায় ওই দিন একটি সাধারন ডায়েরীও করেছেন। এর একদিন পরেও আপন ভাইয়ের ঘরের খাটের নিচ থেকে সন্তানের লাশ উদ্ধার হয়েছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, মান্না সুমন ও শিশুর বাবা সুজনের ঘর পাশাপাশি। শিশুর চাচা কারাগারে থাকায় তার মাদক ব্যবসা বর্তমানে চাচী আলমতাজ বেগম পরিচালনা করতো। কিন্তু কি কারনে শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, খুজে পাচ্ছে না কেউ।
কাউনিয়া থানার ওসি মো. নূরুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া শিশুর শরীরে বিভিন্ন স্থানে জখম ও ক্ষত চিহ্ন সহ হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ভাবে এটিকে একটি হত্যাকান্ড বলেই ধরে নেয়া হয়েছে। আর এই হত্যাকান্ডের একমাত্র ঘাতক হিসেবে তার চাচী আলমতাজ বেগমকে দায়ী করা হচ্ছে। ওসি বলেন, শিশুটিকে হত্যার দুটি কারন থাকতে পারে। একটি হলো অসাবধানতা বসত শিশুটি আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মারা গেছে। তাই দায় এড়াতে লাশ গুমের চেষ্টায় খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হতে পারে। এর বাইরে অপর কারন হিসেবে অন্যকিছুও থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে সেই কারন জানাননি ওসি। তিনি বলেন, তদন্তে ঘটনার আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।
ওসি বলেন, শিশু হত্যার ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে মামরা দায়ের করবেন। ইতিমধ্যে মামলা সংক্রান্ত সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাতের মধ্যেই মামলাটি রুজু করা হবে বলে জানান তিনি।