চাইনিজ রেস্তোরায় আপত্তিকর কর্মকান্ড অব্যাহত

রুবেল খান॥ নগরীর চাইনিজ রেস্তোরায় এখনো থামছে না স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর অবস্থান। রেস্তোরার অন্ধকার কক্ষে চার পাশে বেড়ার মধ্যে কর্তৃপক্ষের কড়া নিরাপত্তায় এখনো চলছে অশ্লীল কর্মকান্ড। বিষয়টি অনৈতিক হলেও ব্যবসা করতে হলে এমন একটু না করলে হয় না বলে মন্তব্য করেছেন রেস্তোরা কর্তৃপক্ষ।
সূত্রমতে, নগরীর প্রান কেন্দ্র সদর রোড সহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠছে একের পর এক চাইনিজ রেস্তোরা। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে চাইনিজ রেস্তোরা লেখা হলেও ভেতরে চলছে অনৈতিক কর্মকান্ড। বাবা মাকে ফাঁকি দিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা এসব রেস্তোরায় গিয়ে অনৈতিক সম্পর্কেও লিপ্ত হয়। এসব রেস্তোরায় কিছু না খেলেও সমস্যা নেই। আবাসিক হোটেলের মতো টাকা দিয়ে অবস্থান করা যায়।
এ নিয়ে গত দু দিন পূর্বে দৈনিক আজকের পরিবর্তন পত্রিকায় নগরীর সদর রোডের পুলিশ বক্স সংলগ্ন সুইট হার্ট মিনি চাইনিজ রেস্তোরা এবং পার্শ্ববর্তী পূর্ব বগুরা রোডের মুখে ইয়ন থাই চাইনিজ রেস্তোরা সহ এমন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর পরই বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নগরীর হাতেম আলী কলেজ সংলগ্ন একটি রেস্তোরায় অভিযান চালায়। এসময় তারা রেস্তোরাটির ভেতরে টেবিলের চার পাশে দেয়া কাঠের বেড়া ছুটিয়ে পুড়ে ফেলেন। কিন্তু এর পরেও থামেনি অন্যান্য চাইনিজ রেস্তোরায় ছাত্র-ছাত্রীদের বেহায়াপনা। মালিকপক্ষও যেন এসব বিষয়ে কোন কর্নপাত করছে না।
গতকাল বুধবার পূনরায় নগরীর সদর রোড পুলিশ বক্সের সামনে সুইট হার্ট মিনি চাইনিজে গেলে দেখা যায় পূর্বের মত একই চিত্র। রেস্তোরায় প্রবেশ পথে ম্যানেজার বসে গান শুনছেন। আর তার পাশেই চার পাশে বেড়া দেয়া টেবিল চেয়ারে চলছে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রকাশ্যে বেহায়াপনা। কিন্তু বাধা দিচ্ছেন না রেস্তোরা কর্তৃপক্ষ। উল্টো সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে রেস্তোরার ম্যানেজার পরিচয়দানকারী আরিফ বলেন, আমাদের এখানে যা হচ্ছে তা কিছুই নয়, এর থেকে বেশি বেশি হচ্ছে অন্যান্য চাইনিজ রেস্তোরায়। সেখানে যদি এমন কার্মকান্ড চলতে পারে, আমরা করলে দোষ কি। আর ছেলে মেয়েরা নিজ ইচ্ছায় করলে আমাদের বাধা দেয়ার কিছু নেই। তাছাড়া এ বিষয়ে বাধা প্রদানে সুইট হার্ট মিনি চাইনিজ এর মালিক ওয়াখিল ঘোষের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কারন নগরীতে যেভাবে চাইনজ রেস্তোরা গড়ে উঠেছে তাতে এরকম করার সুযোগ না দিলে কেউ আমাদের এখানে আসবে না। তাই কাউকে বাধাও দিচ্ছে না।
সুইট হার্ট চাইনিজের পাশেই বগুরা রোডের মুখে কাটপট্টির স্বর্ণ ব্যবসায়ী রিপন কর্মকারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইয়ান থাই চাইনিজ রেস্তোরা। এখানটাতে গেলে দেখা যায় আরো নগ্নতা। রেস্তোরাতে ৫টি টেবিল রয়েছে। যার প্রতিটিই চার পাশে কাঠের বেড়া দেয়া। ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায় অন্ধকার কক্ষের পাঁচটি টেবিলেই স্কুল কলেজে পড়–য়া শিক্ষার্থীরা প্রেমের নেশায় মগ্ন হয়ে আছে। প্রতিটি টেবিলে জোড়ায় জোড়ায় বসে করছে প্রকাশ্য যৌন মেলা মেশা। তাদের সুযোগ করে দিতে রেস্তরার বয় এবং ম্যানেজার পাশের রুমে অবস্থান করছে। রেস্তরায় আসছে আর কে দেখে যাচ্ছে সেই হুশ পাচ্ছেনা অবৈধ মেলা মেশায় লিপ্ত থাকা প্রেমিক যুগল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়ন থাই চাইনিচ রেস্তোরার ম্যানেজার হেমায়েত উদ্দিনের চোখের সামনে অনৈতিক মেলা মেশা চলতে থাকলেও তিনি বলেন আমাদের এখানে এমন কোন কর্মকান্ড হয় না। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক তাকে প্রেমিক যুগলের আপত্তিকর চিত্র দেখিয়ে দিলে তিনি আর কোন জবাব দিতে পারেননি। তবে এক পর্যায় হেমায়েত উদ্দিন নামের এই ম্যানেজার বলেন, আমি পূর্বে ঢাকায় চাকুরী করেছি। কিন্তু বরিশালে চাইনিজ রেস্তরা গুলোতে যে নষ্টামি হচ্ছে তা কোথাও দেখিনি। মালিক পক্ষ এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ বা দিক নির্দেশনা না দেয়ায় আমরাও স্কুল কলেজ পড়–য়া প্রেমিক যুগলদের অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করছি। আর এজন্য মালিক পক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকা প্রেমিক যুগলদের কাছ থেকে ওয়েটিং চার্জ রাখছি। তবে রেস্তোরার আড়ালো এসব অনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ হওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে চাইনিজ রেস্তোরা গুলোতে এমন নগ্ন কর্মকান্ডের ফলে উদ্বিগ্ন এবং চিন্তিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবক মহল। তারা এই বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সেই সাথে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান গুলোর মালিক পক্ষকে শাস্তির দাবীও জানান তারা।