চাঁদমারী বিদ্যুত অফিসে যুবলীগের হামলা ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) চাঁদমারী বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-১ এ হামলা ভাংচুর চালিয়েছে যুবলীগের সন্ত্রাসীরা। গতকাল শনিবার বেলা ১২টার দিকে এ হামলার ঘটনায় হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা সহ তিনজন আহত হয়েছে। এছাড়া হামলা চালিয়ে বাৎসরিক বরাদ্দের ফাইল ছিনতাই করেছে সন্ত্রাসী বাহীনি। হামলা ও মালামাল ভাংচুরের ঘটনায় যুবলীগের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-১ এর কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং হামলায় আহত চাঁদমারী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-১ এর সহকারী হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়নে বিভিন্ন খাতে বাৎসরিক অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বরাদ্দের তালিকা বরিশাল কার্যালয়ে এসে পৌচেছে।
বিষয়টি জানতে পেরে আলেকান্দা ব্যাপ্টিষ্ট মিশন রোড এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন এর ছেলে যুবলীগ নেতা দাবীদার টেন্ডার সন্ত্রাসী জাকির হোসেন তার লোকজন নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বাজেটের বরাদ্দের কপি চায়। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বরাদ্দের তালিকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক। এ নিয়ে টেন্ডারবাজ সন্ত্রাসী জাকির বাহিনীর সাথে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় জাকির ও তার বাহীনির সদস্যদের কোমড়ে লুকিয়ে রাখা হাতুড়ি দিয়ে অফিস কক্ষের চেয়ার টেবিল ও গ্লাস ভাংচুর করে। এসময় অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরা ছুটে গিয়ে বাধা দিলে তাদেরকেও হাতুড়ি পেটা করে যুবলীগ ক্যাডার জাকির ও তার লোকজন। এতে হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, ষ্টোর কিপার মাহাবুব আলম ও মিটারিডার আব্দুর রশিদ আহত হয়।
এদিকে খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ওজোপাডিকোর চাঁদমারী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রে যায়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আগে ভাগেই বিদ্যুৎ অফিস থেকে পালিয়ে যায় যুবলীগ ক্যাডার জাকির ও তার লোকজন।
এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস ছালেক খান এর সাথে আলাপকালে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় আমি বাহিরে কাজে ছিলাম। পরে খবর পেয়ে অফিসে ফিরে সব শুনতে পেরেছে। তিনি বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপরে হমলা এবং মালামাল ভাংচুরের ঘটনায় শনিবার বিকেলে জাকির এবং তার সহযোগিদের বিরদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
এদিকে হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, ব্যাপ্টিষ্ট মিশন রোড এলাকার বাসিন্দা বিদ্যুৎ বিভাগের ঠিকাদার যুবলীগ নেতা পলাশ এর ব্যবসায়ীক পার্টনার ছিলো জাকির। পলাশের লাইসেন্স দিয়েই জাকির টেন্ডারবাজী করতো। সম্প্রতি গুছের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তাদের দু’জনার মধ্যে সম্পর্কের ফাটল সৃষ্টি হয়। এর পরে টেন্ডারবাজ জাকির ওজোপাডিকোর চাঁদমারী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় দখলের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে কোন কাজ হলে তাকে না জিজ্ঞাসা করে কাউকে কাজ না দেয়া এবং কাজের বিষয়ে পলাশের সাথে যোগাযোগ না করার নির্দেশ করেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের। এরই ধারাবাহীকতায় গতকাল শনিবার জাকির বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বরাদ্দের কাজ ছিনিয়ে আনে।